সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইতালির ভূমিকম্প কবলিত শহরগুলো যেন মৃতপ্রায়

italy-550x289আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির পার্বত্যঞ্চল আর্মাত্রিসার রাস্তায় গ্রীষ্মের সোনালি সূর্য আলো ছড়াচ্ছে। কিন্তু ছুটির দিনেও ইতালিয়ান নাগরিকদের হাঁটঁতে দেখা যায় নি রাস্তায়। ওই শহরের জনপ্রিয় খাদ্য পাস্তার লোভে জিভে জল আসে নি কারো। কারণ আর্মাত্রিসা এখন পরিণত হয়েছে সমাধির শহরে।

এর পরিবর্তে ওই শহরে বিচলিত, বিভ্রান্ত এবং আলুথালু অবস্থায় হাঁটঁতে দেখা গিয়েছে নাগরিকদের। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৮১ টি লাশ গুনতে হয়েছে ইতালিকে। এক মূহুর্ত আগের সুন্দর শহরটি বুধবার ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে পরিণত হয় কফিনের শহরে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ক্ষতির পরিমাণই অগণিত।

স্বেচ্ছাসেবক আর্তুরু ফিলিপি বলেন, ‘ইতালির এই শহরটি এখন জাদুঘর। সারা বিশ্বের মানুষ দেখছে কিভাবে ভূমিকম্পে পুরো শহরটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ স্থানীয় স্কুলে কর্মরত ডি টোমাসে (৫৮) অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ‘ভবিষ্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, এটি শেষ, এর আর কোন অস্তিত্ব নেই। আমার ছেলের এখানে দুইটি ব্যবসা ছিল, কিছুই নেই। আমরা এখন কি করব? কিছুই জানি না। ভূমিকম্পের দিন নির্মাতা রবার্তো প্যাকানজো একটি বিশাল শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে পড়েন। মুহুর্তের মাঝে তার বাড়ি পরিণত হয় একটি প্যানকেকে। তিনি বলেন, ‘সবকিছু কাঁপতে থাকে। আমি আমার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে মনে করেছি এটি আমাদের শেষ আলিঙ্গন।’ তাদের ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এইভাবে জীবিত থাকা কখনোই সৌভাগ্য হতে পারে না।

সারা শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসের রাজ্যে। চারদিকে কান্না, আহাজারি, চিৎকার। চলছে খননকার্য। ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য বের হয়ে আসে ক্ষীণ অথচ বুক ফাটানো আর্তচিৎকার। একটি সংকীর্ণ রাস্তা ব্যস্ত জরুরি সেবার কাজে। অধিকাংশ রাস্তা, ব্রিজ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। আর্মাত্রিসার চার্চের পাদ্রী যেন ছদ্মবেশ ধরে বসে আছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ হাজার ৬০০ জনই কর্মজীবি। কিন্তু পরিস্থিতি তাদের প্রতিকূলে। কর্মস্থলে ব্যস্ত সময় কাটানোর পরিবর্তে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন ক্রমশ শেষ হওয়ার। কারণ বেঁচে থাকলেও তাদের বেঁচে থাকার আশাটুকু শেষ হয়ে গিয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হয়ে অনেকেই দেখেছেন তাদের প্রিয় বাসস্থানের ধ্বংসাবশেষ। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন। অনেকে প্রিয়জনদের জীবিত দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্বস্তি¡র নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এদের মধ্যে অনেকে নিরাপত্তার জন্য পাশ্ববর্তী শহর রোমে তাদের বন্ধ্ওু পরিবারের কাছে গিয়েছেন। আনা মারিয়া (৫২) বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান। ভূমিকম্প অনেক তীব্র ছিল কিন্তু আমরা অক্ষত আছি। তিনি তার মা, বাবা, ছেলে এবং মেয়ে সহ একটি ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।’ ভূমিকম্পের পর তাদেরকে ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

আনা বলেন, ‘এই শহরের সবগুলো ভবন অনেক পুরোনো এবং নদী থেকে উত্তেলনকৃত পাথর থেকে নির্মিত। বাড়িঘরের অবস্থা ভাল নয়। এগুলো নির্মাণের সময় গ্রহণ করা হয়নি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা। এটি সকলের জন্যই দুঃখের। কয়েদিন আগে এই শহরে সবকিছু ছিল। কিন্তু সব মৃত। বন্ধু, আত্মীয়স্বজন কেউ নেই। নেই বসবাসের উপযুক্ত স্থান।-সূত্র: সিএনএন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: