সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আশ্রয়ের খোঁজে কর্মজীবী নারীরা

031645Garment_Kormi_kalerkantho_pic-550x367নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর নীলক্ষেতে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে একটি সিট পাওয়ার আশায় ২৬ আগস্ট শুক্রবার সকালে আসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মেয়ে সাদিয়া সুলতানা। কাজ করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তবে হোস্টেলের কর্মচারী জগদীশ তাঁকে জানিয়ে দেন সিটের জন্য আবেদন করতে হবে প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। ফলে ব্যর্থ হয়ে তিনি ফিরে যান। ঘণ্টাখানেক সেখানে অবস্থান করে দেখা মিলল সিটপ্রত্যাশী আরো ৮-১০ জন কর্মজীবী নারীর। তাঁদের মধ্যে রিতু নামের একজন জানান, এত দিন চাচাতো বোনের বাড়িতে ছিলেন। এখন তাঁর নিজস্ব একটি আশ্রয় দরকার। এভাবেই ঢাকায় তিনটি সরকারি ও ডজনখানেক বেসরকারি মহিলা হোস্টেলে সিটের জন্য সারা মাস খোঁজখবর নেন শত শত ছাত্রী ও কর্মজীবী নারী। তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা দু-চারজন হয়তো সিট পান। আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হোস্টেল কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স করেছে। হাজার হাজার নারী এখন রাজধানীতে কাজ করছেন, পড়ালেখা করছেন, অথচ তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই খুবই সীমিত। সাবলেট বা বেসরকারি মেসে যাঁরা থাকছেন তাঁদেরও পোহাতে হয় হাজারো ঝক্কি।

জানতে চাইলে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) শামীমা আকতার বানু বলেন, ঢাকায় আরো কয়েকটি মহিলা হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা তাঁদের আছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রাথমিক অনুমোদনও পেয়েছে। তবে অর্থ বরাদ্দ না মেলায় কাজ শুরু করা যায়নি। কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে তাও তাঁর জানা নেই।

রাজধানীতে কাজ বা উচ্চশিক্ষার জন্য আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও নারীদের বসবাসের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনব্যবস্থা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সরকারিভাবে রাজধানীর নীলক্ষেতে পাঁচ বিঘা জমির ওপর মাত্র দুটি ভবন আছে। এখানে বসবাসের সুযোগ আছে মাত্র ৫০৩ জনের। এ ছাড়া মিরপুর ও খিলগাঁওয়ে যে দুটি সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল আছে তাতে আরো মাত্র শ চারেক থাকতে পারেন। নীলক্ষেতের এত বড় একটি জমিতে গত ৩৫ বছরেও নতুন কোনো ভবন গড়ে ওঠেনি। আর মিরপুর ও খিলগাঁওয়ে তো নতুন ভবন করার তেমন কোনো পরিকল্পনাই নেই।

নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের কর্মচারী খলিলুর রহমান জানান, এখানে যে পাঁচ বিঘা জমি আছে তাতে আরো একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের প্ল্যান পাস হয়েছে বছরখানেক আগে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামীমা আক্তার জানান, প্ল্যান পাস হয়েছে ঠিকই, তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা বলতে পারবেন মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। পরে মহাপরিচালক শাহিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

১৯৯০ সালের পর ঢাকায় নতুন কোনো মহিলা হোস্টেল সরকার নির্মাণ করেনি। দেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এর নেপথ্যে অনেক বড় অবদান রয়েছে নারীদের। অথচ রাজধানীতে পড়তে বা চাকরি করতে আসা মেয়েদের নিরাপদ আবাসনব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি। এ সমস্যা লাঘবে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে কিছু ছাত্রী ও কর্মজীবী হোস্টেল; যদিও এর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। সম্প্রতি নারী জঙ্গির সন্ধান মেলার পর হোস্টেলে সিট পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় সরকারি মহিলা হোস্টেলগুলো পরিচালনা করে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। মহিলাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য ঢাকার নীলক্ষেত, মিরপুর, খিলগাঁওয়ে তিনটি এবং স্ব-অর্থায়নে খুলনা, যশোর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে একটি করে মোট সাতটি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চালু করা হয়। নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের সিট সংখ্যা ৫০৩। মিরপুরের নওয়াব ফয়জুন্নেসা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে আছে ১৬০টি সিট। খিলগাঁও বেগম রোকেয়া কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে ২১০টি সিটের মধ্যে ২০০টি সাধারণের এবং ১০টি অতিথিদের জন্য।

সমস্যার অন্ত নেই বেসরকারি হোস্টেলগুলোতে : পোস্টার, বিজ্ঞাপনে কর্মজীবী নারী হোস্টেলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নেই। এসব হোস্টেলের মালিকরা দু-তিনজন থাকতে পারে এমন রুম পাঁচ-ছয়জনকে ভাড়া দেন। একটি ঘরকে হার্ডবোর্ড দিয়ে একাধিক কামরায় বিভক্ত করা হয়। চার-পাঁচটা কক্ষের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি টয়লেট। ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। অনেক সময় লাইনে পানি পর্যন্ত থাকে না। প্রতিবাদ করতে গেলে হোস্টেল ছাড়ার নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর যখন তখন ভাড়া বাড়ানো তো নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না।

সাবলেট থাকার বিড়ম্বনা : সরকারি-বেসরকারি হোস্টেলে জায়গা না পেয়ে অনেক কর্মজীবী নারী বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাবলেটে থাকেন। একা একজন মেয়েকে কেউই বাসাভাড়া দিতে চান না। তাই বাধ্য হয়েই তাঁদের খুঁজতে হয় সাবলেট। কর্মজীবী নারীরা সাবলেট থাকেন তাঁদের পরিচিত পরিবারে। এর জন্য গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। তার পরও তাঁরা রান্নাবান্না, সময় মতো গোসলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে উটকো বিড়ম্বনা তো আছেই। এমন সব সমস্যা আর প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবী নারীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কালের কন্ঠ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: