সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গি হামলার নতুন ছক

cover-1-5-800x439-4-550x302নিউজ ডেস্ক : নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখা নিয়ে চিন্তিত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করা ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এ নিয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। জেএমবির তৎপরতার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংস্থাটি। গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা ও কল্যাণপুরে পুলিশের গুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার পর জেএমবির কিছু সদস্য চোরাপথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে গেছে বলে তথ্য আসছে। এ নিয়ে সতর্ক এনআইএ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে ওপার বাংলায় পালানো জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা নতুন করে জঙ্গি হামলার ঘোঁট পাকাচ্ছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি হামলার ছক কষছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

২০১৪ সালে ২৩ ফেব্র“য়ারি ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ত্রিশালে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা সালেহ উদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তারা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালায়। ওই বছরের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামনে চলে আসে বাংলাদেশের জেএমবি। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে যে জেএমবির ঘাঁটি রয়েছে এই বিষয়টিও ভারত সরকারের পুরোপুরি গোচরে আসে। শুরু হয় তদন্ত। তদন্তকালে এনআইএ দল কয়েক দফা ঢাকাও সফর করে। বর্ধমান বিস্ফোরণ ঘটনার প্রায় ছয় মাসের মাথায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। এর মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ৮ জন পলাতক। এর মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি হলেন তালহা শেখ, কাওসার ও নাসিরউল্লাহ ওরফে শাহাদত শেখ ওরফে সোহেল ওরফে হাতকাটা সোহেল। চার্জশিটভুক্ত অপর বাংলাদেশি শেখ রহমতুল্লাহ ওরফে সাজিদ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পরবর্তীকালে বর্ধমান বিস্ফোরণকা-ে জড়িত চার্জশিটভুক্ত পলাতক ৮ আসামিকে ধরতে নয়াদিল্লি ঢাকার সহযোগিতা চেয়ে ৮ জনের বিস্তারিত বিবরণসহ চিঠি পাঠায়। এনআইএ তখন সন্দেহ প্রকাশ করে গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক ৮ জনই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ওই ৮ জঙ্গির খোঁজে গত বছরও এনআইএর একটি দল ঢাকা সফর করে। তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে। তবে বাংলাদেশ ওই ৮ জনের খোঁজ দিতে পারেনি। গুলশানে জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভারতের এনআইএ আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে। তাদের লক্ষ্য ভারতে জেএমবির জঙ্গি হামলা ঠেকানো। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করছে আর যেন কোনো জঙ্গি হামলা না ঘটে। এ লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিবাদ নিয়ে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান বাড়িয়ে দিয়েছে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের পুলিশ ও র‌্যাবের তাড়া খেয়ে জেএমবির কিছু নেতা ও সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে ওপার বাংলায় পালানোর পর সেখানে বসে নানা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমবঙ্গ শাখার অন্যতম দায়িত্বশীল সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, বোমা মিজান ও সালেহউদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সেখানে বসে বাংলাদেশে বড় ধরনের হামলা চালানো। ঢাকায় ইতোমধ্যে জেএমবির বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাংগঠনিক তৎপরতা সম্পর্কে।
ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সন্দেহ ভারতে পলাতক বোমা মিজান সেখানে জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সদস্যদের গোপনে বোমা ও হাতে তৈরি গ্রেনেড বানানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। যে কারণে তাকেসহ অন্তত ২ ডজন জেএমবি নেতা ও সদস্যকে ধরতে মরিয়া এনআইএ। এ জন্য দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে সংস্থাটি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম বিভাগের ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেছেন, জেএমবি সদস্যদের তৎপরতার ওপর তাদের নজর রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতকদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। চলছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান।
সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়া জেলা নিয়ে জোট সরকারের আমলে গঠিত হয় জেএমবির বৈদেশিক শাখা। ওই ৩ জেলায় জেএমবির শতাধিক এহসার সদস্য আছে। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে জেএমবির পলাতক শূরা সদস্য সোহেল মাহফুজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে এসে গোপনে জেএমবির সভা করে এই সোহেল মাহফুজ। জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সদস্যরা ভারতীয় জালনোট ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

২০১০ সালে জেএমবির আমির সাইদুর রহমান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার বিষয়ে মুখ খোলেন। এর আগে ২০০৬ সালে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আবদুর রহমান তার জবানবন্দিতে জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ শাখার কথা বলেছিলেন। তিনি ওই শাখাকে জেএমবির ৬৫তম শাখা হিসেবেও তুলে ধরেন। ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলায় ব্যবহƒত বিস্ফোরকের চালান ভারত থেকে এই শাখার সদস্যরাই সরবরাহ করেছিল বলে শায়খ আবদুর রহমান গ্রেপ্তারের পর তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদেরেে ত্র পশ্চিমবঙ্গ শাখার অনেক গুরুত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন সাইদুর রহমান।- দৈনিক আমাদের সময়

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: