সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সেলফি’ আসক্তি : চার বছরে ১৩৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

132920Death_by_dumb_selfies_is_a_new_epidemic-550x380নিউজ ডেস্ক: ২০১৫ সালের ১২ মে। রুমানিয়ার ১৮ বছর বয়সী তরুণী আন্না উরসুর সখ হলো চলন্ত ট্রেনের ছাদে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করবে। তরুণী বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে আন্না গেল শহরের লাসি স্টেশনে। ট্রেনের ছাদে উঠে এক পা শূন্যে ঝুলিয়ে সেলফি তোলার মুহূর্তে চলন্ত ট্রেনের পাশে ২৭ হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক তারে পা স্পর্শ করা মাত্র বিস্ফোরণে সারা শরীরে আগুন ধরে গেল আন্নার। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হলো। চিকিৎসকরা জানালেন, আগুনে আন্নার শরীরের ৫০ ভাগই পুড়ে গেছে।

এভাবেই বিপজ্জনক সেলফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে বিশ্বের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা। এই আসক্তিই বিপদ ডেকে আনছে। দেখা গেছে, চলন্ত যানবাহন, নৌযান, ভবনের ছাদে কিংবা রেলিং না হয় বন্য জন্তু, নদী, সমুদ্র, পাহাড়ের উঁচু স্থান, অস্ত্র তাক করে ও চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলছে মোবাইল ব্যবহারকারীরা। ফলে বিপত্তি ঘটছে অহরহ।
উইকিপিডিয়ার সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৪ বছরে (২০১৩-২০১৬) সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন। এদের মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছে টিনএজ ও তরুণ-তরুণী। কিন্তু প্রাণহানির এ ব্যাপকতায় সেলফিতে আসক্তি কমেনি স্মার্ট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘জ্যাকহ্যারি ক্রোকেট’র এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে সেলফি তোলার ঘটনায় এপর্যন্ত সারা বিশ্বে মারা গেছে ৪৯ জন। নিহতদের শতকরা ৭৫ ভাগই বয়সে তরুণ। এদের সবার বয়স ১৪ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে তরুণ-তরুণী ছাড়াও মহিলারাও রয়েছেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সেলফি তুলতে গিয়ে কেবল ভারতেই মারা গেছে ১৯ জন। রাশিয়ায় ৭ জন, আমেরিকায় ৫, স্পেনে ৪, ফিলিপাইনে ৪, পর্তুগালে ২, ইন্দোনেশিয়ায় ২, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, রোমানিয়া, মেক্সিকো, ইতালি এবং চীনে মারা গেছে একজন করে।

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট মদ্যপ অবস্থায় বন্দুক তাক করে সেলফি তোলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ২১ বছর বয়স্ক মেক্সিকোর তরুণ অস্কার অটিরো আগুলার।

২০১৫ সালে আমেরিকার সান দিয়াগো শহরে পোষা র‌্যাটল সাপের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে কামড়ের শিকার হন টড ফাসলার নামের এক বাসিন্দা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসার পেছনে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করতে হয়।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে ভারতের নাগপুরে নৌকায় সেলফি তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান ৭ তরুণ। ওই বছরই মধ্য প্রদেশের নর্মাদা ক্যানেলে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যায় আরও ৪ তরুণ। চলতি বছর উত্তরপ্রদেশে সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে মারা যায় আরও দুই স্কুলছাত্র।

এসব দুঃখজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার সেদেশের ১৬টি স্থানকে ‘নো-সেলফি জোন’ ঘোষণা করে।
এটা কেবল ভারতেই নয়, অস্বাভাবিক সেলফি মৃত্যু রোধে রাশিয়ায়ও ‘নো সেলফি জোনের’ প্রচার চালানো হয়। সেলফি তোলাকে হাঙ্গর আক্রমণের চেয়েও বিপজ্জনক বলা হচ্ছে। কারণ হাঙ্গরের আক্রমণে প্রতিবছর বিশ্বে ৫ জন মারা যায়। অন্যদিকে, সেলফি তোলার কারণে বছরে মৃত্যু ঘটে ১২ জনের।
উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১৪ সালে ১৬ জন, ২০১৫ সালে ৪৯ জন এবং ২০১৬ সালে ৬৮ জন সেলফি তুলতে গিয়ে মারা গেছে।

যুক্তরাজ্যের লিনিয়া স্কিন ক্লিনিকের মেডিকেল পরিচালক শিমন জোয়াকি বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সেলফি তোলার প্রবণতা দেহের চামড়াকে নষ্ট করে দিতে পারে।’ তিনি বলেছেন, ‘স্মার্ট ফোন থেকে বিচ্ছুরিত আলো ও রেডিয়েশন চামড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়াও চামড়ায় ভাঁজ ফেলতে পারে।’ ডা. ডেভিড ভেল বলেছেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত সেলফি মানসিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে।’
সেলফি তোলার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার নজিরও রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার জহুর বারুর একটি হাসপাতালে একজন পুরুষ গাইনি ডাক্তার একজন প্রসূতির ডেলিভারির সেলফি তুলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরে ঘটনাটির তদন্তে নামে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: