সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দিল্লিতে থামেনি ধর্ষণ, বেড়েছে তিনগুণ

175599_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর কথা এখনো অনেকে ভোলেননি। চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় নির্ভয়ার (ছদ্মনাম)। এরপর ধর্ষণের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে ভারত। শুধু ভারত কেন গোটা বিশ্বেরই সাড়া ফেলে নির্ভয়ার ঘটনা। এরপর তাকে ধর্ষণকারী পাঁচজনের বিচারও হয়। কিন্তু এ ঘটনার পর কী ভারতে ধর্ষণের মতো ঘটনা বন্ধ হয়ে গেছে। মোটেও না। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এ ঘটনা ঘটছে। এরপর এক ফটো সাংবাদিক, এক নান গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারতের অপরাধ বিশেষ করে ধর্ষণের মতো অপরাধের সংখ্যা কমেনি। বরং বেড়েছে। নির্ভয়ার ঘটনার পরই পুলিশ এ ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান শুরু করে। নির্ভয়ার ঘটনা পুরো দুনিয়াকে নাড়া দিলেও দিল্লির পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি। যার প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। এতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লিতে গত কয়েক বছরে ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়ে গিয়েছে প্রায় তিন গুণ।

ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিপিআরডি) পরিসংখ্যানটি সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ধর্ষণই নয়, সার্বিকভাবে নারীদের ওপরে যেকোনো ধরনের অপরাধের সংখ্যাই আগের থেকে অনেক বেড়েছে দিল্লিতে। ২০১২ সালে ৭০৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৫ সালে যা বেড়ে দাড়ায় ২১৯৯টিতে। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিন গুণ বেড়েছে ধর্ষণের মতো অপরাধ।

ওই পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সালে নথিভুক্ত শ্লীলতাহানির সংখ্যা ছিল ৭২৭। ২০১৫ সালে যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫,৩৬৭-তে। কিন্তু, এই পরিসংখ্যানের বাইরেও অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। যা পুলিশের নথিভুক্তই হয়নি।
বিপিআরডি-র মতে, নানা কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েও নারীরা অভিযোগ জানাতে চায় না। অনেকে আবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করার আগে দুবার চিন্তা করে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ৮৪ জন নারী অভিযোগ করেও তা পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আবার ২০১৫ সালে ১০৪ অভিযোগ করেও তারা অভিযোগ তুলে নেয়। ফলে, এক দিকে অভিযোগ নথিভুক্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কোনও তদন্ত করতে পারছে না পুলিশ। আর কোনও রকম অভিযোগ না হওয়ায় অপরাধীলা একই কাজ আবারো করার সাহস পাচ্ছে। অপরাধের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে এটাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই অনেকেরই। তারপরেও যারা অভিযোগ করতে পুলিশের কাছে আসছেন তদন্তের সময় তাদের অনেককেই হেনস্থা হতে হয়।

যেমন, ধর্ষণের ঘটনার পর পরই থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে অনেক সময়েই মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। কাউন্সেলিংয়েরও ব্যবস্থাও নেই বেশির ভাগ থানায়। এর সঙ্গে রয়েছে পুলিশের দুর্ব্যবহার। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। ঘটনার বিবরণ নথিভুক্ত করার নামে বিভিন্ন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হয়। ফলে অনেকে পুলিশ এড়িয়ে যান।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পুলিশের উচিত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে দাড়ানো। শুধু তাই নয়, অপরাধ আরো কঠোর হস্তে দমনে এগিয়ে আসা উচিত। বাস্তবে ঘটছে এর উল্টো।

বিপিআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্ভয়া ঘটনার পর বর্মা কমিশন প্রতি থানায় নারী পুলিশ বাড়ানোর সুপারিশ করে। নারী নির্যাতনের যেকোনো ঘটনায় তাদেরই হস্তক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।

কমিশনের মতে, নারী পুলিশের কাছে নির্যাতনের শিকার অনেকে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। এতে তদন্তেরই সুবিধা হবে। কমিশনের নির্দেশ মেনে এরপরেই ৩৩ শতাংশ নন-গেজেটেড (কনস্টেবল থেকে সাব-ইনস্পেক্টর) পদে নারী পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে থানায় থানায়। কিন্তু, নারী পুলিশের সংখ্যা অপরাধের সংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট কম। পাশাপাশি এসব পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায়, পুলিশ কর্মীদের সে বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে অপরাধের মোকাবিলা করতে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ পুলিশ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: