সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রেণীকক্ষ সংকট নিয়েই সিলেট সরকারি কলেজে চালু হচ্ছে অনার্স কোর্স

hhhhjjjjjsssবিশেষ প্রতিবেদক ::
আগামীকাল রোববার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘সিলেট সরকারি কলেজ’-এ অনার্স চালুসহ অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা দেবার কথা রয়েছে। এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন কলেজ সংশ্লিষ্টরা।

১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা ‘মুরারী চাঁদ উচ্চমাধ্যমিক মহাবিদ্যালয়’ এর নাম পরিবর্তন করে ১৯৮৮ সালে শিক্ষামন্ত্রনালয় নাম দেয় ‘সিলেট সরকারি কলেজ’। উন্নয়নের চিত্রে নামের এই পরিবর্তনই কলেজের ইতিহাসে বড় কাজ। জন্মলগ্ন থেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হয়নি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এই কলেজে বর্তমানে নেই উপাধ্যক্ষ পদ। রয়েছে শ্রেণীকক্ষ সংকট, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট। তারপরেও কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আশায় বুক বাঁধছেন শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিকতায় ও তত্বাবধানে এসবের সমাধান হবে খুব শিগগিরই

২০১০ সালের ১৮ ফেব্র্রুয়ারী এই কলেজের ইতিহাসে ঘটে বিয়োগান্তক ঘটনা। পুরো ক্যাম্পাসে তখন ছিলো পড়ালেখার পরিবেশ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ভাংচুর ও পুড়িয়ে দেয় ছাত্রাবাসটি। ছয় বছর ধরে একমাত্র ছাত্রাবাসটি দগ্ধ হয়ে পড়ে থাকলেও কেউ সংস্কারে এগিয়ে আসছেন না। ফলে সংস্কারহীন এই ছাত্রাবাসে তথা ক্যাম্পাসজুড়ে নিরবতাই বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকা ছাত্রাবাস দেখে বুঝার উপায় নেই এটি ছাত্রাবাস না জঙ্গলবাড়ি। লতাপাতা ঘিরে ধরেছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার এই নিবাসটিকে। দেয়াল খসে পড়েছে, ভেঙ্গে গেছে দরজা-জানালাগুলো। ৫২টি কক্ষ বিশিষ্ট এই ছাত্রাবাসে তিন‘শ শিক্ষার্থী থাকতেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন অতীতে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে অনেকবার চিঠি দিয়ে সংস্কারের জন্য অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন এই কলেজে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের অনেকেই গ্রাম থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ক্লাস করছেন। দুটি বাস থাকলেও সময়মত পাওয়া যায়না। আবার বর্তমানে একটি বাস নষ্ট হওয়াতে অলস পড়ে আছে বলে জানা গেছে। এদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হওয়াতে মেস ভাড়াও পাচ্ছেন না অনেকেই। আবার অনেকের শংকা পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে, তাই মেসেও নিরাপদ মনে করছেন না।

জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন জেলার বেশির ভাগ গরিব অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে থাকেন। কিন্তু যারা ভর্তি হয়েছেন কলেজের নানান সমস্যার কারনে উন্নত শিক্ষা পাচ্ছেন না। অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন ভবন নির্মান বিশেষ করে ছাত্রাবাস নির্মান করার হলে অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে।

অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২১ টি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং বিএ, বিএসএস ও বিবিএস বিভাগ মিলে এই শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী আতাউর রহমান জানান, এই কলেজটি অনেক প্রচীন হলেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমরা মন্ত্রনালয়ে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। আশা করছি শিক্ষামন্ত্রী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

অনার্স কোর্স চালু বিষয়ে তিনি জানান, প্রথমত পাঁচটি বিষয়ে অনার্স চালু করার জন্য আমরা দাবী জানিয়েছি। সেগুলো হল, ইংরেজী, বাংলা, অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোল।

তিনি আরো জানান, এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মানবিক, বিজ্ঞান ও কমার্স বিভাগ থাকায় অনার্সে এই পাঁচটি বিষয়ে চালু করলে এই অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সিলেটের দু একটি কলেজ ছাড়া কমার্স সংশ্লিষ্ট বিষয় অন্যান্য কলেজে নেই।

অধ্যক্ষ বলেন, সিলেটের সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, সবার সহযোহিতা প্রয়োজন। একই কথা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর প্রেগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক নাছিমা হক। তিনি জানান, এই কলেজে উপাধ্যক্ষ পদ ছাড়াও অনেক শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী কলেজ পরিদর্শন করবেন, সব কিছু দেখবেন, জানবেন। আমরা আশা করছি তিনি শিক্ষক ও সুশীল সমাজের এসব দাবীর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। প্রায় ৫২ বছরে পা রাখা এই প্রচীন প্রতিষ্ঠান তার লক্ষপানে এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা অন্যান্য শিক্ষক ও হাজার হাজার শিক্ষার্থীর।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: