সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কাবা আঙিনায় ছবি তোলা যাবে কি?

hojj-sm20160822181412নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ মিডিয়া আরব নিউজের সূত্রে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, কাবাঘরের নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল বদর বিন সৌদ আল-সৌদ বলেন, কাবা জিয়ারতে আসা কোনো কোনো পূণ্যার্থীর আচরণ দেখলে মনে হয় তারা পিকনিকে এসেছেন। খ্যাতনামা ব্যক্তিদের দেখে তাদের সঙ্গে ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতেও দেখা যায় অনেককে। কাবাঘরের সামনে সেলফি তোলা তো খুবই সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। তিনি কাবাঘরের ভেতর শুধুই ফোন কল করা ও রিসিভ করার সুযোগ অনুমোদন করার আহ্বান জানান।

কাবার নিরাপত্তা বাহিনীর এ কথা নিশ্চয় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বর্ণনা। আমরা আৎকে ওঠি! ইসলামের বাড়ি, কুরআন নাজিলের মাটি আল্লাহর ঘর কাবা শরিফের আঙিনায় বসে ছবি বা সেলফি তোলা জঘন্যতম উৎসব আমাদের ব্যথিত করে। পৃথিবীর পবিত্রতম জায়গা কাবা। কাবা ঘিরে মুসলিম উম্মাহর আবেগ-উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা প্রভুর প্রেম দড়িয়ায় ঢেউ তোলে। আল্লাহ প্রেমের জোয়াড়ে ডুবে থাকে মুমিন। প্রভুর পাগলেরা কালোঘরের চারপাশে ছুটে বেড়ায় প্রেমের টানে। মুখে জপে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক! কাবা সে তো বায়তুল মামুরের প্রেমের ছবি। শিশু ইসমাঈল ও মা হাজেরার জীবন মজার। হাজার নবী রাসুলের পায়ের পরশ। ওলি-আওলিয়ার প্রেমস্বর্গ। দয়াল নবী মুহাম্মদ সা. ছুঁয়েন এই কাবা। চুমু খেয়েছেন সাহাবারা। কতো ওলি, কুতুব আর পাগলেরা আলিঙ্গন করেছেন কাবার ওঠানবাড়ি। মৃত্যুর যাত্রীরা! কাবার পাশে বসে প্রস্তুতি নেয় কবরের। ইলাহর আলোতে উজ্জ্বল করে অন্ধকার কবর। ইহরাম পরে মনের আয়নায় কবর বানিয়ে জপতে থাকেন লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। দেহ-মন কবর ভেবে ইল্লাল্লার তাসবিহর স্বাদ সবাই পাবে কি? যারা পায় তারা মুমিন। আল্লাহ ওয়ালা। ওরা কাবার মেহমান। দয়াল প্রভুর বন্ধু। মেহমানের বাড়ি বসে খোদ মেহমানের অবাধ্যতা সৃষ্টাচার বর্হিভূত নয় কি? আল্লাহর ঘরে বসে আল্লাহর দেওয়া বিধানের অবাধ্যতা? সে তো মহা অন্যায়। মহাপাপ। বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সা. মুত্যু-শয্যায় শায়িতাবস্থায় তাঁর স্ত্রী উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবা রা. দুজন পরস্পর মারিয়া নামক গির্জায় অংকিত ফটোর কথা বর্ণনা করলে নবীজি মাথা উঁচু করে বলেন, খৃস্টান-ইহুদিরা তাদের নেকলোক মৃত্যুবরণ করলে কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে তাতে ছবি অংকিত করে। এরা আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট। অন্য এক হাদিসে হযরত আয়েশা রা. বলেন, হজরত রাসূল সা. সফরে ছিলেন, এই সময়ে আমি আমার দরজায় ছবিযুক্ত একটি পর্দা টানাই। তিনি সফর থেকে ফিরে ঘরে লটকানো পর্দা দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন হে আয়েশা! তোমার জানা থাকা উচিত, কিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা অধিক আজাবে আক্রান্ত হবে তারা যারা আল্লাহর সৃষ্টজীবের ছবি অংকন করে প্রকাশ করে। (বুখারি, মুসলিম)
মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদের হাদিসে বলা হয়েছেÑ যারা ছবি তোলে, তারা কিয়ামতের দিন সর্বাধিক কঠোর আজাবে আক্রান্ত হবে।
ইসলামের বাড়ি, কুরআন নাজিলের মাটি আল্লাহর ঘর কাবা শরিফের আঙিনায় বসে ছবি বা সেলফি তোলা জঘন্যতম অপরাধ। কাবার সঙ্গে বেয়াদবি। সরাসরি আল্লাহর হুকুমের সীমালঙ্ঘন। শরহে আকাইদে নাসাসি গ্রন্থে আছে, গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরি।

সুতরাং ছবি বা সেলফি পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় তোলা অন্যায় ও নাজায়েজ। কাবা আঙিনায় তো অবশ্যই নাজায়েজ। এখন কেউ যদি ছবি তোলে তবে সে গোনাহগার হবে। কিন্তু এই হারাম কাজ কে যদি হালাল মনে করে তাহলে তার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে। কুফুরির পর্যায়ে চলে যাবে।

সম্প্রতি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার মহাপরিচালক, মুফতি আবুল কাসিম নোমানি ছবি তোলাকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলাম কোনোভাবে ভিডিও বা চিত্রধারণকে স্বীকৃতি দেয় না। এটি পাপ। তিনি আরও বলেছেন, কেবল পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরির মতো অতি প্রয়োজনে ছবি তোলা যায়। অল ইন্ডিয়া মুসলিম ল পারসোনাল বোর্ডের সদস্য মুফতি ইরফান কাদরি রাজ্জাকীও এই ফতোয়ার সঙ্গে একমত।

কুরআন হাদিস ইজমা কিয়াসের ভিত্তিতে, পৃথিবীর সকল ইমাম ফকিহ ও ধর্ম বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, অতি প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা আঁকা ও প্রকাশ করার অনুমতি ইসলাম দেয়নি। কাবার আঙিনায় তো আরও না। সমকালীন মুফতিদের অভিমতও হলো, প্রয়াজন ছাড়া ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা জায়েজ নয়। পাকিস্তানের জামিয়া বিন্নুরিয়ার ফাতোয়া বিভাগ বলছে, কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে ছবি প্রিন্ট করার আগ পর্যন্ত জায়েজ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: