সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূমিকম্প মোকাবেলায় স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে

11-1-550x330নিউজ ডেস্ক: স্কুলের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু গেঁড়ে বেঞ্চের নিচে বসে পড়লো ১৫ বছরের লাকি আখতার। এরপর দ্বিতীয় ঘণ্টা বাজতেই বই ও ব্যাগ মাথায় নিয়ে আরও ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসলো।
এই শিক্ষার্থীরা ঢাকার উত্তর-পশ্চিমের সাভারের ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা আসলে ভূমিকম্পের মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। কারণ গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ বারবার ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে।
লাকি আখতার জানালো, ‘এ ধরনের মহড়াগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে বাস্তবে এমন ঘটনায় আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারবো।’

ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। নেচার জিও সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে জনগণের একটা বড় অংশই অরক্ষিত থেকে যাবে।
সাভারের ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে প্রতিবছরই অন্তত একবার করে ভূমিকম্প হচ্ছে। চলতি বছর আমরা দুইবার কম্পন অনুভব করেছি।’
তিনি বলেন, ‘একবার স্কুল চলাকালেই এ ধরনের কম্পন অনুভূত হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোজা দৌড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।’

12-2-550x366ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে এখানে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সাহায্য ও নাগরিক সুরক্ষা কার্যক্রম। তারা বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে সেভ দ্য সিলড্রেন।

বিশ্বজুড়ে বড় ভূমিকম্পে স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে হাজারো তরুণ-তরুণীর অকাল মৃত্যু ঘটে।
২০০৫ সালে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভূমিকম্পে নিহত হয় ১৯ হাজার শিশু। এদের অধিকাংশেরই প্রাণহানি ঘটে স্কুলভবন ধসে পড়ার কারণে। এর তিন বছর পর চীনের সিচুয়ানে দুটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর একটি ছিল ৯ মাত্রার এবং অপরটি ৬ দশমিক ১ মাত্রার। ওই দুই ভূমিকম্পে শ্রেণিকক্ষ ধসে পাঁচ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে ৮৪টি প্রাথমিক এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মহড়া সম্পন্ন করেছে। এ সংক্রান্ত গাইডলাইন চূড়ান্ত করতে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রায় ৬৬ হাজার প্রাথমিক এবং ৩২ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের মহড়া পরিচালনা করাই এ গাইডলাইনের লক্ষ্য।

মূলত টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ এ ধরনের তিনটি প্লেটের মধ্যে অবস্থিত। ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের টেকটনিক প্লেটের মধ্যে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

নেচার জিওসায়েন্স প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। তিনি জানান, ভূমিকম্প বিশ্লেষকরা চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মধ্যকার প্লেটে সক্রিয় ঘর্ষণ শনাক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের নিচে জমে ওঠা টেকটনিক প্লেটে চাপ জমে উঠছে কম করে বিগত ৪০০ বছর ধরে।

২০১১ সালে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে ন্যাশনাল স্কুল সেফটি প্রোগ্রাম চালু করে ভারত। এর মধ্যে মহড়ার বিষয়টিও রয়েছে।
ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভিনোদ চন্দ্র মেনন। তিনি জানান, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি স্কুলভবনগুলোর কাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালে বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসের পর সাড়ে তিন হাজার ফ্যাক্টরির ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান প্রকৌশলীরা। তারা এসব ফ্যাক্টরি ভবনের কাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনা শেষে তারা জানান, ২৫ শতাংশ ভবনে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

বুয়েট-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আনসারি বলেন, কিছু আবাসিক ভবনের জন্যও এ ধরনের সংস্কার প্রয়োজনীয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ভূমিকম্প সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার একজন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক নিয়োগ করছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তার কাজ শুরু হবে।
এছাড়া চলমান মহড়া অব্যাহত থাকলে বহু স্কুলকেই তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় আরও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশে সেভ দ্য সিলড্রেন-এর স্কুল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বহু স্কুলেই শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নেওয়ার জন্য চেয়ারগুলোর উচ্চতা বেশ কম।’
সাভারের ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘অন্য যে কোনও সময়ের চেয়ে আমরা এখন অধিক সংগঠিত। প্রতি তিন মাস পরপর আমরা এ ধরনের একটি করে মহড়া করবো। বাস্তব পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা এটি প্রয়োগ করতে পারবে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: