সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বুরকিনি আন্দোলন: ফ্রান্স দূতাবাসের সামনেই সৈকত!

CqtGSgKWAAEMrzr-550x535আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত কয়েকদিন ধরেই ফ্রান্সের বুরকিনি নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। সোস্যাল মিডিয়া টুইটারের একটি হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়। হ্যাশট্যাগটি হচ্ছে #WearWhatYouWant| এই বিষয়ে সর্বশেষ আন্দোলন হচ্ছে লন্ডনে। সেখানে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয় ফ্রান্স দূতাবাসের সামনে ও সেখানে দুই ট্রাক বালি ফেলে কৃত্রিম সৈকত তৈরি করে আন্দোলন চালাচ্ছে। তাদের মূল কথা হচ্ছে যা চাও তা’ই পরতে পারবে। এই আন্দোলনটি ছড়িয়ে পড়ে যখন সম্প্রতি ফ্রান্সের নিস সৈকতে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ এক নারীকে তার বুরকিনি খুলতে বাধ্য করে। আন্দোলন কারীদের মূল কথা হচ্ছে ‘আমার বোনের পোশাকে হস্তক্ষেপ করার তুমি কে?’

ক্রমাগত জঙ্গী আক্রমনে জর্জরিত ফ্রান্স মুসলিমদের ওপর বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ফ্রান্সের পাবলিক স্কুলে হেড স্কার্ফ নিষিদ্ধ করা হয়, ২০১০ সালে পুরো মুখ ঢেকে রাখার নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে চলছে বুরকিনি নিষিদ্ধ করার হিড়িক। জাতীয়ভাবে দেশটিতে বুরকিনি নিষিদ্ধ করা না হলেও কয়েকটি স্টেটে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সেসব স্টেটের মেয়ররা।

ভিলনেভ লুভের মেয়র লিওনেল লুকা বলেন, আমি কমিউনিটির বিরুদ্ধে যায় এমন পোশাক পরার ইতি টানতে চাই। এ সময় তিনি সৈকত দেখিয়ে বলেন, এটি ফ্রান্স রিপাবলিক। এখানে সবাই সমান।
লিউকেটের ময়র মাইকেল পাই বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে এখন অবদান রাখতে হবে।
এই দুটি বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সাংবাদিক ফ্লোরেন্স ভিলেমিনট বলেন, বুরকিনি নিষিদ্ধ করার জন্য তারা অনেক কারণ দেখিয়েছেন। তার মধ্যে বর্তমানে চলমান ফ্রান্সের জরুরী অবস্থাও রয়েছে। এমনও বলা হয়েছে যে এটা ফ্রান্সের আসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে।

কয়েকটি স্টেটে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এই বিষয়ে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভেলসের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি একটি ফরাসি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বুরকিনি সুইমওয়্যার বা ফ্যাশনের মধ্যে পড়ে না। এটি একটি রাজনৈতিক অভিব্যাক্তি, একটি বিপরীত সমাজ তৈরির প্রক্রিয়া যা প্রকৃতপক্ষে নারী দাসত্বের ওপর দাঁড়িয়ে।”

এদিকে আজকেই স্কটল্যান্ডের পুলিশ তাদের অফিসিয়াল ড্রেসে হিজাবকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীদের পুলিশে যোগ দিতে উৎসাহ প্রদান করবে যারা ইতিপূর্বে পুলিশিং ক্যারিয়ারে যেতে পারতেন না।
বুরকিনি কী?
বুরকিনি হচ্ছে একটি পোশাক যেটি মুখ, হাত ও পা ছাড়া বাকী পুরো শরীর ঢেকে রাখে। এটি প্রধানত মুসলিম নারীরা সৈকতে যাওয়ার সময়ই পরে থাকেন।
ডিজাইনার কী বলেন?
২০০৪ সালে আহেদা জানেত্তি নামে একজন অস্ট্রেলিয়ান ডিজাইনার এই পোশাকের নকশা তৈরি করেন। তিনি বলেন, আমি এই পোশাকটি তৈরি করেছিলাম নারীদের স্বাধীনতা দিতে, স্বাধীনতা কাড়তে নয়। বুরকিনি আবিষ্কারের কথা তিনি বর্ণনা করেন, আমার ভাইয়ের মেয়ে নেটবল খেলতে চাচ্ছিলো। কিন্তু ওই সময়ের (মুসলিম) সমাজ এটা অনুমোদন দিতো না। তার মা’ও চাইতো সে খেলুক। কিন্তু সে ওই সময়ে হিজাব পরতো যার ফলে তাকে দলে যুক্ত করা কঠিন ছিলো। আমি বাসায় বসে বসে ভাবলাম কি করা যায় যা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান জীবনধারা ও ইসলামিক জীবনধারা দুটিকেই রক্ষা করা যায়। তখন আমি বুরকিনি তৈরি করি। যা নিয়ে আমি মার্কেট গবেষণা করি। এবং বাজারজাত করি।
অনেকেই মনে করছেন এমন নিষেধাজ্ঞা জঙ্গিদের ধ্বংসাত্মক মতবাদ প্রকাশে সহায়তা করবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক নারী বলেন, দুনিয়া ব্যাপি পুরুষরা নারীদের পোশাক কেমন হবে ঠিক করে দিচ্ছে। এক পক্ষ বলছে এটা পরো, আরেক পক্ষ বলছে ওটা পরো। নারীদের নিজেদের পোশাক নিজেরাই পছন্দ করবে। এতে হস্তক্ষেপ ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
অপর এক আন্দোলনকারী প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন, যাতে লেখা ইসলামোফোবিয়া স্বাধীনতা হতে পারে না।
আরেক আন্দোলনকারী টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে সুইমস্যুট ও বুরকিনিকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দুটি প্রায় একই রকম দেখতে। তবে কেন একটি নিষিদ্ধা একটি ঠিক আছে এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: