সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নয় জেলার অভিভাবক নয়জন নারী

Logo20140705130801নিউজ ডেস্ক: দেশের ৬৪ জেলায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আছেন এখন নয়জন নারী। জেলা প্রশাসক হিসেবে একসঙ্গে এত নারী কখনও কাজ করেননি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী সুলতানা কামাল বলেন, দেশের নয় জেলায় নারী। এটা অবশ্যই নারীর ক্ষমতায়নের দিনে থেকে গর্বের বিষয়। এটা বাংলাদেশের নারীর অগ্রগতির একটা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে নারীরা এখনো নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সাম্য ও সমঅধিকারের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। উত্তরাধীকারেও নারী সাম্য প্রতিষ্ঠা হয়নি। নারী নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এসব দিকে রাষ্ট্র ও সমাজের অনেক কিছু করার আছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। প্রশাসনে নারী অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। এটা অবশ্যই ভাল দিক। কিন্তু এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে হবে।

বাংলাদেশের প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন রাজিয়া বেগম। এরপর বিভিন্ন সময়ে নারী জেলা প্রশাসক হয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে পাঁচ জন নারী জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। তারা হলেন- মানিকগঞ্জের রাশিদা ফেরদৌস, হবিগঞ্জে সাবিনা আলম, পাবনায় রেখা রানি বালো, চুয়াডাঙ্গায় সায়মা ইউনুস, রাজবাড়ীতে জিনাত আরা কর্মরত আছেন।
২৩ আগস্ট ফরিদপুরে বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া, সিরাজগঞ্জে কামরুন নাহার সিদ্দীকা, মুন্সিগঞ্জে বেগম সায়লা ফারজানা এবং নাটোরে বেগম শাহিনা খাতুনকে নিয়োগ দেয়ার আদেশ হয়েছে।

হবিগঞ্জে সাবিনা আলম নিয়োগ পান তারও আগে ২০১৫ সালের জুনে। তিনি বলেন, এসব পদ এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং। তবে সব চ্যালেঞ্জই সফলভাবে মোকাবেলা করা যায়। একজন নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে সব সময় গর্ববোধ করি। কাজ করতে চাইলে নারী-পুরুষ কোনো ব্যাপারই না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, নারী হওয়ায় আমি আলাদা কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়িনি। আমাকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে সেটা যে কোনো পুরুষ জেলা প্রশাসককেও মোকাবেলা করতে হবে।
রাজবাড়ীতে জিনাত আরা নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ছয় মাস ধরে বেশ সাফল্যের সঙ্গেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।

জিনাত আরা বলেন, ‘নারীরা একটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হচ্ছেন। এটা অবশ্যই সম্মানের। নারীর ক্ষমতায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক হিসেবে রেখা রানী বালো নিয়োগ পান গত জানুয়ারিতে। তিনি বলেন, নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই এটা এরই মধ্যে প্রমাণ হয়ে গেছে। নারীদেরকে আটকে রাখা যায়নি। বিরুদ্ধ পরিবেশেও তারা সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এখন সবাই বুঝতে পারছে নারীদেরকে বাদ রেখে উন্নয়নের সোপানে পৌঁছানো সম্ভব না।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস নিয়োগ পেয়েছেন গত ২৫ জুন। তার মতে- প্রশাসনের নারী কর্মীরা বরাবরই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে। তিনি বলেন, একজন নারী যখন অফিস করেন তখন তিনি কিন্তু কাজের মধ্যেই ঢুকে থাকেন। তারা বাইরে আলাপের চেয়ে অফিসের কাজই বেশি করে থাকে। পুরুষরা হয়তো কেউ ধুমপান করেন, কেউ বা আড্ডবাজি পছন্দ করেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা নেই বললেই চলে।

চুয়াডাঙ্গায় সায়মা ইউনুস যোগ দিয়েছেন এক বছরেরও বেশি সময় হলো। তিনি বলেন, কেবল জেলা প্রশাসক কেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে নারী তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন হতে পারে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজ করেছেন। আরও কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবেও। তিনি বলেন, আমি মেয়েদের স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমি যখন ফরিদপুরের রাস্তা দিয়ে হাঁটব তখন নারীরা আমাকে দেখে অনুপ্রেরণা পাবে। তারাও স্বপ্ন বুনবে। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের স্কুলে একবার ডিসি এসেছিলেন এক অনুষ্ঠানে। তখন থেকেই আমার স্বপ্ন, আমিও একদিন ডিসি হবো।

মুন্সিগঞ্জের নিয়োগ পাওয়া সায়লা ফারজানা বলেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে অবশ্যই গর্বের মনে করি। নারীদের জন্য অনেক কিছুই করার আছে। আমি প্রথমে চিহ্নিত করবো নারীরা কোথায় পিছিয়ে আছে।
সিরাজগঞ্জে নিয়োগ পাওয়া কামরুন নাহার সিদ্দীকার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ৩০ শতাংশ নারী ডিসি দেয়ার কথা বলেছেন। বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়ন হতে হবে। এই হিসাবে নারী জেলা প্রশাসকের সংখ্যা তো আরও বেশি হওয়া উচিৎ।

নাটোরে নিয়োগ পাওয়া শাহিনা খাতুন বলেন, আমি যখন ডিসি হিসেবে কাজ করব তখন কেবল নারী নয়, সবার সুবিধাই দেখার চেষ্টা করব।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে এখন পৃথিবীতে উদাহরণ হিসেবেই দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, তিন জনই নারী। কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে না, শিক্ষা, প্রশাসন, চাকরি, সব ক্ষেত্রেই নারীর অগ্রগতির প্রশংসা করছে সারা বিশ্ব।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: