সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এবার ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে নাস্তানাবুদ হিলারি

hilaryআন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইমেইল সংক্রান্ত অনিয়ম থেকে মুক্তি মিলছে না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত দুর্নীতি। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে হিলারির উপর চাপ তত বাড়ছে। বিরোধী পক্ষের একের পর এক আক্রমণে ক্রমেই নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছেন জরিপে এগিয়ে থাকা এই ডেমোক্রেট প্রার্থী।

দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে, হিলারির ব্যবহার করা ১৫,০০০ ব্যক্তিগত ইমেইল তারা প্রকাশ করবে শিগগিরই। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি জনপ্রিয় টিভি শো ‘জিমি কিমেল’ এ হিলারিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি নতুন এই ১৫,০০০ মেইল প্রকাশ নিয়ে চিন্তিত কিনা? জবাবে হিলারি বলেছিলেন, ‘আর কত চিন্তা করব। ৩০,০০০ মেইল তো উন্মুক্ত করেছি, আরো কিছুটা না হয় করল এফবিআই। আমি ভাবছি মানুষ পড়ে কি করবে, আমার ইমেইল খুবই বোরিং (একঘেয়ে)।’

ইমেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে এফবিআই কিছুটা ছাড় দিয়ে ’এক্সট্রিম কেয়ারলেস’ বলে ভৎর্সনা করার পর ধারণা করা হচ্ছিল হিলারির কপাল থেকে অনেকগুলো কালো রেখা মুছে যাবে। কিন্তু সম্প্রতি তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেটা হলো, তার স্বামী বিল ক্লিনটনের গড়ে তোলা ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ এর অর্থ আর অনুদান সংগ্রহের কৌশল নিয়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অর্থ যোগাড় করার প্রচারণা নিয়ে হিলারিকে কোনঠাসা করার চেষ্টায় এখন নাম আসছে বাংলাদেশের গ্রামীণব্যাংক প্রধান ড. ইউনূসেরও।

বলা হচ্ছে, হিলারি যখন সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন তাদের অনেকেই ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।

তার সময়ে ১,৭০০ বৈঠক বা সভা হয়েছে নানা ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যাদের সঙ্গে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ আছে অথবা তারা কোনো না কোনোভাবে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগী। এই তালিকায় বাংলাদেশের গ্রামীণব্যাংক আর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আছে।

‘হিলারি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকার সময় পৃথিবীর নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাত দিয়েছেন শুধুমাত্র তারা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে অনুদান দিয়েছিলেন বলে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন দেশের অনেক ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। যারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধকে ভৎর্সনা করে। এভাবে হিলারি তার আর তার পরিবারের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়। তার হাতে দেশ নিরাপদ নয়’- এটা গত কয়েকদিন ধরে রিপাবলিকার প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত বলে যাচ্ছেন।

আর এই প্রচারণার কারণে ভোটাররা দ্বিধায় পড়েছেন বলে বিভিন্ন জরিপ বলছে। ভাসমান রাজ্য ওহাইওতে সিবিএস এর এক জরিপের ফলাফল বলছে, ৫১ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন হিলারি ক্ষমতাকে নিজের দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করেছেন। হিলারির ক্যাম্পেইন ম্যানেজার রবি মুক সিবিএস’কে জানিয়েছেন, এগুলো বলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে ভোটারদের। ফাউন্ডেশনের ভালো কাজগুলো সারাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে।

‘সমস্যাটা হলো কাজ করেন বলেই হিলারির সমালোচনা করা সহজ। এই ক্লিনটন ফাউন্ডেশন সারা পৃথিবীর অন্তত ১১ মিলিয়ন মানুষকে এইচআইভি এইডস নিরাময়ে সহায়তা করেছে, নারী শিক্ষায় কাজ করছে। এগুলো ভালো উদ্যোগ। এসব উদ্যোগকে খাটো করেই রাজনীতি করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প আর রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে অনেক পয়সা মেরে খেয়ে নিজের সম্পদ বানিয়েছেন, এটাই হলো দুই প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য’ –বলছিলেন হিলারি ক্লিনটনের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার রবি মুক।

হিলারি ক্লিনটনকে ঘিরে এসব নেতিবাচক প্রচারণার সাথে জয় পরাজয়ে ভূমিকা রাখা ভাসমান ভোটরাজ্য হিসপ্যানিক আর আফ্রিকান আমেরিকানদের কাছে টানতে বক্তব্যের সুরও বদলিয়েছেন ট্রাম্প। এখন তিনি বলছেন, হিলারি আমলে কালোরা মূল্যায়ন পাবে না।

তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনে লাভ হচ্ছে কম। সর্বশেষ ২টি রাজ্যের জরিপের ফলাফল বলছে, নর্থ ক্যারোলিনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন, আর ৪৪ শতাংশ হিলারির পক্ষে। এই নর্থ ক্যারোলিনা ঐতিহাসিকভাবেই ভাসমান ভোটরাজ্য, যেখানে ২০০৮ সালে ওবামা নির্বাচিত হলেও ২০১২ সালে আবার রিপাবলিকান মিট রমনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই নর্থ ক্যারোলিনাসহ অন্য ৮টি ব্যাটেল গ্রাউন্ড রাজ্য বা ভাসমান ভোটরাজ্যের প্রতিটিতে হিলারি এগিয়ে আছেন ৫ থেকে ১৫ শতাংশ ভোটে।

মাঠ পর্যায়ের এই যখন অবস্থা তখন, ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার কিংবা ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে কথিত দুর্নীতি আর বিতর্কের বিষয়ে মুখ না খুলে বরং বর্তমানের অবস্থাকে টেনে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক হিলারি ক্লিনটন। যেমনটা বলছিলেন এপির একজন সংবাদ বিশ্লেষক।

’এসব নেতিবাচক প্রচারণাকে আমলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিয়ে জরিপে এগিয়ে থাকা ফলাফলকে ভবিষ্যত মেনেই চুপ থাকার কৌশল নিয়ে আগাচ্ছেন হিলারি। কেননা, জরিপ বলছে, প্রেসিডেন্ট পদ তো বটেই, এমনকি এতদিনের অধরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ আসতে পারে ডেমোক্রেটদের। খামোখা অন্যের হাতে ইস্যু তুলে বিতর্ককে আরো লম্বা করতে চান না হিলারি’ -বার্তা সংস্থা এপি’র বিশ্লেষক বলছিলেন কেন হিলারি এ বছরে এখনও একটিও সংবাদ সম্মেলন করেননি এবং করতে চাচ্ছেন না সে প্রসঙ্গে।

নির্বাচনের বাকি আর ৭৫ দিন। হিলারি ক্লিনটন আর ডেমোক্রাট দলের বিজয় সম্ভাবনা এখনও বেশ উজ্জল। কেননা, এবার শুধু হিলারি ক্লিনটন নয়, আইনসভা বা সিনেটে রিপাকলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতাও এখন সমানে সমান দেখাচ্ছে ফক্স নিউজের সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে। তার অর্থ, এইভাবে হিলারি নির্বাচনকে এগিয়ে নিতে পারলে শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে ডেমোক্রেটরা। যেটা না থাকায় প্রেসিডেন্ট ওবামা সরকার পরিচালনা করছেন অনেকটা হাত পা বাধা অবস্থায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: