সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আকাশে উড়ছে দুই ক্ষুদে টাইগার বিজ্ঞানীর ড্রোন

22850_x1-300x214নিউজ ডেস্ক::নাম তার আবদুল্লাহ আল ফাহিম। বয়স মাত্র সতের। এবার সে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দাখিলে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মাত্র সতের বছর বয়সে এই অদম্য মেধাবী ছাত্র একটি আকাশযান তৈরি করে এলাকায় রীতিমত হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। এই খুদে বিজ্ঞানীর আবিষ্কার আকাশযান রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে উড়ছে দূর আকাশে।
আবার ইচ্ছা করলেই রিমোটের মাধ্যমে তাকে নামিয়ে নিয়ে আনা হচ্ছে জমিনে। তার এই আবিষ্কার দেখতে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খুদে এই বিজ্ঞানী আরো অনেক কিছুই করতে পারে। এমন মন্তব্য করেছেন এলাকার মানুষ। সূত্র জানায়, উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম স্বর্পরাজপুর। এই গ্রামের এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম আবদুল্লাহ আল ফাহিমের। পিতা হাফিজুর রহমান পেশায় কৃষক আর মাতা নুরুন্নাহার গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে ফাহিম বড় আর ছোট বোন সাবিকুন্নাহার স্থানীয় মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অদম্য মেধাবী এই শিক্ষার্থী তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন এবারের রমজান মাসে পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিল তিল করে তৈরি করেছে একটি আকাশযান যাকে অনেকে বলছে ড্রোন আবার কেউ বলছে বিমান, কিন্তু ফাহিম এর নাম রেখেছে ফ্লাইয়িং মেশিন। প্রতি দিনই তার আবিষ্কার ড্রোন উড়ছে দূর আকাশে। যখন মনে হচ্ছে তখন আবার নামিয়ে আনা হচ্ছে মাটিতে। বিমানসদৃশ্য এই ড্রোনটি নির্মাণে ক্ষুদে বিজ্ঞানীকে ইন্টারনেটের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। যাবতীয় যন্ত্রাংশসহ সব মালামাল সুদূর চীন দেশ থেকে ক্রয় করতে হয়েছে। অভাবের সংসারে তার এই যন্ত্রাংশ ক্রয়ে সহযোগিতা করছেন তার দূর সম্পর্কের এক দাদা হাজী মাও. আলাউদ্দিন। অভাবনীয় এই সাফল্য অর্জন করতে পেরে খুশি মেধাবী ছাত্র ফাহিম। সে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন। গতকাল সকালে সরেজমিন এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল মানুষের ভিড়। এ সময় তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে একটু বিস্ময় প্রকাশ করলেন। তার আবিষ্কার দেখতে সাংকাদিক এসেছে এ যেন তার বিশ্বাস হচ্ছে না। তারপর এলাকাবাসীকে একটু বিনোদন দিতে সে ড্রোনটি নিয়ে যায় বাড়ির পাশেই অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ তুলা বীজ বর্ধন খামারের খোলা মাঠে।

সব কিছু ঠিকঠাক করে তার নির্মিত ড্রোনটি ভাসিয়ে দেয় নীল আকাশে। হাতে আছে রিমোট। এই রিমোট কন্ট্রোল করছে তার নির্মিত ড্রোনকে। দূর আকাশে সাদা মেঘের নিচে উড়ছে তো উড়ছেই। এরপর আবার রিমোটের সাহয্যে তাকে নামিয়ে আনা হলো মাটিতে। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী জানায় তার সাফল্যের কথা। খুব ছোট বেলায় তখন সে ৩য় শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তৈরি করে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। কখনও বিমানসদৃশ, কখনও বাস ট্রাক আবার ট্রেন। কিন্তু সে তৃপ্তি পায় না। তার ইচ্ছা একটি বিমান তৈরি করবে। চিন্তা ভাবনা আর সাধনা নিয়ে চলতে থাকে তার পড়ালেখা, আর দিন চলা। ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আবদুল্লাহ আল ফাহিম একদিন তার ক্লাসের গাইড বইয়ের মোড়কে একটি বিমানের ছবি দেখে মনঃস্থির করে এ ভাবেই সে একটি বিমান তৈরি করবে।

এভাবেই সে তার সাধনা আর স্বপ্ন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে। সে জানায়, এসএসসি পরীক্ষার পর তার দরিদ্র পিতা তাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেয়। এর আগে কখনও মোবাইল ব্যবহার করেনি সে। মোবাইল ফোন পেয়ে ভীষণ খুশি ক্ষুদে বিজ্ঞানী ফাহিম। এরপর সে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা শেখে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারে, শিখতে পারে। নেটে বেশি বেশি সময় দিতে থাকে সে। একদিন পেয়েও যায় তার চাওয়া পাওয়ার জায়গাটি। সে জানায় চীন দেশে এ ধরনের অসংখ্য যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। সে সব নিয়ে এলে আমি নিশ্চিত কিছু একটি করতে পারবো। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে চীনের একটি ইলেকট্রিক কোম্পানির সঙ্গে অসংখ্যবার কথা হয় এই বিজ্ঞানীর। একপর্যায় তার প্রয়োজনীয় মালামাল সে চীন থেকে আনার ইচ্ছা পোষণ করে। তার আনা সমুদয় মালামাল ক্রয়ে তার প্রয়োজন হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা।

১০ দিনের মধ্যে ডাকযোগ সমুদয় যন্ত্রপাতি তার বাড়িতে চলে আসে। এসব যন্ত্রাংশের মধ্যে মোটর, ইলেকট্রিক প্রিট কন্ট্রোলর, ফ্লাইট কন্ট্রোল, রেডিও ট্রান্সমিটার, রিসিভার, সারভার মিটার উল্লেখযোগ্য। আর কালক্ষেপণ না করে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ শুরু করে দেয়।
দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস কাজ করে বাস্তবে রূপ নেয় গেল রমজান মাসের ২৭ রমজানের দিন। এদিন তার নির্মিত ড্রোনটি নিয়ে সে বাড়ির পাশেই জগদীশপুর তুলা ফার্মের ফাঁকা মাঠে যেয়ে আকাশে উড্ডয়ন করে। প্রথম দিনেই সে পেয়ে যায় সাফল্য। তার আবিষ্কার বিমান বা ড্রোন যা-ই বলিনা কেন নীল আকাশের নিচে উড়তে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা উড়ার পর আবার রিমোটের মাধ্যমে তাকে নামিয়ে নিয়ে আসা হয় মাটিতে। যে ছেলে একদিন কল্পনা করত সে একটি বিমান তৈরি করবে, সেই বিমান আকাশে উড়বে সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে এ যেন আকাশের চাঁদকে সে হাতে পেয়েছে। তার এই অভাবনীয় কল্পনা শক্তিকে সাধুবাদ জানাচ্ছে তার পরিবারসহ এলাকার মানুষ। তরুণ এই বিজ্ঞানীর দরিদ্র পিতা হাফিজুর রহমান জানান, তার ছেলের এমন মেধা আমি নিজেও জানি না।

সে পড়া লেখায় ছোট বেলা থেকেই ভালো। পড়ালেখার সঙ্গে সঙ্গে টুকিটাকি তৈরিতে বেশ সময় পার করেছে সে। কিন্তু এতবড় কিছু বানাতে পারবে আমি ভাবতে পারিনি। মাতা নুরুন্নাহার বলেন, আমার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী। সে মানুষের সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য নিশ্চিত কিছু একটি করতে পারবে বলে আমি মনে করি। প্রতিবেশী লুৎফর রহমান (৭০) জানান, ফাহিম আমাদের গর্ব। তার আবিষ্কার দেখতে প্রতি দিনই মানুষ গ্রামে ভিড় করছে। একই কথা বলেন শিক্ষক দিরাজুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, আবু জাফর, মোশারফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ঝর্ণা খাতুন, হাজেরা বেগম। এলাকাবাসী তরুণ উদীয়মান মেধাবী ফাহিমের সার্বিক সহযোগিতার জন্য সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: