সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্যারিস্টার হয়ে মিথিলা তার ইচ্ছে পূরণ করতে চায়

full_1429449064_1472038407ডেইলি সিলেট ডেস্ক:২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নুসরাত জাহান মিথিলার বয়স ৯ মাস। তখন মিথিলার কাছে পৃথিবীর সব মানুষকেই এক মনে হতো। কে বাবা-মা তা বোঝার অনুভূতি তখনও মিথিলার হয়নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারা যায় মিথিলার বাবা লিটু মুন্সী। তখন না বুঝলেও বড় হতে হতে বুঝতে পারে বাবার অভাব। আর তখনই বাবার খুনিদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে মনে আশা বাঁধে। তখনই ব্যারিস্টার হতে ইচ্ছে হয়। তবে সুযোগ কোথায়?

২১ আগস্ট পিতৃহারা মিথিলা পিতার অনুপস্থিতি অনুভব করে প্রতিক্ষণে। মিথিলা জানায়, আমি মাদারীপুর শহরের একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ সহ সমাপনী শেষ করে এবার ডনোভান সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ি। আমার ইচ্ছা রাজধানীর কোন ভালো স্কুলে পড়ে ব্যারিস্টার হয়ে পড়াশুনা শেষ করবো। আমার পিতার খুনিদের বিচারের মুখোমুখী করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাব। সেটা কিভাবে সম্ভব?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট আমাকে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন, তা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংকে রাখা হয়েছে। প্রতি মাসে যে ৩ হাজার টাকা শিক্ষা খরচ দেয় তা বর্তমান শিক্ষা নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে খুবই কম। আমাদের জন্য আবাসনের যে কথা বলেছে তারও কোনো খবর নেই।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এত কিছু চাই না। আমার বাবা বেঁচে থাকলে সেই আমার জন্য সব করতো। আমার সহপাঠীদের বাবা আছে। তাদের বাবা কত আদর করে, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। ঢাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করলেই আমি ঢাকায় ভালো স্কুলে পড়তে পারবো আর ব্যারিস্টার হয়ে আমার পিতার খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে পারবো। আমার পিতার বাড়ি আছে তবুও আমি মায়ের সাথে নানা বাড়িতে থাকি। দাদা-দাদির একমাত্র ছেলে ছিল আমার বাবা। দাদা-দাদি আমাকে নানা বাড়িতে রেখে অনেক কষ্টে সময় কাটায়, তবুও তারা আমার ভালো চায়। তাদেরও ইচ্ছা আমি ব্যারিস্টার হই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুরের আইউব আলী মুন্সীর একমাত্র ছেলে নিহত লিটু মুন্সী। লিটু মুন্সী পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজ সেবা ছিল লিটুর নেশা। লিটু ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ছিলেন। ইউনিয়নবাসী লিটুকে ভবিষ্যতে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলো। লিটুর মৃত্যুতে এলাকাও শোকে মূহ্যমান। লিটু মুন্সীর শূন্যতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে এলাকাবাসী।

লিটুর মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমার বাবায় ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে ঢাকায় যায়। তারপরে আমার সাথে আর কথা হয় নাই। আমার বাবায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারা গেছে তা সকলেই জানতো, কিন্তু কেউ আমারে বলে নাই। সেই থেকে প্রতি বছরই ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডাকে। আমরাও নাতনি মিথিলাকে নিয়ে যাই। প্রধানমন্ত্রী আমার পাশে বসে। যতক্ষণ থাকি ততক্ষণ আমার বুক ও মাথায় হাত রাখে প্রধানমন্ত্রী। ছেলে পাটের ব্যবসা করতো। পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে কাপড়ের দোকান ছিল, তার কিছুই আমরা পাই নাই। এখনও প্রতিবছর আমার লিটুর কবরে ফুল দিতে নেতাকর্মীরা আসে।

লিটুর বাবা আইউব আলী মুন্সী বলেন, জায়গা সম্পত্তি যা আছে তা চাষাবাদ করে লোকসান হয়। একজন শ্রমিকের হাজিরা প্রতিদিন ৫০ টাকা। নিজে কাজ করতে পারি না, তাই শ্রমিক দিয়েই সব কাজ করতে হয়। আমাকে যদি ৫ হাজার টাকা দেয়া হতো তাহলে বুড়া বয়সে দুজনে ভালো থাকতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী নিজহাতে আমাদের ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। সে জানে দেশে চোর আছে, তাই নিজ হাতেই দিয়েছে। আমার নাতনি ঢাকায় পড়তে চায় প্রধানমন্ত্রী যদি তার কোন ব্যবস্থা করে, তাহলে ভালো হয়।

লিটুর শ্বশুর বাড়ি মাদারীপুর পৌরসভা ভবনের পাশে। সেখানেই মায়ের সাথে নানা বাড়িতে থাকে নিহত লিটুর একমাত্র সন্তান মিথিলা। মিথিলাও সেখানে ভালোই আছে। মা মাফিয়া ৫ বছর হলো আবার বিয়ে করেছে। সে সংসারে আদিক নামে ৩ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তবুও মিথিলার সার্বিক চিন্তা করে দুপক্ষের দুই সন্তানকে নিয়েই পিতার বাড়িতে থাকে। মিথিলার মা মাফিয়া জানায়, লিটুর পরিবারের সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে। লিটুর বাবা-মা বেড়াতে আসে, সেও লিটুদের বাড়িতে যায়। এখন তার একটা ইচ্ছা মিথিলাকে ভালো কোন স্কুলে পড়াতে পারলে মিথিলারও ইচ্ছা পূর্ণ হতো। মিথিলা ব্যারিস্টার হয়ে পিতার হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারতো।

মিথিলার মামা আয়ারল্যান্ড প্রবাসী জুয়েল জানায়, যেদিন লিটু মারা যায় সেদিন ঢাকা থেকে এক লোক ফোন করে জানায়, একজন লোক গ্রেনেড হামলায় মারা গেছে, তার পকেটে এই ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। আপনাদের যদি কোন আত্মীয় হয় তাহলে ঢাকায় আসেন। আমি ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে লিটুর লাশ শনাক্ত করে নিয়ে আসি। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কোনো কথাও বলতে পারি নাই। এখন কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাই বলছি, আমার ভগ্নিপতিকে আর ফিরে পাব না, তবে তার একমাত্র সন্তান মিথিলাকে যেন তার ইচ্ছা পূরণের সুযোগ করে দেয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: