সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজব ও অদ্ভুত নেশা

123-550x367নিউজ ডেস্ক : নেশা তো অনেকেরই আছে। কারও সেটা অ্যালকোহলের, কারও আবার বই পড়ার, কেউ বা তাস খেলায়। কিন্তু এদের নেশাগুলো ভারি অদ্ভুত। নিচে দেওয়া হলো সেইসব অদ্ভুত নেশার কথা।
পুলিশের পেট থেকে বের হলো ৪০ টি ছুরি!

ভারতে এক পুলিশ কর্মীর পেট থেকে ৪০ টি ছুরি বের করা হয়েছে। দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। অপারেশনের পর সুস্থ আছেন পুলিশ কর্মী সুরজিৎ‍ সিং। চিকিৎসক সার্জন জিতেন্দ্র মালহোত্রা জানান, তিনি হতবাক। তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে এমন ঘটনা দেখেননি।

একটা দুটো নয় ৪০ টি জং ধরা ও মরচে পড়া ছুরি তার পেট থেকে বের করা হয়েছে। মানুষের পেট থেকে অপারেশন করে ছুরি বের করার ঘটনা বিরল। পাঁচজন সার্জনের একটি দল পাঁচ ঘণ্টা অপারেশন করে ছুরিগুলো বের করেছেন পেট থেকে।
পেটে মাঝে মাঝেই যন্ত্রণা হত সুরজিৎ‍ সিংয়ের। কিছুই খেতে ইচ্ছে করত না। হঠাৎ‍ই একদিন পেটে তীব্র যন্ত্রণা হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান সুরজিৎ‍। প্রথমে চিকিৎসকরা তার পেটে টিউমার হয়েছে ভেবেছিলেন। তবে বায়োপসি রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসকরা অবাক হন। পেটে ধাতব জিনিসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তারপর অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।
চমকে ওঠার মতো কাহিনি শুনিয়েছেন রোগী সুরজিৎ। চন্ডীগড়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না। বাড়িতে চুপচাপ বসে থাকতেন। অলস মন। তখন থেকেই ছুরি খেতে শুরু করেন সুরজিৎ। একটু একটু ব্যথা লাগত।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরেই মানসিক ভারসাম্য হারান পুলিশ কর্মী সুরজিৎ। অপারেশনের পর সুস্থ আছেন বলেও জানান তারা।
নেশা তার চুল খাওয়া

ভারতে তিন সন্তানের এক মা’র নেশা হলো চুল খাওয়া। মাত্র নয় বছর বয়স থেকে তিনি চুল খাওয়া শুরু করেন। এখন তার বয়স ৩১ বছর। এত বছর ধরে যে চুল খেয়েছেন তা পাকস্থলি ও পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য অংশে জমে বিশাল এক কুন্ডলীর সৃষ্টি করেছে। ফলে তিনি আর কিছুই খেতে পারেন না। এমনকি পানিও পান করতে পারেন না। কিছু মুখে দিয়ে গেলার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বমি। সঙ্গে পেটে প্রচন্ড ব্যথা। এ অবস্থায় তাকে উত্তর ভারতের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা করে তো চোখ আকাশে ওঠার অবস্থা। তার পাকস্থলিতে জমে আছে চুলের বিশাল এক স্তুপ। সঙ্গে সঙ্গে তারা অপারেশন করলেন। পেট থেকে বেরিয়ে এলো আধা স্টোন বা তিন কেজি ১৭ গ্রাম ওজনেরও বেশি চুলের কুন্ডলি। চিকিৎসকরা যখন ওই মাকে চুল খাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করেন তিনি প্রথমে তা অস্বীকার করেন। তার অপারেশন করেন ড. হরদীপ সিং (৩০)। তিনি বলেন, আমরা তার কাছে চুল খাওয়ার অভ্যাসের কথা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি এমন কথা অস্বীকার করেন। আমরা তার আলট্রাসাউন্ড করে দেখতে পেলাম তার পাকস্থলিতে বিশাল একটি তৃতীয় বস্তুর উপস্থিতি।

অপারেশন করা হলে বেরিয়ে এসেছে চুলের ওই কুন্ডলি। এরপরই ওই নারী স্বীকার করেছেন চুল খাওয়ার কথা। বলেছেন, তার বয়স যখন ৯ বছর তখন থেকেই তিনি চুল খাওয়া শুরু করেছেন। ড. হরদীপ বলেন, তার পাকস্থলি ও নাড়িভুড়িতে সয়লাব হয়ে ছিল চুল। ভরে গিয়েছিল পাকস্থলি ও খাবার পরিবহন হওয়ার সব পথ। এ জন্য তিনি কোন খাবার খেতে পারতেন না। এমন কি পানিও না। কারণ, খাবার বা পানি হজম হওয়ার কোন উপায় ছিল না ওই চুলের কারণে।

এ জন্যই তিনি বমি করতেন। ড. হরদীপ বলেছেন, এমন ঘটনা তিনি এর আগে কখনও দেখেন নি। তার ভাষায়, ওই চুলের কুন্ডলির দৈর্ঘ্য ৪০ সেন্টিমিটার। এটা বের করার পর ওই নারী এখন স্বাভাবিকভাবে খাবার খাচ্ছেন। তিনি ভাল আছেন। তার পেটের সেলাই খুলে দেয়ার পরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন। যেহেতু মায়ের মধ্যে চুল খাওয়ার মতো অভ্যাস আছে তাই এখন তার ছেলেমেয়ের মধ্যে সেই অভ্যাস সংক্রমিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখা দরকার।

এরই মধ্যে তার এক মেয়ে সিমেন্ট খাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। আমরা তারও কিছু পরীক্ষা করবো। এই যে অভ্যাস একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় রাপুনজেল সিনড্রোম। ড. হরদীপ বলেন, কিশোর বয়সে মেয়েদের মধ্যে নানা হতাশা থেকে এমনটা দেখা যেতে পারে। এ সময় কেউ চক খায়। কেউ খায় সিমেন্ট। কেউ খায় পাথর। আবার কেউ পাটও খায়। এমন অভ্যাস থাকলে অবিলম্বে তার চিকিৎসা করানো দরকার। যদি তা করা না হয় তাহলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। গত সপ্তাহে বৃটিশ এক মা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ইট চেটে খাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সোফার গদি খাওয়া

অ্যাডিলে নামের ফ্লোরিডার এক মহিলা গোটা বিশ্বের নজরে আসে এক অদ্ভুত নেশার জন্য। অ্যাডিলে সোফার কভার খুলে সেখান থেকে গদি, ছোপরা বের করে খেয়ে নেয়। ১০ বছর বয়স থেকে ওর এই নেশা শুরু হয়েছে। এখন ওর বয়স ৩০ বছর। সোফা দেখলেই ওর জিভ থেকে জল পরে।
টয়লেট পেপার খাওয়া

২৫ বছরের জাডে সেলভেস্টার গত বছর খবরের শিরোনামে আসে অদ্ভুত এক কারণে। জাডে টয়লেট পেপার না খেয়ে থাকতে পারে না। পাঁচ সন্তানের মা এই মহিলা তার সবচেয়ে ছোট সন্তানের দুই মাসের গর্ভাবস্থায় প্রথমবার টয়লেট পেপার খাওয়ার নেশা করেন। সারাদিনে টয়লেট পেপারের একটা গোটা রোল শেষ হয়ে যায় তার। ডাক্তাররা এই নেশাকে মানসিক সমস্যা হিসেবে বলেছেন।
নেলপলিশ খাওয়া

গোটা বিশ্বের মানুষ যখন স্টাইলের জন্য নেলপলিশ আঙুলে লাগায় তখন ২৩ বছরের বার্থা নামের এক মহিলা সেই নেলপলিশ খাওয়ার নেশা করেন। বিভিন্ন রঙের নেলপলিশ খাওয়াটা বার্থার প্রায় রোজের নেশা। বার্থা এমনও বলেছেন গিটার আর নীল রংয়ের নেলপলিশ খেতে ওর সবচেয়ে ভালো লাগে। নেলপলিশের নেশাটা ওর এতটাই তীব্র যে কেউ গিফট করলে সেটা না পরে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলে। ৫ বছর বয়স থেকে ও নেলপলিশ খাচ্ছে। আজ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ গ্যালন নেলপলিশ সে খেয়ে ফেলেছে।
কাঁচের গ্লাস

মদ খাওয়াটা তো অনেকের নেশা। কিন্তু মদের গ্লাস! হ্যাঁ, জোস নামের এক ব্যক্তির গত পাঁচ বছরের নেশা কাঁচের গ্লাস খাওয়া। বারে গিয়ে সবাই যখন মদ খায়, তখন জোস কাঁচ ভেঙে খায় গ্লাস। একবার বই খেয়ে নেওয়ার পর ওর মাথায় উদ্ভট নেশা আসে, কাঁচের কোনো পাত্র খাওয়ার। জোস বলেন কাঁচের গ্লাস বিশেষ করে শ্যাম্পেন রাখার আর লাইট বাল্ব খেতে ওর দারুণ লাগে। ওর জ্বালায় ঘরের লোকরা বাড়িতে বাল্ব লাগাতে পারে না। ও হোল্ডার থেকে বাল্ব খুলে ভেঙে খেয়ে নেয়। এই নেশা করার পর থেকে ও অন্তত আড়াই’শটা লাইট বাল্ব আর শতাধিক গ্লাস ভেঙে খেয়ে ফেলেছে।
বেবি পাউডার

হাউস্টনের ডে নামের ২৮ বছরের এক মহিলা বেবি পাউডার খান। ১৩ বছর বয়স থেকে বেবি পাউডার খেতে তার এত ভালো লেগে যায় যে মাসে অন্তত তিন কৌটো পাউডার সে ক্রয় করে খাবার জন্যে। সে অন্তত হাফ টন বেবি পাউডার খেয়েছে (অনেকে বলেন শুঁকেছে)।
রক্ত নেশা

ভ্যাম্পায়ার বলে কিছু বাস্তবে নেই ঠিকই কিন্তু রক্ত পান করে বেঁচে থাকা মানুষের কথা শুনুন। ওর নাম জুলিয়া ক্যাপলেস। ৪৫ বছরের এই মহিলা জলের চেয়েও বেশি পান করতে ভালোবাসে রক্ত। ঘণ্টায় ঘণ্টায় তার তাজা রক্ত খাওয়া চাই। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পেনসিলভিনিয়ার বাসিন্দা সেই মহিলা রক্ত খেয়ে বেঁচে আছে। পার্টিতে গেলে মদ নয় সে রক্ত খেতেই বেশি পছন্দ করে। জুলিয়ার রক্ত নেশার জন্য অনেকে রক্তদানও করেছেন। সারাদিনে ২ লিটার রক্ত না খেলে তার চলে না।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: