সর্বশেষ আপডেট : ৩২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নগরীর হাসান মার্কেট ১৬ তলা করার পরিকল্পনা, বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকা !

dailyslhetnewsshipuuuleadনুরুল হক শিপু ::
আবারও নগরের হাসন মার্কেট নতুন করে নির্মাণের মুলা ঝুলানো হয়েছে। অতীতে এ ব্যাপারে বার বার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সাবেক পৌরসভা। সম্প্রতি সিসিকের নিজস্ব এ মার্কেট ১৬ তলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু তাও নানা কারণে ভেস্তে গেছে। তবুও এবার বাজেটে হাসান মার্কেট নির্মাণ খাতে ব্যয়ও ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। অথচ ৫০ লাখ টাকায় হাসান মার্কেট ১৬ তলা করা অসম্ভব। এরপরও প্রাথমিক এ ব্যয় ধরা হয়েছে অনেকটাই অযথা। বাজেটে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও হাসান মার্কেট নতুনভাবে নির্মাণ করার কোনোই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর বড় কর্তারা। প্রাচীন এ মার্কেট থেকে সিসিকের বর্তমান আয় আসে প্রায় লাখ টাকা।
হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণের মুলা প্রথম ঝুলানো হয় ২৩ বছর আগে। সাবেক সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান আ.ফ.ম. কামাল প্রথম এই মার্কেট নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীকালে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মেয়র থাকাকালে প্রতিবছর বাজেটে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকত। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন আজম খান। এ সময় বাজেটে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। আরিফুল হক চৌধুরী মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালে বাজেটে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণের কোনো ব্যয় ধরেননি।

এবার মেয়রবিহীন সিসিকের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া ঘোষিত বাজেটে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। ৫০ লাখ টাকা বাজেটে ব্যয় ধরা হলেও নতুন করে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণ সহসাই হচ্ছে না। কারণ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘বাজেটে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে তবে তা প্রাথমিক খরচ হিসেবে। হাসান মার্কেট নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরিণ কিছু কারণে মার্কেট নতুনভাবে নির্মাণ করা যাচ্ছে না।’
সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘নতুন করে হাসান মার্কেট পুনর্নির্মাণ করতে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৬ তলা পর্যন্ত হাসান মার্কেট করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে বর্তমানে তা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাজেটে মার্কেট পুনর্নির্মাণে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা খরচ হবে না। তবে মার্কেটের ভেতরে দুটি টয়লেট সংস্কার করা হয়েছে।

সিসিকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে মার্কেট ভাঙতে হবে। তাদের মতামত নিয়েই সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ মার্কেটে অনেকেই আছেন যারা ব্যবসা করে পরিবার চালান। ১৬ তলা ভবন করতে কম হলেও দুবছর সময় লাগবে। এছাড়া যার দোকান যে স্থানে রয়েছে, তাদেরকে সেই স্থানেই দোকান দিতে হবে। সেজন্য দোকান নির্মাণেরও খরচ ব্যবসায়ীদেরও দিতে হবে। ১৬ তলার বাকি কাজ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের খরচেই হবে। তিনি বলেন, এসব কাজ কে করবে? সিটি কর্পোরেশনেতো বর্তমানে মেয়র নেই। মেয়র থাকলে দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে যাওয়া যেত।

বর্তমানে যেখানে হাসান মার্কেট, সেখানে ছিল ‘গোবিন্দ পার্ক’। এ পার্কে ছিল ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের প্রথম ক্যাম্পাস। পার্কে বিভিন্ন সভাসমাবেশ হতো। ১৯৫৯ সালে সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হাসান এখানে মার্কেট নির্মাণ করেন। তাঁর নামানুসারে মার্কেটটি নামকরণ করা হয় হাসান মার্কেট হিসেবে। মার্কেটে সব মিলিয়ে ৩০৫টি দোকানঘর রয়েছে। এর মধ্যে ভেতরে ২২৮টি আর বাইরে ৭৭টি। এর আগে ১৯৬৫ সালে সোয়া ২শ’ ব্যবসায়ীকে তাদের দোকানকোঠা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি মার্কেটে পরিণত হয় হাসান মার্কেট। কিন্তু প্রায় অর্ধশত বছরের অধিককাল যাবৎ শত শত ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা করে আসলেও মার্কেটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আশ্বাস দিয়েও নির্মাণ করা হয়নি নতুন মার্কেট। আর সিটি কর্পোরেশন কয়েক বছর ধরে এই মার্কেট পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিচ্ছে আর বলছে, বিষয়টি পরিকল্পনাধীন রয়েছে।

১৯৯৩ সালে আধুনিক ও বহুতল হাসান মার্কেটের স্বপ্ন দেখানো শুরু হয়। ওই সময় পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম. কামাল ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর হাসান মার্কেট উন্নয়ন কমিটি ও তৎকালীন সিলেট পৌরসভার মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় বহুতল মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। সিদ্ধান্ত হয় পুরনো মার্কেট ভেঙে পাঁচতলাবিশিষ্ট নতুন মার্কেট তৈরি হবে। এরপর মার্কেটের নকশা তৈরির জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়। নকশা তৈরির দায়িত্ব পান প্রকৌশলী অলক দত্ত। এরপর অনেকটাই গতি হারায় বহুতল মার্কেট প্রকল্প।
পরবর্তীকালে পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে পরিবর্তন ঘটে। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে হাসান মার্কেট প্রকল্পের ধুলোজমা ফাইলটি সামনে নিয়ে আসেন। নতুন ভাবনায় উদ্যোগী হন মার্কেট নির্মাণে। ১৯৯৬ সালের ৩০ মে পৌরসভা ও দোকান গ্রহীতাদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই বার সিদ্ধান্ত হয় চারতলা মার্কেট নির্মাণের। প্রতি তলায় দোকান থাকবে দেড়শ’টি করে । নতুন বিন্যাসে পুরনো ব্যবসায়ীদের মার্কেটের প্রথম দুতলায় জায়গা দেওয়া হবে। আর তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নতুন করে লিজ দেয়া হবে। চার তলা বিপণি বিতানের নির্মাণ ব্যয়ের ৬০ ভাগ বহন করবেন দোকান মালিকরা আর ৪০ ভাগ সিলেট পৌরসভা- এমনটিই কথা ছিল তখন।

সর্বশেষ পরিবর্তনের সুর তুলে নগর ভবনের দায়িত্ব পাওয়া আরিফুল হক চৌধুরীও কোনো আশার আলো দেখাতে পারেননি। যদিও তার নির্বাচনি ইশতেহারে হাসান মার্কেট প্রসঙ্গটিও ছিল। আশা জাগানো তো দূরের কথা প্রথম বছর তিনি এ প্রসঙ্গটি আলোচনাই করেননি। তাঁর ঘোষিত প্রথম বাজেটেও এ মার্কেট নির্মাণে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: