সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কানাইঘাটে চোর আখ্যায়িত করে দু’জনকে বেধড়ক পেটালো পুলিশ, বিক্রির সময় সিএনজি উদ্ধার

khanaighat newsকানাইঘাট প্রতিনিধিঃ গত ৪ আগস্ট কানাইঘাট মুশাহীদ সেতুর পূর্ব বাইপাস সড়ক থেকে চালককে ছুরিকাঘাত করে যাত্রী বেশি অজ্ঞাতনামা দুবৃত্তরা একটি অনটেস্ট অটোরিক্সা (সিএনজি) গাড়ী চুরি করে নিয়ে যাওয়া সিএনজিটি বিক্রির সময় উদ্ধার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মুশাহীদ সেতুর নন্দিরাই বাইপাস মোড়ের আব্দুস সামাদ মার্কেটের সামনে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় এ গাড়ীখানা চুরির সাথে জড়িত মূল হোতারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের পাশর্^বর্তী আব্দুস সামাদের বাড়ী থেকে তার পুত্র কৃষক জসীম উদ্দিন (৩০) ও উপজেলার ধলিবিল নয়াগ্রামের ফারুক আহমদের পুত্র গাছবাড়ী আইডিয়্যাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সায়েম আহমদ (১৭) কে সিএনজি খানা চুরির সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করে পুলিশ। এ দু’জনকে আটক করার পর ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আসার পর স্থানীয় সাংবাদিকদ ও উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে চোর আখ্যায়িত করে ডিউটি অফিসার এএসআই জগদীশ দাস সহ আরো ২/৩ জন পুলিশ অফিসার তাদের বেদড়ক মারপিট করেন। তাদের মারপিটের বিষয়টি আটককৃতদের আত্মীয়স্বজনরাও স্বীকার করেছেন।

পরে কৃষক জসীম উদ্দিনকে সিএনজি গাড়ীর চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ আটক করার পর কানাইঘাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিলাল আহমদের জিম্মায় সে গাড়ীর চুরির সাথে জড়িত নয় মর্মে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে কৃষক জসীম উদ্দিন থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার নাম করে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে থানার এস.আই জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে সিএনজি গাড়ীর চুরি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে আটক কলেজ ছাত্র সায়েম আহমদ (১৭), উপজেলার উজানীপাড়া গ্রামের মসদ্দর আলীর পুত্র মনির উদ্দিন (৩২) ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ী গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র লোকমান (২৫) কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং- ২২, তাং- ২৩/০৮/২০১৬ইং।

গত ৪ আগস্ট চালককে মারধর করে অনটেস্ট সিএনজি গাড়ী চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে ডালাইচর গ্রামের এক যুবককে পূর্বে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে গাড়ীর মালিকরা সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সেই চুরি হওয়া গাড়ীখানা অবশেষে গত সোমবার রাতে থানা পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিকে সিএনজি গাড়ীর চুরির সাথে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতারকৃত কলেজ ছাত্র সায়েম এর পরিবার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ স্থানীয় লোকজন বলেছেন, সায়েম আহমদ সম্পূর্ণ ভাবে নির্দোশ। সে কোন অবস্থায় সিএনজি চুরির সাথে জড়িত নয়। একাধিক মামলার আসামী ধরিবিল দক্ষিণ নয়াগ্রামের থানা পুলিশের কতিত সোর্স পরিচয়দানকারী হারুন আহমদ তাকে সোমবার কানাইঘাট বাজারে নিয়ে যাবে বলে সাথে করে নিয়ে যায়।

এরপরে পুলিশ তাকে সিএনজি গাড়ী চুরি ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার করে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, হারুন আহমদ কলেজ শিক্ষার্থী সায়েম আহমদকে ফাঁসিয়েছে। সে বিভিন্ন মামলার আসামী, পূর্বে ডাকাতি ও নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার দায়ে র‌্যাব ও পুলিশের হাতে একাধিকবার সে গ্রেফতার হয়। সায়েম আহমদ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে হারুন আহমদ এলাকা থেকে গাঁঢাকা দিয়েছে। সিএনজি চুরি ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে জসীম উদ্দিন ও সায়েম আহমদকে ডিউটি অফিসার এ.এস.আই জগদীশ সহ পুলিশের আরো ২/৩ জন অফিসার কর্তৃক বেদড়ক মারপিটের ব্যাপারে থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দিনের সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি বলেন, যেকোন অপরাধের সাথে আটক বা জড়িত কাউকে পুলিশ মারধর করতে পারে না। মারপিটের বিষয়টি তিনি জানেন না। সিএনজি উদ্ধারের নেতৃত্বদানকারী থানার এস.আই কামাল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আটক জসীম উদ্দিন ও সায়েমকে পুলিশ মারধর করেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: