সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজও তারা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন স্লীন্টার

full_317625425_1472019422নিউজ ডেস্ক : ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতঙ্গে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রেনেডের স্লীন্টার। জীবন চলছে ঠেলা গাড়ির মতো আর অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে পরেছে অন্যের উপর।

সেদিন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালিন বিরোধী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে দেখতে গিয়েছেন সেদিন তারাই গ্রেনেটের আঘাতে আহতসহ জীবন দিয়েছেন।

মাদারীপুরে এমন আহত অন্তত ৪ জনের সন্ধান মিলেছে। চাওয়া মতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেও নিজেদের ভাগ্যে কি পরিবর্তন হয়েছে?

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চর ঝাউতলা গ্রামের মৃত ওহেদ আলী সরদারের ছেলে সায়েদুর সরদার, দক্ষিন কৃষ্টপরি গ্রামের দলিল উদ্দিন বেপারীর ছেলে কবির, নয়াচর গ্রামের মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে হালান ও সদর উপজেলার ছিলারচর রঘুনাথপুর গ্রামের প্রাণ কৃষ্ণ।

আহত সায়েদুল জানায়, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করতেন তিনি। তখন ওই এলাকায় কালকিনি উপজেলার আরও অনেকে থাকতেন। পল্লবী থানা এলাকার তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ছত্তর মোল্লা ও ইলিয়াস মোল্লার নেতৃত্বে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে যায়।

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা থেকে অনেক দূরে ছিলেন কালকিনির সায়েদুল, হালান ও কবির। তারা নেত্রীকে কাছ থেকে দেখার জন্য মঞ্চের সামনে যায় তখন বিকাল ৫টা বাজে। তখনই গ্রেনেট হামলা হয়। গুরুতর আহত হয় সায়েদুল। সায়েদুলের প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পঙ্গু ও পিজি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

আহত কবির বেপারী ও হালান হাওলাদারের ঠিকানায় গিয়ে তাদের সাথে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তখন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা যায়, কবির বেপারী মালয়েশিয়া চলে গেছে আর হালান রাজধানীর পল্লবীতে মুরগির ব্যবসা করে।

কথা হয় পশ্চিম রঘুরামপুর গ্রামের প্রান কৃষ্ণের সাথে। তখন তার মুখেই বলেন নিজের বিভিশিখাময় সেই মূহুর্তের বর্ননা। সেদিনের গ্রেনেট হামলায় চোখ হারিয়ে এখন পরিবারের বোঝা হয়ে গেছেন তিনি। স্ত্রীর সামান্য উপার্জনের উপর নির্ভর করে চলে কার সংসার।

তার স্ত্রী গরুর গোবর দিয়ে জ্বালানী বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। চোখ হারানো প্রানকৃষ্ণ পায়নি সামান্য স্বীকৃতিটুকুও। এতবড় সংসারে তার বেঁচে থাকা যেন অনর্থক। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার আবেদন সে বড়লোক হতে চায় না। শুধু মৌলিক অধিকার পেলেই সে সুখী হবে।

আহতদের সকলেরই দাবী তারা যেন খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। আর জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারে এ ঘৃণ্য হামলা করে যারা মানুষ মেরছে তাদের যেন বিচার হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: