সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হবিগঞ্জে ভাবির প্রতারণায় ক্ষুব্ধ হয়েই ট্রিপল মার্ডার!

full_114418205_1472012701হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভাবির কাছে প্রতারণা আর উপহাসের শিকার হয়েই শাহ আলম তিনজনকে হত্যা করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এমন চালঞ্চল্যকর তথ্যই বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র।

আজ বুধবার সকালে নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, ভাবির দ্বারা দফায় দফায় প্রতারিত আর উপহাসের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন শাহ আলম। এ কারণেই ভাবিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ ঘটনার অন্যরা ছুটে আসায় তাদেরও আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে তিনজন। গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছে আরও একজন। হত্যাকাণ্ড শাহ আলম একাই ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শাহ আলম প্রায় ১১ বছর কুয়েত এবং গ্রিসে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি তার ভাবি জাহানারা বেগমের কাছে উপার্জিত টাকা পাঠাতেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর তিনি তার টাকা ফেরত পাননি।

এছাড়াও ভাবির দ্বারা তিনি বিভিন্নভাবে প্রতারিত হয়ে ২ বছর বয়সী সন্তানসহ আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করতেন। সম্প্রতি জমিজমা বিক্রি করে তিনি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফ্লাইট জটিলতায় তার যাওয়া হয়নি। শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে নিস্ব হয়ে যান তিনি। এ নিয়ে প্রায়ই ভাবি জাহানারা তাকে নানাভাবে উপহাস করতেন।

মঙ্গলবার রাতেও তাকে নিয়ে উপহাসের এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহআলম ভাবি জাহানারার ওপর আক্রমণ করেন। মূলত ভাবিকে হত্যার জন্যই তিনি আক্রমন করেছিলেন। এসময় তার চিৎকারে মেয়ে শারমীন, ছেলে সুজাত ও প্রতিবেশী শিমুল মিয়া এগিয়ে আসার কারণে তাদের উপরও হামলা চালান তিনি। ঘটনাস্থলেই মারা যান জাহানারা।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘাতক শাহআলমকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ জাহানারার মৃতদেহ উদ্ধার ও শাহআলমকে আটক করে মাধবপুর থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে গুরুতর আহত শিমুল মিয়া মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে এবং আহত শারমীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আশংকাজনক অবস্থায় সুজাতকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে নিহত ৩ জনের মরদেহ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাতে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

তিনি মূলত ভাবিকেই হত্যা করতে চেয়েছিলেন। কারণ ভাবি তার সাঙ্গে প্রতারণা করেছেন পাশাপাশি উপহাসও করতেন। কিন্তু ঘটনার সময় অন্যরা ছুটে আসায় তারাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: