সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজার কারাগারের জেল সুপারের নাম ভাঙিয়ে হাজতির পরিবারকে প্রতারণার চেষ্টা, জিডি

01. daily sylhet MoulviBazar news2বড়লেখা প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে বন্দী থাকা আব্দুল কুদ্দুছ স্বপনের পরিবারকে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রটি কৌশলে হাজতি হার্ট এটার্ক করেছেন জানিয়ে হাজতির অপারেশনের জন্য ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে হাজতি আব্দুল কুদ্দুছ স্বপনের ভাই থানায় জিডি করেছেন।
সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলায় বড়লেখা থানা পুলিশ দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি’র সরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সত্তারের ছেলে বএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুছ স্বপনকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।

গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজের ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল আসে। ফোনকলটি রিসিভ করার পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে জানায়, আব্দুল কুদ্দুস স্বপন জেলখানাতে স্ট্রোক করেছেন। সংবাদটি তার ভাইয়ের কাছে পৌঁেছ দিতে অনুরোধ জানায়। ইউপি সদস্য ফোনটি স্বপনের ভাই আব্দুল বাছিতের কাছে দেন। তখন অপর প্রান্তের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি স্বপনের ভাই আব্দুল বাছিতকে জানায় ‘আপনার ভাই স্ট্রোক করেছেন, জেল সুপারকে তাড়াতাড়ি ফোন করেন।’ তখন ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কথিত জেলসুপারের মোবাইল নম্বরও তাকে দেয়। আতংকিত স্বপনের ভাই তাৎক্ষণিক কথিত জেলসুপারের সাথে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় ‘হ্যালো আমি জেলসুপার বলছি।’ আপনার ভাই স্ট্রোক করেছেন, তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উনার অবস্থা আশংকাজনক। ডাক্তারের ফোন নম্বর দিচ্ছি, ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন।
এই কথা বলে কথিত ওই জেলসুপার আরেক কথিত ডাক্তারের ফোন নম্বর দেন। ডাক্তারের ফোনে তখন স্বপনের ভাই যোগাযোগ করলে ডাক্তার জানায়, ১৫ মিনিটের মধ্যে আপনার ভাইয়ের অপারেশন করতে হবে। না হলে বড়ো ধরণের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। জেলসুপার সরকারিভাবে ৪০ হাজার টাকা বহন করবেন। আপনাদের ৬০ হাজার টাকা বহন করতে হবে।

আপাতত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। অবশিষ্ট টাকা হাতে রেডি রাখেন বলে কথিত ডাক্তার একটি বিকাশ ফোন নম্বর দেয়। ভাইয়ের অসুস্থতার বিষয়টি অবহিত হয়ে আতংকিত স্বপনের ভাই বড়লেখা বাজারে আসেন বিকাশ করতে। তখন তার এক আত্মীয় টাকা পাঠাতে বাঁধা দিয়ে বলেন, আমি জেলারের সাথে কথা বলি। তিনি মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, হাজতি স্বপন সুস্থ এবং কারাগারেই রয়েছেন। তখন স্বপনের ভাই এটা কোনো প্রতারকচক্রের কাজ বুঝতে পেরে ওই রাতে বড়লেখা থানায় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি জিডি (নং-৫১৩) করেন।

স্বপনের ভাই আব্দুল বাছিত জানান, ফোনকলটি পেয়ে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। পরিবারের সবাই উদ্বিগ্নœ হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বুঝতে পারি, এটি প্রতারকচক্রের কাজ।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জানান, আমি চুয়াডাঙ্গায় দায়িত্বে থাকাকালীন এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিলো। এখন মনে হচ্ছে মৌলভীবাজারেও এ চক্রটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করায় হাজতির পরিবার প্রতারণার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রতারকচক্রের অপতৎপরতার চেষ্টায় সকল বন্দীর পরিবারকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: