সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতের ‘জাত’ প্রথায় বন্দি সিন্ধুর গৌরব!

Screen-Shot-2016-08-21-at-1.19.36-AM-550x444আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সমাজ, সংস্কার, পিছুটান অনবরত সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতিতে লাগাম পরাতে চেয়েছে। অদম্য জেদ, অফুরান উৎসাহ-উদ্দীপনার কাছে তা হার মেনেছে বারবার। তারই স্বাক্ষর রেখেছেন বিশ্ব দরবারে। নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে সদ্য সমাপ্ত রিও অলিম্পিকে ভারতের প্রথম নারী হিসেবে নারীদের একক ব্যাডমিন্টনের ফাইনালে রৌপ্য পদক জিতেছেন পিভি সিন্ধু।
সিন্ধু এখন শুধু একটি নাম নয়। তিনি গৌরজ্জ্বল ইতিহাস। তাকে নিয়ে গোটা ভারত এখন গর্বিত। কিন্তু সেই পাওয়াতেও আছে ‘না পাওয়ার’ খানিকটা খেদ। তা না হলে একবিংশ দশকের এসেও ভারতীয়দের জাত-পাত খোঁজার ‘বদঅভ্যাস’ গেল না। নয় তো পুরো দেশ যখন আনন্দে ভাসছে ঠিক তখন অন্ধ্র প্রদেশ আর তেলেঙ্গাতে গুগুল কেউ না কেউ সিন্ধুর জাত খুঁজে চলেছেন। তাও এক-দুবার নয়, লাখ লাখ বার।

দ্য নিউজ মিনিট (টিএনএম) নামে একটি সাইট দাবি করেছে, সিন্ধু জেতার পর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনন্ত ১০ গুণ বেশি সিন্ধুকে গুগলে খোঁজা হয়েছে। তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য। গুগলে খোঁজা হয়েছে তার জাত-পাত নিয়ে। অর্থনীতি, কূটনীতি, শিক্ষা বা অন্যান্য দিয়ে দিয়ে ভারতে বিশ্ব এগিয়ে গেলে এখনো দেশটির অনেক মানুষ ‘জাত’ প্রথান বাইরে বের হয়ে আসতে পারেনি। অনেকে অবশ্য এ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে এ নিয়ে ভারতের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কয়েকটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। এর একটির শিরোনাম ছিল ‘পিভি সিন্ধু যখন মেডেলের জন্য লড়াই করছে, তখন ভারতীয়রা গুগুলে তার জাত খুঁজছে’।

প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে, সিন্ধু যখন খেলায় তার সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছে ঠিক তখন হাজার হাজার ভারতীয় গুগলে তার জাত খুঁজতে ব্যস্ত। গুগল পরিসংখ্যানও বলছে, মানুষ যতটা না তার খেলা বা তার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তার থেকেও বেশি আগ্রহী তার জাত নিয়ে টানাটানি করতে।

টিএনএম তাদের দাবির স্বপক্ষে দুটি গ্রাফও হাজির করেছে। এতে দেখা গেছে, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সিন্ধুকে অন্তত ১০ গুণ বেশি খোঁজা হয়েছে। তাও সেটা তার জাত বা গোত্র খুঁজেছে ভারতীয়রা।
চাইলে নিজেও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। পিভি সিন্ধুর মা বা অন্য কিছু লিখে সার্চ দিন। দেখবেন সেটা খুব কম খোঁজা হয়েছে। তবে ‘পিভি সিন্ধু কাস্ট’ লিখে সার্চ কুরন দেখছেন সেটা কী পরিমাণে খোঁজা হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এরই মধ্যে সিন্ধু জাত খোঁজা হয়েছে অন্তত ১০ লাখ বার।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা গেছে, জুনে সিন্ধুর জাত নিয়ে গুগলে দেড় লাখ বার সার্চ করা হেয়েছে। জুলাইয়ে ৯০ হাজার বার। গড়ে মাসে ২১০ বার তার গোত্র খোঁজা হয়েছে। আর এ মাসে অলিম্পিকে সাফল্যের পর লাখ লাখ বার তার জাত খোঁজা হয়েছে গুগলে।
টিএনএম-এর গুগল ট্রেনডসের পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনকেও অনেকে ভুয়া বা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তবে টিএনএম, টিওআই বা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো গণমাধ্যম মিথ্যাচার করছে তার পক্ষে-বিপক্ষেও নানা মত রয়েছে।

কেউ বলছেন, উপিনিবেশিক বা ইউরোপীয় মনোভাব থেকে গণমাধ্যমগুলো আসলে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাই কেউ গুগলে সিন্ধুর সম্পর্কে খুঁজলে যে তার গোত্র নিয়েই খুঁজবে এমটা ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতের তো জাতপাতের একটা বিষয় আছেই। ভারতের এই জাত খোঁজার ইতিহাস ৫ হাজার বছরের পুরনো। তারা নিজের জাত রক্ষায় হত্যা পর্যন্ত করে। সেখানে নেটে কারো জাত খুঁজবে এটা অবিশ্বাস্য নয়। যদিও এসব যুক্তি ঠিক গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুই ধারণার বশবর্তী হয়ে গণমাধ্যম নিউজ করবে না।

আর আধুনিক যুগে কাউকে বোকা বানানো এতটা সহজ নয়। কারণ হাতের কাছেই গুগল। সেই সব তথ্য দিয়ে দেবে। সংখ্যার হেরফের করা যায় কিন্তু হাজারকে কখনো লাখ লাখ করা যায় না। যাই হোক না কেন জাত খোঁজা ভারতের জন্য নতুন নয়। যে দেশে আজও নিচু জাত বলে দলিতরা সমাজের তথাকথিত উঁচু জাতের মানুষের কাছে অচ্ছুৎ। সেখানে একজন খেলোয়াড় যিনি দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তার জাত খুঁজবে এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, অন্তত ভারতের জন্য তো নয়ই। টিএনএম, টিওআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইকোনোমিক টাইমস।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: