সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমরার ছোঁয়া তারার শরীলে লাগলিই তারা অফবিত্র হয়্যা যাইবোগি!

Moulvibazar news daily sylhetনিজস্ব প্রতিবেদক :: উৎসব এলেই ডাক পড়ে তাদের। ঢাক-ঢোল আর কাসর বাজিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় আনন্দের ঝর্ণাধারা। তবে উৎসবের রঙে মানুষকে রাঙালেও তাদের জীবনের রং যেনো হারিয়েছে সেই কবেই। এমনই এক জনগোষ্ঠীর নাম মৌলভীবাজারে বসবাসরত ‘শব্দকর’। দেশের নানা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকলেও শব্দকর’রা রয়ে গেছে আলোচনার বাইরে। ঢাক-ঢোল, করতাল এবং বাঁশি, শব্দকর’দের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাদ্যযন্ত্রে সুর তুললেও তাদের সংগ্রামী জীবন যেনো বেসুর। জীবনের রংটাও যেখানে ঢলে পড়েছে দিগন্তের আঁড়ালে। যদিও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার এমন গল্প বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে বাংলার অতিপ্রাচীন সংস্কৃতিকে। তবে একবিংশ শতাব্দীতেও উচ্চ বংশের নির্মমতায় আজ তা বিলীন হওয়ার পথে।

শব্দকরদের একজন বিনোদ রাম শব্দকর। যৌবনে অনেক ভূ-সম্পত্তি ও বিলাসী জীবন পার করলেও শেষ জীবনে তিনি প্রায় নিঃস্ব। অবহেলিত সমাজেও। তিনি বলেন, কোনো সমাজে আমরারে লয় না। অবহেলা করে। আমরার ছোঁয়া তারার শরীলে লাগলিই তারা অফবিত্র হয়্যা যাইবোগি। ভিটা-বাড়ি নাই, আমরার শিক্ষা নাই-দীক্ষা নাই, কোনো কিছু নাই।

সাম্প্রদায়িক বর্ণ-বৈষম্যে সুখ হারিয়েছেন বিনোদ রামের মতো অনেক শব্দকর। জেগে ওঠা দুঃখের চরে এখন কেউবা দিনমজুর, কারও জীবন রিক্সার প্যাডেলে আবার কারও জীবন কুলিবৃত্তে বন্দি। যাদের জীবনে অন্ধকার কাটে না বর্ণমালার আলোতেও। শব্দকর’দের এই করুণ পরিণতির কথা স্বীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। জীবনমান পরিবর্তনে দু’একজন এগিয়ে এলেও তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হক জানান, অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা আসলেই অনেক পিছিয়ে। তাদের শিক্ষা, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত সমস্যা রয়েই গেছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস জানান, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন দরকার। সবদিক থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের, যারা একই সমাজে বসবাস করি। তাদের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। এমন দূরবস্থায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চললেও এ যেনো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্মম উপলব্ধি, ‘ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবে না’। দিন শেষে কষ্টের দীর্ঘশ্বাসই তাদের সঙ্গী।

যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, চরম অবহেলা আর বর্ণবাদের শিকার হয়ে ইতোমধ্যেই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শব্দকর সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। একরকম স্বপ্নহীন, মূলহীন ও সম্পদহীন হয়ে পড়া এই অতিপ্রাচীন জনগোষ্ঠীকে সমাজে টিকিয়ে রাখতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: