সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বলিউডের দুঃসাহসী এক নারী স্টান্টের কাহিনী

bollywood stunt womenpic-2_124528_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বলিউডের শীর্ষ নারী স্টান্টদের মধ্যে তিনি একজন। ঝুঁকি নিতে এবং অজানা পথে পা বাড়াতে পছন্দ করেন। শুরুটা কিশোর বয়স থেকেই। তখন তিনি দুই সন্তান নিয়ে পালিয়ে যান হিংস্র স্বামীর কাছ থেকে বাঁচতে।

আগের দিনগুলোর ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে গীতা টেন্ডন বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই বলতো, আমাকে যদি ছেড়ে যাস, তুই ধ্বংস হয়ে যাবি। তোকে যৌনকর্মী না হয় ক্লাবে নগ্ন হয়ে নেচে বাঁচতে হবে। আমি তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এমন কিছু কখোনই করব না।’

মুম্বাইয়ের মতো একটি জনবহুল শহরে দুই সন্তান নিয়ে জীবন সংগ্রাম শুরু করলেন গীতা। একদিন এক নারী গীতাকে বললেন, তোমাকে দেখতে অনেকটা ‘টমবয়’-এর মতো লাগে। তুমি চাইলে স্টান্ট করতে পারো। তখন গীতা উৎসাহী হয়ে হ্যাঁ বলেছিলেন। এর আগে কখনো স্টান্ট হিসেবে কাজ করেননি গীতা। কিন্তু তিনি কাজটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইলেন না।

কিছু দিন পর ‘সাকিরা’ নামে একটি হিন্দি সিরিয়ালের সেটে স্টান্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান গীতা। তার কাজটি ছিল একটি ভবনের কিনারা থেকে লাফ দেয়া। তার জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেয়া হলো। শুটিং ইউনিটের ক্রু’রা তাকে আশ্বস্ত করলেন, কোনো ক্ষতি হবে না তার। তবে তাদের কথায় স্বস্তি পাচ্ছিলেন না গীতা।

‘ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।’

তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল। ভয়ে বুক ধুকধুক করছিল। তার এই অবস্থা উপস্থিত কাউকে বুঝতে দেননি। লাফ দেয়ার জায়গায়টি ছিল অনেক উঁচুতে।

‘কাজটি খুব প্রয়োজন ছিল আমার। আর এটি ছিল আমার জন্য ভালো একটি সুযোগ।’

গীতা ক্রুদের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করেন। তিনি ভবনটি থেকে লাফ দেন। সবাই খুব খুশি হয়। সফলভাবেই কাজটি করতে পারলেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাননি গীতা।

মাত্র নয় বছর বয়সে মাকে হারান গীতা। মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে চার মেয়েকে লালন-পালন শুরু করেন তার বাবা। তারা প্রায়ই অনাহারে থাকতেন।

স্কুলে যাওয়ার পয়সা ছিল না তাদের। তাই গীতা বাড়ি থেকে পালিয়ে ছেলেদের সঙ্গে মাঠে ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলায় মেতে থাকতেন।

গীতা আসলেই টমবয় ছিলেন। তার চেয়ে দুই বছরের বড় ছেলেদের চেয়েও তিনি ভালো ক্রিকেট খেলতেন বলে তিনি জানান।

গীতা বলেন, ‘আমার বোন প্রায়ই মন খারাপ করে বলতেন, মেয়েদের মতো আচরণ কর। ছেলেদের পোশাক পরা বাদ দে। কিন্তু আমি কখনোই তার কথা শুনিনি।’

মেয়ের দুঃসাহসিক আচরণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন তার বাবা।

গীতা বলেন, ‘বাবা বুঝতে পেরেছিলেন আমি একেবারেই আলাদা।’

ছেলেরা আমার কাছ থেকে সুযোগ নিতে পারে, এই চিন্তায় বাবা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই ১৫ বছর বয়সে স্বচ্ছল পরিবারের এক ছেলের সঙ্গে আমাকে বিয়ে দিয়ে দেন।

বিয়ের প্রথম দিকে গীতা বেশ উচ্ছস্বিত ছিলেন। অভাব-অনটনহীন একটি সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন গীতা। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পার না হতেই সব মোহ ভেঙে যায় তার।

গীতা টেন্ডন বলেন, ‘আমার তখন বয়স খুব কম ছিল। শারীরিক সম্পর্কের জন্য আমি তখনো প্রস্তুত ছিলাম না। তবু আমার স্বামী জোর করে সবকিছু করতো। দীর্ঘ সময় ধরে আমার ওপর নির্যাতন চলতো। সে আমাকে প্রতিদিনই মারধোর করতো। তার প্রচণ্ড মারধোরের কারণে আমার মাথা ঝিমুনি রোগে ভুগতে শুরু করি। ’

গীতা দুবার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি ভাবলেন, সন্তান হলে হয়তো তার ওপর অত্যাচার কমবে। পর পর দুটি সন্তান নিলেন। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হলো না।

‘বিয়ের পর প্রতিটা দিন ছিল আমার জন্য নির্যাতনের’ বলে তিনি বলেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, হিংস্র স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে হলে পালাতে হবে। তিনি সন্তানদের নিয়ে একটি মন্দিরে আশ্রয় নিলেন। তিনি জানতেন এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

গীতা টেন্ডন বলেন, ‘আমি ভিক্ষুক হতে চাইনি। আমি জানতাম আমাকে কাজ খুঁজে নিতে হবে। তাই বাড়ি ছেড়েছিলাম।’

এরপর গীতাকে কাজের খুঁজে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। একটি কাজ পেয়েছিলেন সেখানে তাকে প্রতিদিন ২৫০টি রুটি বানাতে হতো। এরপর নারীদের বডি মাসাজের কাজ নেন। কিন্তু অন্য কিছু করতে চাচ্ছিলেন গীতা। তার চাচা একটি নাচের দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেন। কিন্তু ভালো নাচতে পারতেন না গীতা।

তারপরই স্টান্ট উইমেন হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। খুব দ্রুত তার সুনাম বলিউডে ছড়িয়ে পড়লো। তবে কাজটি তার জন্য সহজ ছিল না।

গীতা বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় কাজটি করতে গিয়ে শুটিং সেটে আগুনে দগ্ধ হয়েছিলাম। আগুনের শিখা আমার ঠোঁট, চোখের ভ্রু এবং মুখের কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল। আমাকে দু’মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।’

আরেকটি কাজ করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে ব্যথা পেয়েছিলেন গীতা।

বলিউডে বর্তমানে শতাধিক ব্যক্তি স্টান্টের কাজ করেন। তারমধ্যে গীতা সবচেয়ে দক্ষ এবং সাহসী। তিনি যেসব কাজ করেন খুব কম সংখ্যক নারীই এসব দুঃসাহসিক কাজ করতে রাজি হন। কিছু মানুষ নারীদের এই ধরনের কাজকে সমর্থন করে না। তবে তাতে কিছু মনে করে না গীতা।

গীতা বলেন, ‘আমি ১৫ বছর বয়সে বিবাহিত ছিলাম। এই সমাজ তখন আমাকে সহযোগিতা করেনি, সমর্থন করেনি। তাহলে সমাজ আমাকে নিয়ে কি ভাবছে তাতে আমি কেন কান দিব?’ সূত্র: বিবিসি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: