সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফেসবুকে বাবাকে খুঁজে পাওয়া

asd-1আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘অভিনন্দন আমরা তোমার বাবাকে খুঁজে পেয়েছি’ ইনবক্সে মেসেজটি দেখে আনন্দে আত্মহারা ফারিয়া। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না নিজের চোখকে। এত বছর ধরে যে বাবাকে তিনি খুঁজছেন আজ তাকে পেয়ে গেছেন।
৩৯ বছর পর বাবাকে খুঁজে পাওয়ার পর আনন্দে ফারিয়া আপন মনেই বলে ওঠলেন, ‘খবরটি পাওয়ার পর প্রথম প্রথম আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তবে আমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে এ বিশ্বাস ছিল।’
ফারিয়া বড় হওয়ার সময় তার মায়ের কাছে বাবা কেমন ছিলেন তা জানতে চাইতেন। মা বলতেন, ‘আয়নার দিকে তাকাও, তুমি তোমার বাবার মতো করেই কথা বলো, হাঁটো। এমনকি তার মতো করেই যুক্তি দাও।’ তবে তার কাছে বাবার কয়েকটি সাদাকালো ছবি ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

রাশিয়ান বাবা সীদ আহমেদ শারিফ ও সোমালীয় মায়ের ঘরে ১৯৭৬ সালে লেলিনগ্রাদে জন্ম হয় ফারিয়ার। তার জন্মের পর ফারিয়ার বাবা-মা বিয়ে করার পরিকল্পনা করেন। এরই মধ্যে ফারিয়ার বাবা শারিফ তৎকালীণ সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়ার সুযোগ পান। তবে ভাগ্য খারাপ বেজে ওঠে যুদ্ধের ডামাডোল। সোমলিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার যুদ্ধ বাধে। এ যুদ্ধে তখন ক্রেমলিন ইথিওপিয়াকে সমর্থন করে। ওই সময় সোমালীয় সরকার সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকা তাদের সব নাগরিককে দেশে ফিরতে বলে। ফারিয়ার বাবা বাধ্য হয়েই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে তাকে আর তার মাকে সেখানে রেখে দেশে চলে যান। যাওয়ার মোগাদিসুতে তার বাবার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে যান।

ফারিয়া বাবা সম্পর্কে বলেন, ‘আমি পরে জানতে পেরেছি বাবা আমাদের এভাবে রেখে চলে যেতে চাননি। তবে পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই অবস্থায় আমাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রাখাও সম্ভব ছিল না।’
ফারিয়ার বাবার অভাব ছিল ঠিকিই, কিন্তু তার শৈশব কেটেছে আনন্দেই। তিনি বলেন, ‘মায়ের ভালোবাসা ঘিরে ছিল আমাকে। আমার আত্মীয়-স্বজনরা এতটাই ভালোবাসা দিয়েছে যাতে আমার মতে হতো আমি বিশেষ কেউ। অন্যদের থেকে আমি একটু আলাদা দেখতে ছিলাম। আমি আমাকে নিয়ে গর্ব বোধ করতাম। এমনকি আমার স্কুল, কলেজের বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকরা বলতেন আমি অন্যদের থেকে আলাদা।’

আমার যখন ১২ বছর বয়স তখন বাবাকে খুঁজে বের করার ইচ্ছা জাগে মনে। মনে হয়, বাবাকে খুঁজে বের করতে আমাকেই কিছু করতে হবে। তবে তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে রাশিয়া হয়ে গেছে। আরা দেশের ক্ষমতা মিখাইল গর্ভাচেভ।

বাবার রেখে যাওয়া ঠিকানায় ফারিয়া অনেক চিঠি লিখেছে। কিন্তু প্রতিবারই চিঠি ফেরত এসেছে। রাশিয়ার যেসব সংস্থা যুদ্ধের সময় হারিয়ে যাওয়া আফ্রিকান বাবাদের খুঁজে দিত তাদের এবং রেড ক্রসের সঙ্গেও ফারিয়া যোগাযোগ করেছে। তবে কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। এছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বা দূতবাসগুলোয়ও যোগাযোগ রেখেছিলেন ফারিয়া। তবে সোমালিয়ায় যোগাযোগ করা আসলেই কঠিন ছিল ওই সময়।
১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। দুই দশক পর তা শেষ হয়। এরপর সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চল হয়। এটাই নতুন আশা জাগায় ফারিয়ার মনে।

রাশিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া ‘ভোকানতাকত’ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের দেখা করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সহায়তার হাত বাড়ায়। ফারিয়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তার বাবার ছবি পাঠায়। ভোকানতাকত-এর ডিক ইনস্ট্রাগ্রামে ও অন্যান্য জায়গায় ফারিয়ার বাবকে খুঁজতে শুরু করে। সোমালিয়ার সরকারের সঙ্গেও ডিকের ভালো সম্পর্ক ছিল। এরপর গত ১৬ মার্চ ফারিয়ার ফেসবুকে একটি রিকোয়েস্ট আসে। যা নরওয়ে থেকে পঠিয়েছিল তার সৎ বোন। তাদের সঙ্গেই নরওয়ের অসলোতেই থাকতেন ফারিয়ার বাবা।
স্কাইপে কয়েক সপ্তাহ কথা বলার পর ফারিয়া তার স্বামী ও মাকে নিয়ে বাবার সঙ্গে অসলোতে দেখা করতে যান। ফারিয়া বাবাকে দেখার পর বলেন, ‘আমি তাকে যেমনটি কল্পনা করেছিলাম তিনি তেমনই। আমরা একই কায়দায় হাঁটি। একই স্বরে কথা বলি। যদিও এটা ছিল অবিশ্বাস্য।’

ফারিয়ার বাবা মেয়েকে পাওয়ার পর বলেন, ‘আমিও তোমাদের অনেক খুঁজেছি। কিন্তু ততদিনে তুমি আর তোমার মা ঠিকানা বদলে ফেলেছ।’

চার দশক পর বাবাকে ফিরে পাওয়ার এ কাহিনি ‍নিজেই বিবিসিকে জানিয়েছিলেন ফারিয়া। সঙ্গে এও জানান, সেন্ট পিটাসবার্গে আবারও তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: