সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মনে হয়েছিল আর বাঁচবো না’

Shoranjid20160821003656নিউজ ডেস্ক :: ‘২১ আগস্ট আমাদের রাজনীতিতে খুবই দুর্ভাগ্যজনক, খুবই আকস্মিক ঘটনা। কেন করল তারা (বিএনপি) এটা? কারণ, তারা এটারই ফল পেয়েছে, ১৫ আগস্টে ফল পেয়েছে। এবার তারা ভাবল যে, না কাউকে রাখা যাবে না। তারা সেখানে প্রকাশ্য জনসভায় চর্তুদিক থেকে গ্রেনেড মারতে শুরু করল, চারদিকে শুধু গ্রেনেডের শব্দ। মনে হল যে, আর বাঁচবো না’।

রাজনীতিতে নেতৃত্ব শূন্য করতে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি জনসভায় গ্রেনেড হামলার সেই ভয়াল ২১ আগস্ট রোববার। সেদিনের সমাবেশে উপস্থিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

সাবেক মন্ত্রী বর্তমানে সংসদের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রাজধানীর ঝিগাতলার বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে বা গভীরভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায় একটা পার্থক্য আছে। তখন ২০০৪ সালে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ছিল, পার্লামেন্ট ছিল, পাশাপাশি আমরাও ছিলাম। তখন বিভিন্ন জায়গায় গ্রেনেড দিয়ে আক্রমণ শুরু করল, কোনোটা সফট টার্গেট, কোনোটা হার্ড টার্গেট। আমার এলাকা সুনামগঞ্জেও আক্রমণ করা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপরও আক্রমণ করা হয়’।

‘সরকারে থেকে (বিএনপি) যে উপায় বের করল, এ উপায়টা বিএনপি পলিটিক্যাল ডিভাইডেশন হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটা বিএনপি থেকে এসেছে, এটা ২০ দল থেকে এসেছে। এর প্রতিবাদে আমরা একটা হরতাল ডেকেছিলাম। এর মধ্যে সমরাস্ত্র নিয়ে একটা প্রকাশ্য প্রতিবাদী জনসভায় এভাবে আক্রমণ করবে, এটা ১৫ আগস্ট থেকে আরও দুই স্টেপ এগোনো ছিল।

সুরঞ্জিত বলেন, ‘সেদিন অন দ্য স্পটে ২৪ জন মারা গেলেন। এটা আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড। কি নির্মম এবং নিষ্ঠুর এটা না দেখলে বোঝা যায় না। সবাইকে হতবাক করে দিল’।

ভয়াল সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আজও শরীরে ২৬টি স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছি। এটা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের আইভি রহমান মারা গেলেন, হানিফ প্রাণ দিলেন। আমাদের নেত্রী, আমরা কোনোমতে বেঁচে গেছি’।

তিনি বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের কথা বলা হয়। তখন গণতন্ত্র ছিল না? আমরা পার্লামেন্টে গেছি, গিয়ে বলেছি যে, অন্তত একটা শোক প্রস্তাব করেন, তাও করেন নাই। বরং তারা হাসেন, বিদ্রুপ করেন, পরিহাস করেন। এটা কি গণতন্ত্রের প্রতি কমিটমেন্ট? তাদের কমিটমেন্ট, সবাইকে মারবেন, আবার ক্ষমতায় থাকবেন। এটা কি গণতান্ত্রিক দর্শন হয়?’

‘যদিও তাদের এটার ফল হয় নাই, নিষ্ফল হয়েছে। তারা আরও চিত্রিত হয়েছেন অন্যভাবে। তাই রাজনীতি আজ বাঁকা পথে চলছে। তারা (বিএনপি) জাতীয়, আন্তর্জাতিকভাবে করুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু সফল হয়েছে যে, সমরাস্ত্র মহড়া দিতে পেরেছিল। তারা বিভাজনের রাজনীতিকে আরও প্রশস্ত করেছেন, ভয়-আতঙ্কের রাজনীতিকে আরো বড় করেছেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল দর্শন পরমতসহিষ্ণুতা থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছেন’।

এক যুগেও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হল না এখন প্রত্যাশা কি?- জানতে চাইলে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আমাদেরতো বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই চলতে হবে। নতুন জজ এলেন, তদন্ত করতে হয়েছে। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ে। আশা করি, এবারে হয়ে যাবে। আমরা (মন্ত্রণালয়কে) চাপ দিয়ে রাখছি। তবে এ বিচারের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও অনেক পরিবর্তন আনবে, আরও অনেক গুরুত্ব বহন করবে। এর থেকেও একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে। বিচার হওয়া উচিত এবং হবে’।

‘ভয়াল সেই ২১ আগস্ট বিএনপিকে কেন দায়ী করা হয়’- এর জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ, বিএনপি তখন ক্ষমতায়। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বক্তৃতা করছিলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব সরকারের, বিরোধী দলের না। বরং তারা উল্টো মূহর্মূহু বোমা মারা শুরু করল। সরকারের সেই হামলার আলমত রাখার কথা ছিল। তারা তা রাখে নাই। এফবিআইকে তারা সাহায্য করেনি। জজ মিয়া নাটক করে সেটাতেও ধরা খেয়ে গেছে। ফলে এটা নিয়ে আর প্রশ্ন রাখার উপায় নেই’।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে রাজনীতি করতে হলে ওই ঘটনার দায় তাদের নিতে হবে এবং তাদের বলতে হবে, আমাদের ওই রাজনীতি ভুল ছিল। আমরা ভবিষ্যতে আর এই রাজনীতি করবো না, এখন নিছক গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে চাই। আমরা মারামারির দল না, আমরা শান্তিপূর্ণ পার্টি- এটাও তাদের বলতে হবে। আর গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা এটা মেনে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে। স্বাধীনতার দুইটা কিচ্ছা নিয়ে চলতে পারে না’।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: