সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘প্রতিদিন ভোর পাঁচটার সময় মেকআপ নিয়ে শুটিংয়ে যেতে হতো’

5_0বিনোদন ডেস্ক :: শবনম বুবলি দীর্ঘদিন টিভিতে সাংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর রূপালি পর্দায় এসে কপালে নায়িকা তকমা লাগিয়েছেন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একটু একটু করে এগিয়ে চলছেন। বাংলা চলচ্চিত্রে এ বছরই তার অভিষেক হয়েছিল শামীম আহমেদ রনীর পরিচালনায় ‘বসগিরি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। এখানেই থেমে থাকেননি। প্রথম ছবি মুক্তি না পেতেই রাজু চৌধুরীর পরিচালনায় ‘শুটার’ নামে আরেকটি ছবিতে অভিনয়ের জন্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। দুটি ছবির শুটিংই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুটি ছবিই আসছে ঈদে সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় রয়েছে।

শুটিংয়ের জন্য গত ৫ আগস্ট থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন তিনি। ঈদের জন্য নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বসগিরি’ ছবির জন্য টানা নয়দিন ধরে ব্যাংককের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে চারটি গান আর বেশ কয়েকটি দৃশ্য শুটিং হয়েছে। ১৬ আগস্ট ঢাকায় ফিরে একদিন বিশ্রাম নিয়ে আবারও শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং পাশাপাশি নানান মজার ঘটনা জানালেন তিনি। দেশের বাইরে শুটিংয়ের যে নতুন অভিজ্ঞতা তাও জানাতে ভুললেন না।

শবনম বুবলি বললেন, ‘প্রতিদিন ভোর পাঁচটার সময় মেকআপ নিয়ে শুটিংয়ে যেতে হতো। আর আমাদের নৃত্যের কোরিওগ্রাফার আদিল শেখের নৃত্যের যে দলটা ছিল তারা প্রত্যেকেই কাজের বিষয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। প্রত্যেকটা গানের শুটিংয়ের আগের দিন আমাদেরকে বেশ সময় নিয়ে নাচের বিভিন্ন মুদ্রা দেখিয়ে দিতেন। আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আদিল শেখ তো সালমান খানের মতো অভিনেতার সাথে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আমার নাচের মুদ্রাগুলো তাড়াতাড়ি তোলার বিষয়টি নিয়ে বেশ প্রশংসা করেছেন।’

ঢাকাই ছবির এই নায়িকা জানান, থাইল্যান্ডের নয়নাভিরাম লোকেশনে ছবিটির গানগুলোর চিত্রধারণ হয়েছে। সেসময় প্রচণ্ড গরম ছিল। দেখা গেল নায়িকা কিংবা নায়ক মেকআপ নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন, একটি সিকোয়েন্সের দৃশ্যধারণ সম্পন্ন না হতেই আবার মেকআপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এসব কিছুই তাদের ভাবনায় ছিল না। বিশেষ করে তাদের স্ক্রিনে দেখতে কেমন লাগবে সেটিই ছিল মুখ্য বিষয়। যার কারণে শুটিংয়ের সময় বেশ কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল শবনম বুবলিকে।

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে আদনান সামির গাওয়া ‘ভার দো ঝোলি মেরি’ গানের কোরিওগ্রাফি করেন আদিল শেখ। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছাড়াও ‘মেরে ড্যাড কি মারুতি’, ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’, ‘বাচনা এ হাসিনো’সহ বেশকিছু আলোচিত ছবির কোরিওগ্রাফি করেছেন আদিল শেখ। আর থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও পাতায়ায় ‘বসগিরি’ ছবির যে চারটি গানের চিত্রায়ন হয়েছে সেখানে সব গানের কোরিওগ্রাফি করছেন আদিল শেখ। তাই কথায় কথায় বারবার ঘুরে ফিরে কোরিওগ্রাফার আদিল শেখের নামটি চলে আসে।

আদিল শেখের সঙ্গে তার শুটিংয়ে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বুবলি বললেন, ‘আদিল শেখ বলেছেন, বাংলা সিনেমা সম্পর্কে তিনি নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন। আর আমাদের সিনেমার চারটি গানেরই বেশ প্রশংসা করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন ভিন্নতার কথা। আর চারটা গানের কোরিওগ্রাফি চাররকম। রোদে পুরে ঠিকঠাক মেকআপ না থাকলেও আমরা কষ্ট করে কাজগুলো করাতে তারা বেশ আনন্দিত হয়েছিলেন। তিনি আমাকে নাচের বিভিন্ন মুদ্রা তোলার বেশ কিছু পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। যার কারণে আমার জন্যে কাজগুলো করা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। এক কথায় দারুণ একটা মানুষ তিনি। শুটিংয়ের সময় চারপাশ নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতেন।’

এর আগে কোনো গানের সাথে রূপালি পর্দায় নাচের দৃশ্যে দেখা যায়নি শবনম বুবলিকে। তবে নাচতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। বরং নাচের দৃশ্যধারণের পর অন্যরা বেশ প্রশংসাই করেছে বলে জানান তিনি। শবনম বুবলি বলেন, ‘এর আগে নায়ক শাকিব খান কিংবা পরিচালক আমার নাচ কখনো দেখেননি। আদিল শেখ আমাদের পরিচালককে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন নায়িকা কি এর আগে কখনও পর্দায় কোনো গান কিংবা অন্য যে কোনো দৃশ্যধারণের সময় নেচেছেন? তিনি বলেছেন না। কারণ আমার তো এর আগে নাচের দৃশ্যের শুটিংই তো হয়নি। তখন পরিচালক তাকে অভয় দিয়ে বলেছেন সমস্যা নেই। নায়িকা নাচের মুদ্রাগুলো ঠিকই তুলে ফেলবেন। তারপরও একটু দ্বিধাদন্ধে ছিলেন। আসলে কি হবে? যখন নাচের দৃশ্যধারণ করা হল তখন সবাই তো বিস্মিত। আর বেশ প্রশংসা করেছেন।’

সময় নিয়ে বরাবরই সচেতন শবনম বুবলি। ঢাকাই সিনেমাতে অভিনয় করতে এসে সেই পুরনো ছকেই আটকে থাকা বাংলা সিনেমা কিংবা এর মানুষদের সম্পর্কে যেমন শুনেছেন ঠিক তেমনটাই দেখছেন। কিন্তু থাইল্যান্ডে শুটিং করতে গিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। এ নিয়ে বুবলির ভাষ্য অনেকটাই এরকম, ‘ওখানে তো সবকিছুই সময়মত করা হতো। তারা জানত এটা আমার প্রথম চলচ্চিত্র। তারাও ভাবছিলেন কেমন না, কেমন যেন হবে। কিন্তু প্রত্যেকটি দৃশ্যধারণ হওয়ার পরে তারাই বেশ প্রশংসা করছিলেন।’

নতুন অভিজ্ঞতা। দারুণ সব অনুভূতি। কিন্তু বাংলাদেশের ছবির সাথে বলিউডের ছবির কাজের ভিন্নতা ঠিক কি লক্ষ্য করলেন? জানতে চাইলে বুবলি বললেন, ‘বলিউডের সাথে আমাদের কাজের পার্থক্যটা আসলে কোথায়? তারা একটি গানের জন্যে ১২ দিন রিহার্সেল করে এরপর দৃশ্যধারণ করেন। তাহলে গান তো ভালো হবেই। নতুনত্ব কিংবা ভিন্নতা থাকবেই। আর আমাদের এখানে একটা সময় পারলে তো একদিনেই একটি গানের দৃশ্যধারণ সম্পন্ন করা হতো। যদিও এখন সে ধারাটা পাল্টেছে। আর একটা বিষয় বলতেই হবে আমার প্রতি তারা যে সম্মান দেখিয়েছে সত্যিই মুগ্ধ। বিশেষ করে যখন ক্যামেরার সামেনে দাঁড়াচ্ছি কিংবা দৃশ্যধারণগুলো ভালো হচ্ছে, তখন সবাই কাজের বিষয়ে খুব সাহস জুগিয়েছে।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: