সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে অর্ধশত স্পটে রমরমা জুয়ার আসর

dailysylhetnews_juarasorবিশেষ প্রতিবেদক ::
কোনো এক সময় সিলেটে হাতেগোনা কয়েকটি জুয়ার স্পট ছিল। তাও আবার জুয়াড়িরা লুকিয়ে খেলতেন। কেননা, প্রায়ই পুলিশ জুয়াড়িদের আস্তানায় হানা দিত। এখন পুলিশের লাইনম্যান এসব স্পট থেকে টাকা তোলেন। তাই এসব স্পটে আর পুলিশি অভিযান হয় না। এর ফলে প্রকাশ্যে রমরমা জুয়ার আসর বসে। আর দিন দিন নতুন নতুন স্পটের সংখ্যা বাড়ছে। সিলেট নগরী ও এর আশপাশ এলাকা মিলিয়ে জুয়ার স্পটের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে। তবু যেন টনক নড়ছে না পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের । লাইনম্যানের টাকার ভাগ ওপর মহলে যায় কিনা-প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর লামাবাজারে মদনমোহন কলেজের পাশের গলিতে একটি ক্লাবে তিন ব্যক্তি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়ার আসর বসান। এখানে আশপাশ এলাকার তরুণরা জুয়া খেলে। জুয়ার আস্তানার পাশেই মোদনমোহন কলেজের মেস থাকায় সেখান থেকে ছাত্ররাও এসে আসরে যোগ দেয়। অভিযোগ আছে, এখান থেকে পুলিশের একজন লাইনম্যান টাকা তোলেন। তাই কখনো জুয়াড়িদের এ আস্তানায় পুলিশি অভিযান হয়নি।

কাজিরবাজার মাছের আড়ৎ এলাকায় জনৈক ব্যক্তি ভারতীয় তির খেলা নামের জুয়ার আসর বসান। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত মদ-গাঁজার আসরও বসে।
নগরীর সুরমা মার্কেটের ভেতরে ৩য় তলার ওপর হকারদের নামে কয়েকজন জুয়াড়ি তির খেলা নামের জুয়ার আসর বসান। এটি দিনদুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। তারা ফুটপাতের হকারদের নামে অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। অথচ অফিসে বসিয়েছে জুয়ার আসর। পাশেই বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। কিন্তু কোনো অভিযান নেই।

আদালত পাড়ায় শত শত মানুষ আসেন প্রতিদিন। এসব মানুষকে টার্গেট করেই বটতলায় বসে তির খেলার আসর। জনৈক মহরির ও গোয়াইনঘাটের স্বপন তির খেলার নামে লোকজনের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে দেড়শ’ থেকে হাজার-হাজার টাকা। টোকেন দিয়ে টাকা নিয়ে সন্ধ্যার পর ফলাফল দেখতে বলা হয়। আদালতপাড়াও বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের আওতাধীন। কিন্তু ওদের ধরা হচ্ছে না।

নগরীর রিকাবিবাজারের ‘সোবহান মামু’র দোকানে বসে তিন তাসের খেলা। কুয়ারপার গলিরমুখে বসে তির খেলার আসর। লালাদিঘিরপারের হেলালের কলোনীতে বসে তিন তাসের জুয়ার আসর বসে। তালতলায় নন্দিতা সিনেমা হলের নিচে, সাদি গেস্ট হাউসের সামনে বসে তিন তাসের জুয়ার আসর। এসব আসর থেকে পুলিশের লাইনম্যান নিয়মিত টাকা তোলেন। তাই পুলিশি অভিযান হয় না।

সিলেট শহরতলিতেও দিন দিন বাড়ছে জুয়ার আস্তানা। উঠতি কয়েকজন তরুণ দোকান বা বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসায় রমরমা জুয়ার আসর। প্রতিনিটি স্থানেই পুলিশের লাইনম্যানেরা মাসোহারা টাকা নিয়ে থাকেন। এর ফলে খুব সহজেই গড়ে ওঠছে জুয়ার নতুন নতুন স্পট। শহরতলির তেমুখী পয়েন্টে একটি দোকানে বসে তিন তাসের আসর। পীরপুরের একটি বাড়িতে তির খেলার আসর বসে। সেখানে ১০ টাকায় ৭০০ টাকা লটারি বাজার টিকিট বিক্রি করে খেলা হয়। একইভাবে কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ডেও তির খেলা হয়ে থাকে। মদিনা মার্কেটে ম্যানেজারের গলিতে একটি বাসায় তিন তাস খেলা হয়।

এদিকে, দক্ষিণ সুরমাকে যে-কোনো অপরাধের স্বর্গরাজ্য বলা হয়। সেখানেও আছে অন্তত ১৫ টি জমজমাট জুয়ার আস্তানা। কুমিল্লা পট্টির কালা মানিক এখন কিনব্রিজের নিচে আখতারের কলোনীতে তিন তাসের জুয়ার আসর বসিয়েছেন। কালা মানিক মদের ব্যবসায়ও জড়িত। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মাদক মামলা আছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কালা মানিককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না; উল্টো প্রকাশ্যে কিনব্রিজের নিচে আখতারের কলোনিতে গভীর রাত পর্যন্ত চালায় রমরমা জুয়ার আসর। ব্রিজের নিচে তাহের নামের একজনের বাসায় তির খেলার আসর বসে।
কদমতলির বালুর মাঠ এখন অপরাধের সবচেয়ে বড় জোন। এখানে মাদক, পতিতাবৃত্তি, জুয়া-কোনোটিই বাকি নেই। বালুর মাঠের জুয়ার আস্তানার মদদ দিচ্ছেন গিরিঙ্গি বাবুল ও ঝাড়– মিয়া।

সিলেট রেল স্টেশনের পাশে আসমা ম্যানশনে একটি দোকানে, রেল স্টেশনের পানির ট্যাঙ্কির চান্দের বাড়ি, হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পিচ্চি বাবুল তির খেলার আসর বসান। পুলিশি ধরপাকড় না থাকায় দক্ষিণ সুরমায় দিন দিন জুয়ার আস্তানা বিস্তার লাভ করছে। দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের ভালকি টিলার ওপর জনৈক ব্যক্তি জুয়ার আসর বসান। বিশ্বনাথের টেংরা বাজারে একটি বাড়িতে তিন তাসের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরটি বসে।

জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মূসা বলেন, আমি প্রশিক্ষণে আছি। আসার পর তালিকা করে আস্তানাগুলোতে অভিযান চালাব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, এসব স্পটের ব্যাপারে অনেকেই জানিয়েছেন। তালিকা হচ্ছে। অভিযান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: