সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রিওতে ‘বাংলার বাঘিনী’র স্বর্ণ জয়

full_307705795_1471755974স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ কখনও অলিম্পিকে কোনো কোনো পদক জিততে পারেনি। তবে এবার রিওর আসরে একটি সোনার পদকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নামও। বাংলাদেশকে গর্বে ভাসিয়ে ভারসাম্যের অসামান্য নিদর্শন আর দুর্দান্ত শারীরিক কলাকৌশল দেখিয়ে জেতা রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের সোনার পদকটি বাংলাদেশেরও বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি বাবা আর রুশ মার ঘরে জন্ম নেওয়া মার্গারিতা মামুন।

মস্কোতে জন্ম নেওয়া ২০ বছর বয়সী মামুন গেমসের পঞ্চদশ দিনে বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্য রাতে ব্যক্তিগত অল আরাউন্ট ইভেন্টে সোনা জেতার পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘এই জয় দুই দেশের জন্য’। বাংলাদেশ এবং রাশিয়া। বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে।

মস্কোতে জন্ম নেওয়া মামুনের বাবা মেরিন প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাশিয়াতে বসবাস করেন। মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট আন্নার কাছ থেকেই দীক্ষা পেয়েছেন তিনি।

বাংলার বাঘিনী খ্যাত এই রাশিয়ান তরুণী প্রতিযোগিতার অল অ্যারাউন্ড ইভেন্টে ৭৬.৪৮৩ পয়েন্ট পেয়ে স্বর্ণ জিতেছেন।

আশির দশকে আবদুল্লাহ আল মামুন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশোনা করতে গিয়ে সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হন। রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে এর আগে বিশ্ব রেকর্ডও করেছিলেন মার্গারিটা। হিটে প্রথম হয়েই ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। সেখানে চার ইভেন্ট হুপ, বল, ক্লাব ও রিবনে তার সর্বমোট স্কোর ছিল ৭৪.৩৮৩। ফাইনালে হিটের স্কোরকেও ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।

স্বর্ণ জয়ের পথে মার্গারিটা পেছনে ফেলেন ফেভারিট ও তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানা কুদ্রিয়াভৎসেভাকে। ফাইনালে প্রতিযোগিতার হুপ ও বলের রুটিন শেষে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই ছিলেন ইয়ানা। কিন্তু ক্লাব-পারফরম্যান্সের শেষ মুহূর্তে ভুল করে বসেন। ক্লাব উপরে ছুড়ে ফ্লোরে গড়িয়ে ধরতে পারনি। বাড়িয়ে থাকা হাতকে ফাঁকি দিয়ে তা পড়ে যায় ফ্লোরে। এতে অনেকটাই এগিয়ে যান মামুন। সর্বমোট ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সেরা হন মামুন। শেষ পর্যন্ত ৭৫.৬০৮ স্কোর করে রুপা জেতেন ইয়ানা। অলিম্পিক পদক এখনো অনেক দূরের স্বপ্ন বাংলাদেশের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশ নেওয়া এখনো ‘অভিজ্ঞতা অর্জনের’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত মার্গারিটার অলিম্পিক-সাফল্য গর্বিত করছে বাংলাদেশকেও।

স্বর্ণ পদক জয়ের পর মার্গারিটা মামুন বলেন, “আজ আমার স্বর্ণের পদক জেতাটা খুবই অপ্রত্যাশিত। কারণ আজকের আগে অল অ্যারাউন্ডে ইয়ানা আমাকে হারিয়ে প্রতিবার জিতেছে। তাই আমি আজকে স্বর্ণের পদক জিতবো তা আসলেই ভাবিনি।”

মামুন খুবই আনন্দিত যে তার জয় তার বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি এটা জেনে খুব খুশি যে বাংলাদেশের অনেক ভক্ত আমাকে সমর্থন করছে। আমি বাংলায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারি। যখন ছোটো ছিলাম, আমার বাবা আমাকে বাংলা শেখাতেন; কিন্তু আমি সব ভুলে গেছি।”

জুনিয়র পর্যায়ে একবার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা মার্গারিটা মামুন বলেন, “আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল, তাই আমি জুনিয়র হিসেবে একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি সবসময় রাশিয়ায় থেকেছি আর অনুশীলন করেছি দেখে এরপর আমি রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করি।”

গত কয়েক বছরে এই অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন রিটা। এর মধ্যে জিতেছেন রাশিয়ার রিদমিক জিমন্যাস্ট দলের প্রধান কোচের মনও। আর তাই তো সে কোচ রিটার নাম দিয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগ্রেস’ বা ‘বাংলার বাঘিনী’। তার এই বিশেষ নামটি আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: