সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্রাজিলকে স্বপ্নের সোনা জিতিয়ে নেইমারের চোখে আনন্দাশ্রু

full_1493884279_1471753167নিউজ ডেস্ক: ইব্রেকারে জার্মানিকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে অলিম্পিকের সোনা জিতল ব্রাজিল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবলের সব ক্ষেত্রের শিরোপা জিতল ব্রাজিল। এর আগে নির্ধারিত ও যোগ করা সময়ে ম্যাচ ১-১ ব্যবধানে ড্র থাকে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে চির–আক্ষেপ হয়ে ছিল অলিম্পিকের সোনা। ‘চাপ’ কে জায় করে, নেইমারের শেষ শর্টে সেই স্বর্ণ ঘরে উঠল ব্রাজিলের।

নিয়তিই বোধ হয় ঠিক করে রেখেছিল, টাইব্রেকারে নেইমারের শটটাই হবে নির্ধারক। প্রথম চার শটে দুই দলই গোল করার পর জার্মানির নিলস পিটারসেনের শট ফিরিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ওয়েভারটন। নেইমার গোল করতে পারলেই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন।

চাপ জয় করে নেইমার গোল করলেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের রাজকুমারের পায়েই ঘুচল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাওয়া সেই আক্ষেপ। অলিম্পিক ফুটবলের সোনা ব্রাজিলের। মারাকানা তখন ফেটে পড়েছে উল্লাসে। কোনো ফুটবল ম্যাচে গ্যালারি থেকে এমন গর্জন উঠতে পারে, আজ মারাকানা না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। ম্যাচজুড়েই তা ছিল গোটা মারকানা জুড়ে। নেইমারের শট জালে জড়াতেই যা হলো, সেটি রীতিমতো বিস্ফোরণ!

নেইমার তখন শুয়ে পড়েছেন মাঠে। চার বছর আগে লন্ডন অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনাল শেষ হওয়ার পর ওয়েম্বলিতেও শুয়ে পড়েছিলেন। সেই নেইমার ছিলেন পরাজিত সৈনিক। এদিন তিনি বিশ্বজয়ী সেনাপতি। রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায় ঠাসা মহাকাব্যিক ১২০ মিনিটের ম্যাচ শেষে স্কোর ১-১। ম্যাচে ব্রাজিলের গোলটিও নেইমারের। ম্যাচের ২৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক থেকে।

মারাকানা তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। সেটিতেই অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এল দ্বিতীয়ার্ধে জার্মান অধিনায়ক ম্যাক্সিমিলান মেয়ার ১-১ করে ফেলার পর। ‘মারাকানাজো’ ফিরে আসার শঙ্কা যে তখন ঘিরে ধরেছে ব্রাজিলিয়ানদের। ১৯৫০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচেও তো ব্রাজিল এগিয়ে গিয়েছিল প্রথমে। তারপর উরুগুয়ের সমতাসূচক গোলে সব শেষ।

আবারও কি ডুবে যেতে হবে অমন বিষাদসিন্ধুতে! নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মতো অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচে আধিপত্য বলতে যা বোঝায়, তা ছিল ব্রাজিলেরই। তবে এটাও তো সত্যি যে প্রথমার্ধেই তিন-তিনবার ব্রাজিলের পোস্টে বল লাগিয়েছে জার্মানরা।
ফাইনালের আগে জার্মানির কোচ বলছিলেন, তার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হবে। ৮০ হাজার দর্শকের সামনে মারাকানায় খেলা বলে কথা! তা অভিজ্ঞতা একটা হলো বটে, জার্মানরা তো ৮০ হাজার দর্শকের সামনে খেললেন না, খেললেন তাদের বিপক্ষে। মাঠের ১১ জনের চেয়েও যেটি কখনো কখনো বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছিল।

গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের ব্যঙ্গাত্মক গানের জবাবে ব্রাজিলিয়ানরাও পেলে-ম্যারাডোনাকে নিয়ে একটা গান বেঁধেছিল। গানের কথাগুলো মোটামুটি এ রকম—‘এক হাজার গোল/ এক হাজার গোল/ শুধুই পেলের/ ম্যারাডোনা তো কোকেন নেয়।’ ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে নেই। তারপরও মারাকানামুখী জনতার মুখে ওই গান। ম্যাচের আগে, ম্যাচের সময়ও ওই গানেই মুখরিত স্টেডিয়াম। আর একটু পরপর ‘ব্রাজিল’ ‘ব্রাজিল’ গগনবিদারী চিৎকার।

ব্রাজিলের ওপর ছিল ফুটবলপাগল পুরো দেশের প্রত্যাশা মেটানোর চাপ। জার্মানির জন্য গর্জনশীল মারাকানা। কে আগে সেই চাপে ভাঙে, টাইব্রেকারটা যেন ছিল তারই পরীক্ষা। যেটিতে উৎরে এত এত দিনের দুঃখ ভোলার আনন্দের কান্না নেইমারদের চোখে। নেইমারের চোখের এই আনন্দাশ্রুতে মিশে গেছে যেন গোটা ব্রাজিল!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: