সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জায়গা না থাকলে শ্রেণিকক্ষে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

Mojamelনিজস্ব প্রতিবেদক :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল ও মাদরাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়া ও জাতীয় পতাকা উড়ানো হয় না। এমনটা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান থাকার দরকার আছে বলে মনে করি না। যে সকল স্কুল ও মাদরাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মতো জায়গা নেই, তাদেরকে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে।

তিনি শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত যুদ্ধকালীন অপারেশন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখা, মুক্তিযোদ্ধাদের আংশিক তালিকা ও তথ্যাদি নিয়ে সংকলন ‘রণাঙ্গন ৭১‘ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে, মা ও বোনেরা ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ শত্রুমুক্ত করেছে। আজ সেই মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত থাকতে যদি জাতীয় সংগীত না গাওয়া হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান থাকার কোন দরকার নেই।

অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা না তোলা ও জাতীয় সংগীত না গাওয়া প্রসঙ্গে বলে থাকে, তাদের প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জায়গা নেই- তাদের উদ্দেশ্যে মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ শ্রেণী কক্ষে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। তারা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ৭০ সালে যারা এমএলএ বা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, যারা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন, মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারি ছিলেন, যারা ভারতে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং যারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষিত হয়েছিলেন সেই সকল বীরাঙ্গনাকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করি।

তিনি আরও বলেন, দেশের যে সকল জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি ছিল সেসকল স্থানে খুব দ্রুতই ভূমি বরাদ্দ করে একই ডিজাইনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। মহানগরে পৃথক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে সিলেট মহানগরে স্থান প্রাপ্তি সাপেক্ষে কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হবে।

যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক বলেন, এদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও আমেরিকান দূতাবাস সারারাত খোলা ছিল। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হবে। কমিশন গঠন করে সমস্ত সত্য বের করে আনা হসবে।

বঙ্গবন্ধু খুনে জিয়াউর রহমানের নাম ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি কারা ? এখানে খুনি হিসেবে নাম ছিল জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোস্তাকের। আদালত বলেছে মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন রায় হয় না।

খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, অনেকে স্বেচ্ছায় পাক হানাদার বাহিনীর মেহমান হয়েছিলেন। তারা এই সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নন। চিটাগাং থেকে ভারত যাওয়া নিরাপদ ছিল কিন্তু তিনি ভারত যাওয়া নিরাপদ মনে করে নাই। নিরাপদ মনে করেছিলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যাওয়া। তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা চায়নি। মন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশ বিরোধি ষড়যন্ত্রকারিদের বিরুদ্ধে দেশবাসিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান বিপিএম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন, লে. কর্নেল নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা ছাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: