সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাঁচ বছর আটকে আছে সাক্ষী সুরক্ষা আইন

full_2079101149_1471687727full_2079101149_1471687727নিউজ ডেস্ক : আইন অনুযায়ী আদালতে সাক্ষী দেওয়া নাগরিকের কর্তব্য। কারণ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারায় উল্লেখ আছে- সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত যদি কাউকে তলব করে, এবং ওই ব্যাক্তি যদি সমন পেয়েও আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসে তবে তার একমাস কারাদণ্ডসহ পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড হবে।

কিন্ত প্রায়ই সাক্ষী যখন সাক্ষ্য দেয় তখন আসামি পক্ষ থেকে সাক্ষীকে জীবন নাশের হুমকিতেও পড়তে হয়। কারো কারো জীবন পর্যন্ত চলে যায়।

দীর্ঘ ৩৯ বছর পর বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষে অনেকেই সাক্ষ্য দিয়েছে। এমনকি এখনও দিচ্ছে।

সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার কারণে দু’বছর আগে মোস্তফা হাওলাদার নামে একজনকে কুপিয়ে মারা হয়েছে। গত বছর গোলাম আজমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ভাই আহমেদ মিরাজ খুন হয়েছেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিপক্ষের সাক্ষী ওয়াহিদুল আলম জুনুর মৃত্যু রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্নীতী দমন কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমপক্ষে ৭৩৩টি মামলায় সাক্ষীরা ভয়ে সাক্ষ্য দিতে আসে না, যার কারণে আসমিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীরা কেন আসে না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জীবন নাশের ভয়ে, কারণ আসামিরা তাদের নানাভাবে হুমকিতে রাখে।

সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য কি করা যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে আইন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. শাহ আলম বিডি লাইভকে বলেন, ‘২০১১ সালে আমরা সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য আইন তৈরি করার লক্ষে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম কিন্ত আজ পর্যন্ত আইনটি পাশ হয়নি।

কেন হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকবার বলেছি এমনকি বিষয়টা আইনমন্ত্রীর কানে পর্যন্ত দিয়েছি কিন্ত কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ শুনেছি আইনের খসড়া কপি পাঁচ বছর ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে পড়ে আছে’।

পাঁচ বছর ধরে সাক্ষী সুরক্ষা আইনের খসড়া কেন হোম মিনিস্ট্রিতে পড়ে আছে জানতে চাইলে-সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু মুঠোফোনে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে তার অফিসে দেখা করতে বলেন।

ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘অনেক আগে থেকে আমরা রাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছি সাক্ষী সুরক্ষা আইন তৈরীর জন্য’। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিধি-২০১০ এ বলা আছে -সাক্ষীদের সব রকমের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল সচেষ্ট থাকবে।

সাক্ষীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ সংক্ষিপ্ত বিধি যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে ড. শাহ আলম বলেন, ‘এটাতো বিধি, আইন নয় এটার সেরকম কার্য়কারিতাও নেই, সাক্ষীদের একশভাগ সুরক্ষা দেয়ার জন্য খুব শিগগিরই সাক্ষী সুরক্ষা আইন পাশ করা জরুরি’।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রপক্ষের একজন কৌঁসুলি বলেন, যেভাবে সাক্ষীরা খুন হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে হয়ত আর কেউ সাক্ষ্য দিতে আসতে চাইবে না’।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: