সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ড. শিবলী নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি পদে যোগদান

dr. shibliiiiবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর পদে গত বৃহস্পতিবার যোগদান করেছেন।প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী ১৯৪৪ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারিতে গৌহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দীঘলবাক গ্রামে। তার পিতার নাম মো. আব্দুল হাই, এবং মাতার নাম বেগম শামসুন নাহার। তাঁর পিতা সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন। মো. আব্দুল হাই সিলেট এম.সি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও রাজশাহী কলেজে শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে রাজশাহী ও কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী, সাদা মনের মানুষ প্রফেসর ড. শিবলী ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য পদে যোগদান করেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের একজন স্বনামধন্য সদস্য হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা ছয় বছর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ।

অত্যন্ত মেধাবী ও আলোকিত মুখ ড. শিবলী ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উর্ত্তীন হন। একই বিভাগ থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে এম.এ-তে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উর্ত্তীন হন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে ’দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস’ বিষয়ে পি.এইচ.ডি লাভ করেন।

আতফুল হাই শিবলী ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের ইতিহাস বিভাগের লেকচারার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮১-১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. শিবলী ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্ট্যাটিজ এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে Centre for Post-Graduate Studies, Training & Research-এর অধ্যাপক ও ডীন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে ড. শিবলী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর গ্রহণ করেন ২০০৯ সালে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক বিজ্ঞান বিভাগে দুই দফায় (১৯৭৩-১৯৭৬) এবং (১৯৮৫-১৯৮৮) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং একই বিভাগে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।

ড. শিবলী রচিত বহু গবেষণামূলক প্রকাশনা দেশবিদেশের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণামূলক প্রকাশনার পাশাপাশি প্রফেসর ড. শিবলী রচিত অন্যতম আলোচিত বইয়ের নাম হলো; Abdul Matin Chaudhury of Assam (১৮৯৫-১৯৪৮): Trusted lieutenant of Mohammad Ali Jinnah”, ২০১১ সালে প্রকাশিত। এ ছাড়াও ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ সাংবিধানিক ইতিহাস (১৭৭৩-১৯৭২)’ নামক গ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়। প্রফেসর শিবলী রাজশাহীস্থ ‘হেরিটেজ আরকাইভস্ অব বাংলাদেশ হিসট্রি ট্রাস্ট’- এর একজন অন্যতম সদস্য এবং ঐ সংস্থা থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক জার্নাল ‘স্থানীয় ইতিহাস’-এর সম্পাদক। বর্তমানে প্রফেসর ড. শিবলী কয়েকটি গবেষণা প্রকল্পের কাজে জড়িত রয়েছেন। তিনি দেশবিদেশের বহু সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ সহ স্বল্পমেয়াদী ফেলোশীপ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হিসেবে শ্রীলংকা, ব্যংকক, চীন, মালয়েশিয়া, ফিনল্যানড, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ও সেমিনারে ড. শিবলী অংশগ্রহণ করেছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রফেসর শিবলী সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠনের সদস্যপদও লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির আজীবন সদস্য এবং এই সমিতির সভাপতি হিসাবে (১৯৯৯-২০০৩) দায়িত্ব পালন করেছেন। ’রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস এলামনাই এসোসিয়েশন’- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং অদ্যাবদি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অত্যন্ত মেধাবী ড. শিবলী বন্ধু বান্ধব ও সহকর্মীদের কাছে শুধুমাত্র একজন সফল শিক্ষক হিসেবেই পরিচিত নন-তিনি পরিচিত একজন সৎ , পরোপকারী, প্রাণবন্ত ও খোলামেলা মানুষ হিসেবেও ।

প্রফেসর ড. শিবলী ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার যোগ্য সহধর্মীনি নাজিয়া খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নার্সারী স্কুল এবং ঢাকা ইউমেন কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। নাজিয়া খাতুন বর্তমানে ব্র্যাকের এর অধীনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের পুত্র শাকির ও পুত্রবধূ এলমা দু’জনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে অষ্ট্রেলিয়া থেকে দুজন মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে এলমা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনির্ভাসিটি থেকে পি.এইচ.ডি লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং শাকির বিশ্বব্যাংক-এর চাকুরী শেষে সমাজসেবক হিসেবে কাজ করছেন। বিজ্ঞপ্তি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: