সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল ১৪ বছরের রুমানা

UNFPAবিশ্বনাথ প্রতিনিধি ::
সাংবাদিকদের তৎপরতার কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে আরেকটি বাল্যবিবাহ ভঙ্গ করল বিশ্বনাথ উপজেলা ও থানা প্রশাসন। তাই বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেল উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের মটুককোনা গ্রামের ইছমত আলীর কন্যা রুমানা বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার একই উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পাড়–য়া গ্রামের আবদুস ছত্তারের পুত্র নূরুল হকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল ১৪ বছর ৮ মাস বয়সি রুমানা বেগমের।
উপজেলার দেওকলস ইউপির স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া রুমানার বয়স বৃদ্ধি করে একাধিক জন্ম নিবন্ধনপত্র তার (রুমানা) পরিবারের সদস্যদের হাতে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বাবুল মিয়া। এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে পৃথক জন্ম সাল উল্লেখিত ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত পৃথক একটি জন্ম নিবন্ধনপত্র এসেও পৌঁছেছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে উপজেলার মটুককোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় রুমানা বেগম। স্কুলের রেজিস্ট্রারি খাতা অনুযায়ী রুমানার জন্ম ২০০১ সালের ১১ নভেম্বর। এর সত্যতাও স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুহেলা বেগম।
প্রায় ৩ বছর পূর্বে রুমানা বেগম ‘আল-ঈশ্বার্দ লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা’য় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে কয়েক মাস পর লেখাপড়া ছেড়েদেয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাওলানা আবদুল জলিল।

গত ১৪ আগস্ট উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণার পর ও আগামী ২১ আগস্ট বিশ্বনাথ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণার পূর্বে বিশ্বনাথ উপজেলায় একাধিক বাল্যবিবাহ আয়োজনের পাঁয়তারা নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। গত ১২ আগস্ট উপজেলার ইলামেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা বেগমের বিয়ের আয়োজন করে ছিল তার পরিবার। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাল্যবিবাহটি ভঙ্গ করে উপজেলা ও থানা প্রশাসন।
দেওকলস ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার কাজী মাওলানা আসাদউদ্দিন বলেন, রুমানা বেগমের জন্ম সনদে বয়স কম হওয়ায় আমি বিয়েটি পড়াতে পারব না বলে জানিয়েছি।

সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌঁছা জন্মনিবন্ধনপত্রটি নিজের স্বাক্ষরিত নয় বলে দাবি করে দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহিদ মিয়া বলেন, কনের বয়স কম জানতে পেরে আমি (তাহিদ) সাথে সাথে বিয়েটি ভঙ্গ করার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার বাবুল মিয়াকে বলেছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রুমানার বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর বলেন, বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও জন্মনিবন্ধনপত্রে পৃথক জন্ম সাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে বয়স প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য রুমানার পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: