সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গুলশান হামলার ২ দিন আগে জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তামিম

tamim57নিউজ ডেস্ক:
গুলশানে হামলার ঘটনায় আট দিনের রিমান্ডে থাকা প্রকৌশলী হাসনাত রেজা করিম ও কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল তাদের দ্বিতীয় দিনের মত রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে হাসনাত করিমের মুঠোফোনে ‘অ্যাপ উইকার’ ডাউনলোড করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন, এই অ্যাপ ব্যবহার করেই জঙ্গিরা হলি আর্টিজানের ভেতর থেকে বাইরে যোগাযোগ করে থাকতে পারেন। তাই মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজমের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম গতকাল বলেন, হাসনাত করিমের মুঠোফোনটি পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। হাসনাত ও তাহমিদকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ গুলশানে হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সমন্বয়কারী ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ এ তথ্য জনিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, হামলার দুই দিন আগে আক্রমণকারীদের সঙ্গে তামিম সর্বশেষ ও চূড়ান্ত বৈঠক করেছিলেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় ওই বৈঠক হয়েছিল এবং সেখান থেকেই হামলাকারীরা হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, গুলশানে হামলার পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়ক, অর্থদাতা এবং হামলায় সহযোগিতা করেছেন এমন ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ‘নব্য জেএমবির’ নেতা-কর্মী। তাদের মধ্যে তামিম পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী আরেকজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান গতকাল শনিবার বলেন, বসুন্ধরার একটি বাসায় তামিম চৌধুরীর বৈঠক করার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে।

এ ছাড়া মূল পরিকল্পনাকারী, সমন্বয়ক, অর্থদাতাসহ গুলশানের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে গুলশানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী এবং ব্লগার হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হককে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, তামিম ও জিয়া যেখানেই থাকুন, কেউ দেখলে বা সন্ধান পেলে যেন সরাসরি পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে তার (আইজিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে আহত জঙ্গি রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার থাকা জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিরা প্রথমে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ভাড়া করা একটি বাসায় উঠেছিলেন। সেখান থেকে তারা হামলার দুই দিন আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাড়া করা বাসায় গিয়ে ওঠেন। ওই দিনই সেখানে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তামিম চৌধুরী। ওই বৈঠকে আক্রমণকারীদের হামলার ছক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১ জুলাই রাতে ওই বাসা থেকেই পাঁচ জঙ্গি গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলা চালান।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: