সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক রাজার ১০০ রানী!

27592_101ডেইলি সিলেট ডেস্ক:
রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে বহুবিবাহের প্রথা নতুন নয়। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ে এসেও এমন অনেক রাজার সন্ধান পাওয়া যায় যাদের একাধিক স্ত্রী, অর্থাৎ রানী রয়েছেন। কিন্তু তাই বলে এক রাজার একশ রানী! এই সময়ে এসেও এমন রাজাদের সন্ধান একেবারে বিরল নয়। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন রাজাদের কথা। ক্যামেরনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের একটি শহর বাফুত। এটি ঐতিহ্যগতভাবে একটি রাজত্ব। স্থানীয় ভাষায় ফনডম হিসেবেও পরিচিত। বাফুত ফনডমের রাজাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ফন। গত ৪৭ বছর ধরে এই ফন হিসেবে বাফুতের সিংহাসনে আসীন রয়েছেন আবুমবি দ্বিতীয়। তার রানীর সংখ্যা প্রায় একশ। এই রানীদের সবাইকে অবশ্য তিনি বিবাহ সূত্রে লাভ করেননি। এর অনেক রানীই আবুমবি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে।

স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ফনডমের কোনো রাজা বা ফন যখন মৃত্যুবরণ করেন, তার সব রানী উত্তরসূরি ফনের হয়ে যান। পরে তিনি নিজেও বিয়ে করেন। বাফুতের যুবরাজ নিকসন বলেন, ফনডমে রানীর বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। একজন ফন যখন ফন হিসেবে গড়ে ওঠেন তার পিছনে থাকেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রানীরা। আবুমবির তৃতীয় স্ত্রী রানী কনস্ট্যান্স বলেন, ‘প্রতিটি সফল মানুষের পিছনে একজন অত্যন্ত সফল, একনিষ্ঠ নারী রয়েছেন। আমাদের প্রথা হলো- যখন নতুন একজন রাজা হবেন তিনি পূর্বসূরী রাজার রানীদের লাভ করবেন। এসব বয়স্ক নারীরা আমাদের প্রথাদের তরুণ রানীদের কাছে পৌঁছে দেন। আর নতুন রাজাকেও তারা রাজা হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেন।

কেননা এই রাজা এর আগে ছিলেন যুবরাজ, রাজা হওয়ার জন্য যা কিছু জানা দরকার সেগুলো আগের রাজার কাছ থেকে প্রাপ্ত রানীরাই শেখান।’ ক্যামেরনে বহুগামিতা আইনগতভাবে বৈধ হলেও তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, আফ্রিকা উপমহাদেশে বহুগামী বিয়ে খুব কমই হয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত মূল্যবোধ, খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসার, পশ্চিমা ধাঁচের জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান আবেদন ছাড়াও বড় পরিবার পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত খরচের বিষয়গুলো এই প্রথাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষিতে এটা বলা যায়, ক্যামেরনের ঐতিহ্য বহনকারী ফন বা রাজাদের এই দুই ধরনের সাংস্কৃতিক বিরোধের মধ্যকার ক্ষীণ ব্যবধান বজায় রেখেই চলতে হয়। আবুমবি দ্বিতীয় ৪৭ বছর ধরে তার ফনডমের ফনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাফুত ফনডমের তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় রাজত্ব করা ফন। তার স্বীকারোক্তি, ‘ঔপনিবেশিকতার সময় এমন অনেক মূল্যবোধই আমাদের মধ্যে প্রবেশ করেছে যেগুলো আমাদের প্রচলিত মূল্যবোধের থেকে আলাদা।

ফলে আমাদের প্রচলিত এই মূল্যবোধ ও আধুনিক পশ্চিমা মূল্যবোধের মধ্যে একটি বিরোধ রয়েছেই। আমার কাজ হলো- এই দুই ধরনের মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটানোর মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা। এই পথ এমন হতে হবে যাতে করে আমাদের প্রজারা নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রেখেই উন্নয়ন ও আধুনিকতার সুফল ভোগ করতে পারে। সংস্কৃতি ছাড়া কোনো মানুষ হয় না, সে কেবলই এক প্রাণী। আর তাই আমাদের দলপতির প্রতিষ্ঠানকে সংস্কৃতি ধরে রাখার নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করতে হয়।’ পশ্চিমা বিশ্বে বহুগামিতার সমালোচনা করা হলেও অনেকেই একে অত্যন্ত মূল্যবান প্রথা মনে করে থাকেন। তবে সাদা চোখে বহুগামিতাকে যেমনভাবে গণ্য করা হয়, বাফুতদের প্রথায় এটি আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে আবুমবি দ্বিতীয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সিএনএনের ইনসাইড আফ্রিকার প্রেজেন্টার সোনি মেথু। তিনি বলেন, ‘এটা বুঝতে পারি যে আমরা খুব সহজেই একজন রাজার জীবনযাপন নিয়ে বিচার করে ফেলি। কিন্তু যুক্তরাজ্যের মতোই আফ্রিকার রাজত্বগুলো ও তাদের রাজাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে অনুসরণ করেই চলতে হয়।

একইভাবে বাবার সব স্ত্রীকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তির মতো বাফুতদের প্রথা প্রকৃতপক্ষে একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা ছাড়া কিছু নয়।’ মেথু এটাও লক্ষ্য করেছেন, এসব রাজকীয় পরিবারের অনেক সদস্যই, বিশেষ করে রানীরা অনেক গুণসম্পন্ন ও দক্ষ। বাবুঙ্গো অঞ্চলের ফন এনদোফুয়া জোফিয়া দ্বিতীয় ক্যামেরনের এমন ঐতিহ্যবাহী শাসকদের সর্বকনিষ্ঠদের একজন। তার রানীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মেথু বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত তার অনেক তরুণী স্ত্রীই ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী অঞ্চলের হলেও ইংরেজিতে চমৎকারভাবে কথা বলেন এবং তারা মার্কেটিংয়েও ভালো।’ এমন আপাত স্ববিরোধ-ই ফনডমের জীবনকে একইসঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিভ্রান্তিকর করে তুলেছে। তারা কি অতীতের সঙ্গে আটকে গিয়েছে না কি বর্তমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে? ফন জোফোয়া তৃতীয় মনে করেন, এর কোনো একটিকে বেছে নিতেই হবে এমনটি নয়। পিতার মৃত্যুর পর তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে ৭২ জন স্ত্রী ও পাঁচশ’রও বেশি সন্তান লাভ করেছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে একজন আধুনিক রাজা বলেই মনে করেন। তার ভাষ্য, ‘আজকের এই দিনে এসে একটি রাজত্ব পরিচালনা করার জন্য অবশ্য শিক্ষিত হতে হবে। কেননা, সবকিছুই খুব দ্রুত চলছে, দ্রুত বদলাচ্ছে। এটা তারাও যেমন বলে থাকেন- শিক্ষাই আলো, অজ্ঞতাই অন্ধকার।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: