সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়ারাবাজারে খাসজমি ও নদী দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, প্রশাসন নির্বিকার

unnamed (6)তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সরকারি খাসজমি ও নদীর চর দখল করে বসতবাড়িসহ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। সীমান্তঘেষা বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের মরাগাঙ্গ, চেলা, মরাচেলা ও চলতি নদীর চর দখল করে বাড়িঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠলেও স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। দখলদাররা বলছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এসব নির্মাণ করেছে। আর অনেক প্রভাবশালী শক্তিধররা এসব দখলীয় স্বত্ব ক্রয় করে তাতে বিলাসবহুল বাড়িঘর নির্মাণ করে নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন। এতে শুধু কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদই বেহাত হচ্ছেনা, বরং নদীর স্রোতেরধারা ও গতি পরিবর্তনে সৃষ্ট ভাঙনের ফলে ঢলের তোড়ে উজান থেকে নেমে আসা নদীবাহিত বালুতে ফসলি জমি ভরাট হয়ে ক্রমশ মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম। আর সে কারণেই ফসলি জমি ক্রমশ চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকারি ভূমিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাটবাজারসহ গুরুত্বপুর্ণ সড়কের পাশে ও নদীর তীর ও চরে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে অবৈধ দখলদাররা বেচাকেনাসহ মালিকানা প্রতিষ্ঠা করলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের টনক নড়েনি আজও। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন উচ্ছেদের নামে বিভিন্ন হাটবাজারে ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের দখলীয় ক্ষুদ্র দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও প্রভাবশালীদের দখলে থাকা বৃহদাকার অবৈধ স্থাপনাগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ফুঁসে উঠেছেন ক্ষুদে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, ভূমি ও তহশিল অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক ফায়দা হাসিলের মাধ্যমে সরকারি জমি ভোগদখলসহ লাখ লাখ টাকায় বেচাকেনা হয়ে থাকে এসব হাটবাজারে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র খাসজমি, বাজারভিট ও নদীর চর বন্দোবস্ত দেয়ার নামে বিত্তবান প্রভাবশালীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছেন- এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের বরইউড়ি মৌজার ১নং খতিয়ানের ১নং দাগে জনৈক প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে ৬০ শতক সরকারি জমি। বর্তমানে এখানে বহুতল বিল্ডিংও নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাবাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চেলা নদীর শাখা মরা গাঙ ও তার চর দখল করে অনেক ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির ওরফে ফালান মেম্বার ওই নদী দখল করে একাধিক বাড়িঘর তৈরি করেছেন সেখানে।

একইভাবে রহিমাপাড়া মৌজাস্থিত নরসিংপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরাচেলা নদীর চর পর্যন্তও গড়ে উঠেছে বহুতল বিশিষ্ট ইমারত ও দোকানপাট। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ওই বাজারে সরকারি ভূমির উপর অলিগলিতে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে এগুলো চড়ামূল্যে বেচাকেনাও হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউই মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ আড়াই যুগ ধরে উপজেলার এসিল্যান্ড পদটি শূন্য থাকায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করে আসছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও মহোদয়গন। এ কারণে খোদ ইউএনওসহ সাধারণ মানুষ আজ অন্তহীন ভোগান্তির শিকার। অপরদিকে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাদের ইচ্ছেমাফিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ বছর চারেক আগে উপজেলার বাংলাবাজার ও নরসিংপুর বাজারে সরকারি ভূমিতে অবৈধ স্থাপনাসহ বাজারের পাশ ঘিরে বয়ে যাওয়া নদীর চরে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। সে সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দোয়ারাবাজারের ইউএনও জিয়া উদ্দিন আহমদের অভিযানে প্রথম দফা বাজারের আংশিক স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

অপরদিকে নদী বা চরের শ্রেণী পরিবর্তন ছাড়া সরকারি ভূমি বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের নামে একসনা বন্দোবস্ত দিয়ে নদী দখল করে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে অবৈধ দালানকোঠা নির্মাণের সুযোগ করে দেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিগত বছরগুলোতে নদী ও সরকারি খাসজমির অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে গ্রহন করা উৎকোচের লাখ লাখ টাকা বড়কর্তা, সার্ভেয়ার, কানুনগো, ভূমি ও তহশিল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তাদের সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। যার কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তন ঘটলেও অদ্যাবধি সরকারি ভূমি উদ্ধারের ব্যাপারে প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে।

জানতে চাইলে এসিল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা বর্তমান ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, হাটবাজারসহ সরকারি ভূমি, নদী ও চর দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাই সরকারি ভূমি উদ্ধারসহ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগির আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: