সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যাত্রী সঙ্কটে বিমানের হজ ফ্লাইট বিপর্যয়

150303_1নিউজ ডেস্ক:
যাত্রী সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ বিমানের হজ ফ্লাইটে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে আরো বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুরুর দিকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের কারণে শেষের দিকে হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

হজযাত্রীর অনলাইন নিবন্ধন বিলম্বিত হওয়ায় তুলনামূলক কমসংখ্যক ভিসা ইস্যু হওয়া, এজেন্সিগুলোর মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া, এজেন্সিগুলোর নিজস্ব শিডিউল অনুযায়ী হজযাত্রী না পাঠানো বিমানের হজযাত্রী সঙ্কটের কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দৈনিক নয়া দিগন্তের ১৬ আগস্ট প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি এখানে আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক আহমেদ গত রাতে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, পর্যাপ্ত হজযাত্রী না পাওয়ায় গত ৪ আগস্ট হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ৭টি ফাইট বাতিল হয়েছে। আগামী কয়েক দিনেও এভাবে আরো ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে শেষের দিকে হজযাত্রী পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমরা হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ক্যাপাসিটি তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী শ্লট নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতির মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। এখন প্রতিদিনই আমরা যাত্রী সঙ্কটের বিষয়টি হজ অফিস ও ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। শেষের দিকে এক হজযাত্রীদের চাপ বাড়লে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

এ দিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত শনিবার আশকোনা হজ অফিসে হজ এজেন্সিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে হজ অফিসের পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল হজ এজেন্সিগুলোকে বিমানের ক্যাপাসিটি লস ও হজ ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভিসা হয়েছে এমন হজযাত্রীদের পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

তবে অনেক এজেন্সি মালিক তাদের হজযাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন জটিলতার কারণে আংশিক ভিসা হওয়া এবং কিছু সংখ্যকের এখনো ভিসা না হওয়ায় একত্রে পাঠাতে পারছে না এমনটি জানিয়েছেন। আবার অনেকে মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার তারিখের সাথে সমন্বয় করে পরে হজযাত্রীদের পাঠানোর অপেক্ষায় থাকায় এখনই হজযাত্রী পাঠাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

বেশ কিছু এজেন্সি বিলম্বে হজযাত্রী রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জটিলতায় মক্কা-মদিনায় এখনো বাড়ি ভাড়ার কাগজপত্র তৈরি করে হাতে না পাওয়ায় বারকোর্ড নিয়ে দেশে ফিরে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

হাবের সভাপতি মো. ইব্রাহিম বাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ পর্যন্ত ভিসা না হওয়ার কারণেই মূলত হজযাত্রী সঙ্কটে বিমানের ক্যাপাসিটি লস এমনকি ফ্লাইটও বাতিল করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি এ পর্যন্ত মাত্র ৫৬ হাজার হজযাত্রীর ভিসা হয়েছে। অন্যান্য বছর এ সময়ে ৮০ হাজারের মতো ভিসা হয়ে যেত। এতে ফ্লাইটে কোনো সমস্যা হতো না। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য আজ সংশ্লিষ্টদের একটি বৈঠক আছে বলেও তিনি জানান।

টিকিট বিক্রিকারী এজেন্সিগুলোর সংগঠন আটাবের সভাপতি এন এম মঞ্জুর মোরশেদ মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিসা বিলম্বিত হওয়ার পেছনে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশ হাবের গাফিলতি আছে বলে আমরা মনে করছি। কারণ হজযাত্রীদের নিবন্ধন নিয়ে এ বছর বিভিন্নভাবে জটিলতা তৈরি ও সময় ক্ষেপণ করা হয়েছে।

এখন যে হজযাত্রীদের সিরিয়াল অনুযায়ী নিবন্ধন করা হচ্ছে সেগুলোতে আরো দুই মাস আগেও করা যেত। অযথা কেন সময় ক্ষেপণ করা হলো আমরা জানি না।

তিনি বলেন, আমরা শুনেছি এ কারণে দুই শতাধিক এজেন্সি এখনো বাড়ি ভাড়ার ফাইল কমপ্লিট করতে পারেনি। ফলে তারা দেশে ফিরে ভিসার আবেদন করতে পারছে না।

জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ধর্মসচিব আবদুল জলিল বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ভিসা ইস্যু হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আজ পর্যন্ত হজযাত্রী গেছেন ৩০ হাজারের মতো। ফলে ভিসা না হওয়ায় হজযাত্রী যেতে পারছেন না। এ অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি বলেন, হজ অফিসের পরিচালক এজেন্সিগুলোকে নিয়ে বসেছিলেন। তারা তাদের নিজস্ব কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা তাদের মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার শিডিউলের সাথে মিল রেখে হজযাত্রীদের নিয়ে থাকেন। এ জন্য তারা অপেক্ষায় আছেন। তবে হজ অফিস এজেন্সিগুলোকে ভিসা হওয়া হজযাত্রীদের দ্রুত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন। তার মধ্যে অর্ধেক বাংলাদেশ বিমান এবং বাকি অর্ধেক হজযাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করার কথা। গত ৪ আগস্ট শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ৭টি ফ্লাইট বাতিল হলেও সৌদি এয়ারের কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি।

সোমবার সকাল পর্যন্ত ৯৭টি ফাইটে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ৪০০ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ পালিত হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: