সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিউইয়র্কে মুসলিম বিদ্বেষের জেরেই সিলেটের ইমাম ও তার সহযোগী হত্যা

150401_1প্রবাস ডেস্ক: নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ইমাম ও তার সহযোগীকে হত্যার ঘটনায় আটক ব্যক্তি ৯/১১ হামলার পর মুসলিমদের প্রতি ‘ঘৃণা’ পোষণ করেছিলেন বলে তার ভাই সোমবার জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত হত্যাকারীর ভাই আলভিন মোরেল বলেন, ‘শুধুমাত্র ৯/১১ হামলার পরেই আমরা মুসলিমদের প্রতি বিরূপ হয়েছিলাম। তখন আমরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং আমরা সবাই তাদের ঘৃণা করতাম’।

গত শনিবার নিউইয়র্কের কুইনসের ওজোন পার্ক এলাকার আল-ফোরকান জামে মসজিদের বাংলাদেশি ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি ও তার বন্ধু তারা মিয়াকে পেছন থেকে মাথায় গুলি করে হত্যার দায়ে অস্কার মোরেল (৩৫) নামের এক হিস্পানিকের বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি’ মার্ডারের অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ।
পুলিশ এখনো হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ধার করতে সক্ষম না হলেও অভিযুক্তের ভাই আলভিন জোর দিয়ে বলেছেন, ৯/১১ হামলার পর থেকে অস্কারের মুসলিম বিদ্বেষ ছিল ‘সাময়িক’ এবং বর্তমানে মুসলিমদের প্রতি তার ‘কোনো ঘৃণা নেই’।

আলভিন আরো বলেন, ‘আমরা ক্যাথলিক স্কুলের ছাত্র ছিলাম- এ ধরণের কাজ আমরা করতে পারি না। অস্কার আসলে ভালো মানুষ’।

এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় অস্কার সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন এবং ভিডিওতে তার উপস্থিতিও তিনি অস্বীকার করেননি। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কাউকে গুলি করেননি। তবে পুলিশ তার দাবি প্রত্যাখান করেছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের প্রধান ডিটেক্টিভ রবার্ট বয়েস বলেন, ‘প্রমাণের কারণেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে’।

এসব প্রমাণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মোরেলের ব্রুকলিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের হামলাকারীর ব্যবহৃত পোশাকের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় এমন কিছু পোশাকও তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বয়েস বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না তিনি(অস্কার) কেন সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৮ মিনিট আগে সেখানে তাকে দেখা গিয়েছে’।

অভিযুক্তের ভাই আলভিন জানান, অস্কার একটি স্কুলের দ্বাররক্ষী হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযুক্ত অস্কার একজন হিস্পানিক। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় হিস্পানিক ও মুসলিমদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু প্রাথমিকভাবে পুলিশ হত্যার কোনো কারন খুঁজে পায়নি বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পুলিশ এটাকে একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছে। এর পেছনে মুসলিম বিদ্বেষী তৎপরতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যাখ্যা করেছে কিভাবে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। নজরদারি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকারী গুলি করার পরে তড়িঘড়ি করে তার গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দারা তৎক্ষণাত তাদের ডাটাবেজে গাড়িটি চিহ্নিত করে এবং হত্যাকাণ্ডের ১০ মিনিট পরে ওই গাড়িটি একজন বাইসাইকেল চালককে ধাক্কা দেয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়ির সাথে ওই গাড়ির মিল খুঁজে পায়।

এরপর গোয়েন্দারা গাড়িটি ধাওয়া করে এবং ওইদিন রাত ১১ টায় অভিযুক্ত অস্কার মোরেলকে আটক করে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: