সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভয়ঙ্কর চিকিৎসক: ৫ ধনী বিধবা প্রেমিকা খুন

145668_183আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহাবালেশ্বর– ভারতের পঞ্চগনি শৈলশহরের পায়ের কাছে ছোট্ট শহর ওয়াই। মুম্বই থেকে ১৭৫ কিলোমিটার। ছবির চেয়েও নিখুঁত, সুন্দর। বলিউডের অনেক হিন্দি ছবির শুটিং হয়েছে এই ওয়াই–তে। সেখানেই যে এমন ভয়ঙ্কর ধারাবাহিক খুনের গোপন চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে আছে, কে জানত!‌ পুলিসের ধারণাতেও ছিল না। এমন ঘটনার সঙ্গে একমাত্র তুলনা হতে পারে অ্যালফ্রেড হিচককের ‘‌সাইকো’‌ ছবির, যেখানে এক বিকৃতমস্তিষ্ক মোটেল–মালিক একের পর এক খদ্দেরকে খুন করে।

অথবা, চার্লি চ্যাপলিনের ‘‌মঁসিয়ে ভের্দু’‌ ছবির সেই সজ্জন কেতাদুরস্ত মধুভাষী মানুষটির, যিনি পরের পর বিত্তবতী বিধবার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে শেষে তাদের খুন করতেন এবং পুঁতে দিতেন নিজের বাড়ির বাগানে, আর তার পর সেই জমিতে গোলাপফুলের চাষ করতেন। ওয়াই শহরের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার, ৪১ বছরের সন্তোষ পোল–‌ও ঠিক একই কাজ করে গেছে। প্রথমে একলা–‌মহিলাদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে, তাদের সোনাদানা, টাকাকড়ি হাতিয়ে বিষ–‌ইঞ্জেকশন দিয়ে খুন করত।

তারপর তাদের লাশ পুঁতে দিত নিজের খামারবাড়ির জমিতে। ধরা পড়ার পর সাতারার পুলিশ এ–‌রকম চারটি লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে। জেরায় মোট আধ ডজন খুনের কথা স্বীকার করেছে ‘‌ডক্টর ডেথ’‌ সন্তোষ পোল। তাদের মধ্যে পাঁচজনই মহিলা। পাঁচজনের সঙ্গেই প্রেমের অভিনয় করেছে সন্তোষ। তার পর সুযোগ বুঝে বিষাক্ত ছোবল!‌ মরণকামড় একেবারে। সেই ২০০৩ থেকে এ বছর আগস্টে ধরা পড়ার আগে পর্যন্ত ছ–‌ছ’‌‌টি খুন। সাহায্য করত সন্তোষের নার্স, সে–‌ও তার একদা–‌প্রণয়নী জ্যোতি মান্দ্রে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘাতক ডাক্তার সন্তোষের খোঁজ পুলিশ পায় ১৬ জুন ওয়াই থেকে পুনে যাওয়ার পথে রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ নার্স, ৪৯ বছরের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মঙ্গলা জেধে–র হদিশ করতে গিয়ে। নিজের সন্তানসম্ভবা মেয়ের প্রসবে সাহায্য করতে পুনে যাচ্ছিলেন মঙ্গলা। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, শেষ ডাঃ পোলের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। কোনো কারণে দু’‌জনের কথা–‌কাটাকাটি হয় এবং ডাঃ পোলের কুকীর্তি ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেন মঙ্গলা। তাকে শেষ দেখা গিয়েছিল বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে। ক্রমশ জানা যায়, সন্তোষ পোল এবং জ্যোতি মান্দ্রেই বাস স্ট্যান্ড থেকে মঙ্গলাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় সন্তোষের খামারবাড়িতে। সেখানে দু’‌জনে মিলে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেয় মঙ্গলাকে। তারপর খামারবাড়ির চৌহদ্দিতেই, একটু নিরিবিলি জায়গায় মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেয়া হয় মৃতদেহটি। পুলিশ ফের মাটি খুঁড়ে সেই দেহ তুলতে গিয়েই হদিশ পায় আরো তিনটি পচাগলা দেহের। সেই তিনটি দেহ থেকে নমুনা নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

২০০৬ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ হন গয়না–‌ব্যবসায়ী বনিতা গায়কোয়াড়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে খোঁজ নেই অনাথ তরুণী সালমা শেখের। পুলিশের ধারণা, তারাও পোলের শিকার। খামারবাড়ি এখনো খোঁড়াখুঁড়ি করছে পুলিশ। সন্তোষ পোলের ডাক্তারি ডিগ্রিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১১ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে তাকে ‌‌১৯ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে। সূত্র: নয়া দিগন্ত

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: