সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নৌ-ভ্রমণ: যতটা ভয়, ততটাই আনন্দের

20নিউজ ডেস্ক: আহ….অনেক বছর পর কাজ থেকে একটু অবসর। মাথায় কোন টেনশন নেই। সবেমাত্র পৃথিবী জেগে উঠবে…রিকশার মৃদু দুলুনি আর শরীর ছুয়ে যাওয়া রিম রিম হাওয়ায় এগিয়ে চলছি। বেশি সময় দিতে হয়নি। নগরীর ভাটিখানা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে গেলাম আমরা তিনজন।

চটপট উঠে পড়লাম সিট্রাক-এ। এটা বরিশাল থেকে লক্ষ্মিপুর মজু চৌধুরীরহাট যাওয়ার অন্যতম পরিবহন। পরিবহনটি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে, অনেক পুরোনো। অনেক ঝড়েও এটি চলতে পারে বলে রেকর্ড আছে। তাই এটাতেই উঠলাম। কারণ আমার দুই সফর সঙ্গী সাঁতার জানে না।

সিট্রাক ছেড়ে যাবে সকাল ৭ টায়। আমরা আসন খুজতে শুরু করলাম। পেছনের দিকে মাত্র ৬/৭টি সোফা। আর সব চেয়ার। সোফায় এক জনের ভাড়া ৪৫০টা। তাও আবার এক সোফায় ৫জন চাপাচাপি করে বসতে হবে। সিটগুলোতে তেলাপোকা আর ছাড় পোকার বাসা। আর পাটাতন এতই নিচু যেন নামাজের জন্য সেজদায় যাওয়ার মতো করে দাঁড়াতে হবে। বিরক্তিকর পরবেশ টেনশনে পড়ে গেলাম।

এমভি পারিজাত নামে আরও একটি লঞ্চ চলে এ রুটে। সেটা ছেড়ে যায় সকাল ৬ টা ১০ মিনিটে। ফোন দিলাম ওই লঞ্চের মাস্টারকে। তিনি বললেন- ৩ মিনিট পরেই ছেড়ে যাবেন। অনুরোধ করলাম ৫ মিনিট পর অপেক্ষা করতে। তিনি শুনেছেন কি না জানি না- ফোন রেখে দিলেন। মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিলাম তিনজন ওই লঞ্চেই উঠতে হবে। কোনো দিকে না তাকিয়ে সিট্রাক থেকে নেমে লঞ্চের দিকে এগিয়ে চললাম। তখন সময় ৬ টা ১২ মিনিট। তিনজনই ছুটছি কিন্তু বিপদের পথ যেন শেষ হয় না। ওদিকে লঞ্চ-এর মেশিন চালু হয়ে গেছে, ঘন ঘন হর্ন আমাদের আরও টেনশনে ফেলে দেয়।

কোন মতে লঞ্চে ওঠা গেল। আমরাই শেষ যাত্রী। এটা বরিশাল-মজুচৌধুরীর হাট রুটের সবচেয়ে বিলাস বহুল নৌযান। দ্বিতীয় তলা বলতে গেলে ফাকা। সিট প্রায় ১শ। আমরা ছাড়া আর মাত্র ৫/৬ জন যাত্রী আছেন। ভাবছি কোন সিটে ঘুমিয়ে যাবো। একটার পর একটা সিট পরিবর্তন করছি। কিছুক্ষণ আগেও টেনশনে ছিলাম সিট পাবো কিনা। সফর সঙ্গী শাওন ভাই ব্যাগ রেখেই হারিয়ে গেলেন। প্রায় ১০ মিনিট কোন খবর নেই। ফিরে এলেন, নিয়ে এলেন কয়েকটি সেলফি। পরে অবশ্য আমরা দুজনও বেরিয়ে পড়লাম লঞ্চের বারান্দায়।

তখন সকাল সাড়ে ৬টা। মিষ্টি রোদ আর আরামদায়ক ঠাণ্ডা বাতাসের অনুভূতিতে..মনের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে গেল…ও…. শান্তি। চলে গেলাম লঞ্চের সামনে। তিনজনে ছবি তোলা শুরু। এদিক সেদিক তাকিয়ে পোজ দেয়ার চেষ্টা করছি। আর নিজেরাই আলোকচিত্রী হচ্ছি। ঘণ্টাখানেক কেটে গেল এভাবেই। আবার ফিরে এলাম ভেতরে। বুঝতে পারলাম পেট বলছে কিছুটা বেলা হয়েছে। খাওয়া শুরু করলাম বিরিয়ানী।

মনে হলো পুরো লঞ্চটি আমরা রিজার্ভ নিয়েছি। নিচে নেমে এদিক ওদিক হাটাহটি করছি। এমন সময় লঞ্চটি একটু দুলুনি শুরু করলো। আর নারী সফর সঙ্গীর মনে পড়ে গেল মেঘনা নদীর কথা। তার প্রশ্ন বেশি দুলবে কী না। তাকিয়ে দেখি সত্যিই আমাদের লঞ্চ এখন মেঘনা পার হবে। তিনি আমার বাম হাত খামছি দিয়ে ধরলেন। লঞ্চ এগিয়ে যাচ্ছে মেঘনার পেটের দিকে।

লঞ্চ এগিয়ে গেলো মেঘনার পেটের দিকে। ভয় ভয় লাগছে, কিন্তু আজকের প্রকৃতি যেন আমারেই পক্ষে। তেমন কোনো ভয়ের কারণ হয়নি মেঘনা। বরং অনেক শান্ত নদীর পানি। অনায়াসেই পার হয়ে গেলাম মেঘনা। লঞ্চেই টিকেট কাটলাম মজু চৌধুরীর হাট থেকে চট্টগ্রাম রুটের শাহীর পরিবহনের। লঞ্চ থেকে নেমে এগিয়ে গেলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে। দূর থেকেই বুঝতে পারছি আমাদের গাড়িটি ছেড়ে দিয়েছে। দৌড়ে গাড়িতে উঠলাম তিনজন।

আমাদের সামনের সিটে বসা ভদ্রলোকটি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হলেন। জানালেন, তিনি সকালে আমাদের মতই বরিশাল থেকে সিট্রাকে ওঠেন। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে ওই দিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থাকায় যাত্রী ছিলো একেবারেই কম। সকাল ৭ টার দিকে জানিয়ে দেয়া হয় সিট্রাক এত কম যাত্রী নিয়ে ছাড়বে না। কিন্তু ওনাকে চট্টগ্রাম যেতেই হবে। তাই পরে স্পিডবোর্ড ১৬০০ টাকায় ভাড়া করে এমভি পারিজাতে উঠেন।

তার এই কথা শুনে আমরা বুঝতে পারি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা কতটাই সঠিক ছিল। সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে কত বড় ধরণের বিপদও হতে পারে।

আমাদের গাড়িটি চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে চলে। যতই চট্টগ্রামের কাছাকাছি আসছি ততটাই পাহাড় ও গাছ পালার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে দেখা মিলছে মাটির তৈরি দেয়ালের ঘর আর নতুন নতুন বৈচিত্রময় দৃশ্যের। বলা যায় রোমাঞ্চকর একটি ভ্রমণ শেষে আমরা পৌঁছাই চট্টগ্রাম নগরীতে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: