সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে দুই যুগ ধরে গ্রামের নামকরণ নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব!

784বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে একটি গ্রামের নামকরণ নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে দু’পক্ষের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এদ্বন্দ্বের কোনো নিস্পত্তি না হওয়ায় দিন দিন তাদের মধ্যে প্রতিহিংসার জন্ম নিচ্ছে।

সর্বশেষে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘ দিনের সৃষ্ট নামকরণ দ্বন্ধে ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ভূমি ক্রয়-বিক্রয়, জন্মনিবন্ধন’সহ বিভিন্ন সার্টিফিকেট জটিলতায় বিপাকে রয়েছেন গ্রামের হাজারো মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নে ‘ছোট খুরমা’ নামে একটি গ্রাম রয়েছে বলে দাবি এক পক্ষের। অন্যদিকে ওই গ্রামের নাম ‘পেছি খুরমা’ বলে দাবি করে আসছে অপর পক্ষের লোকজন। এতে আদালতে উভয় পক্ষের লোকজন মামলা মোকদ্দমায়ও গড়িয়েছেন। তাদের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে বসেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক মতিউর রহমান।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর, ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হক, থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, স্থানীয় চেয়ারম্যান লিলু মিয়া ও সার্ভেয়ার আবদুল রাকিব। বৈঠকে কমিশনার উভয় পক্ষ থেকে ৪জন করে ৮জনের বক্তব্য শুনেন। বক্তব্যকালে ‘পেছি খুরমা’র পক্ষে দাবি করা হয় তাদের পূর্ব পুরুষের নামে ওই গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে। তাই ওই নামে গ্রামটির নাম থাকার জন্য তারা জোর দাবি করেন।

এদিকে ‘ছোট খুরমা’ গ্রামের পক্ষে বক্তারা ধরে তুলেন তাদের ওই গ্রামের নামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ, মসজিদ, দুটি পোলিও ঠিকাদান কেন্দ্র, রাস্তা, জন্মনিবন্ধন এবং অসংখ্য ভোটার রয়েছেন। তাই ওই নামে গ্রামটির নামকরণসহ গেজেট পাস করার দাবি করেন। প্রায় তিনঘন্টা চলে আলোচনা।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনার পর কমিশনার তাদের কাছে দুটি প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে ‘পেছি খুরমা’ ও ‘ছোট খুরমা’ নামে দুটি গ্রাম ভাগ করা। অপর প্রস্তাবটি হচ্ছে গোপন ভোটের মাধ্যমে গ্রামের নাম নির্ধারণ করা। এদুটি প্রস্তাবে ‘ছোট খুরমা’ গ্রামের পক্ষের লোকজন রাজি হলেও প্রত্যাখ্যান করেন ‘পেছি খুরমা’র পক্ষের লোকজন। কারণ ‘ছোট খুরমা’ নামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭৫ভাগ মানুষ। ওই দুটি গ্রামের দ্বন্দ্ব নিস্পত্তির লক্ষে কমিশনার প্রাণপন চেষ্টা করেন। কিন্তু উভয় পক্ষের নিজ নিজ অবস্থানে অটলের কারণে আর সেদিকে যেতে পারেননি। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কমিশনার বলেন তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন। এর ভিতরে তিনি উভয় পক্ষ মিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিস্পত্তি করার অনুরোধ জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: