সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মুসলিম-হিস্পানিক দ্বন্দ্বে নিউ ইয়র্কেে ২ সিলেটী হত্যা!

022445New-York_kalerkantho_pic-550x367নিউজ ডেস্ক : মুসলিম-হিস্পানিক দ্বন্দ্বের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকালে নিউ ইয়র্ক পুলিশের একটি সূত্র নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে রবিবার রাতে জোড়া খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জোড়া খুনের তদন্তে আরেকটি ক্লু পেয়েছে পুলিশ। সূত্র জানায়, গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় খুনির গাড়িটি ধাক্কা দিয়েছিল এক সাইকেল আরোহীকে। এতে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। ওই সাইকেল আরোহী হামলাকারীর গাড়ির নম্বর টুকে রাখতে সক্ষম হন। এরই মধ্যে তিনি তা পুলিশকে দিয়েছেন। এ ছাড়া সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, এক যুবক দৌড়ে এসে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাত দূর থেকে দুজনকে পেছন দিক থেকে গুলি করে। গুলি ছুড়েই সে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।

গত শনিবার দুপুরে ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জি (৫৫) ও তাঁর সহকারী তারা উদ্দিন মিয়াকে (৬৪) নিউ ইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্ক এলাকায় আল-ফুরকান জামে মসজিদের কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। জোহরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে তাঁরা হামলার শিকার হন।

সন্দেহভাজন আটক : সন্দেহভাজন এই ব্যক্তিকে আটকের খবরটি নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কম্পানি (এনবিসি) খবরটি প্রথম প্রকাশ করে।
হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময় হামলাকারীর স্কেচ তৈরি করে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই স্কেচ তৈরি করা হয়। এতে চশমা পরা ওই হামলাকারীর মুখে হালকা দাড়ি এবং গায়ে কালো রঙের টি-শার্ট ও পরনে নীল শর্টস ছিল। রবিবার রাত ১১টার দিকে ছদ্মবেশে থাকা পুলিশের গাড়ির সামনে দিয়ে একটি প্রাইভেট কারে করে যাচ্ছিল সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি। তৎক্ষণাৎ গাড়িটি থামিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে পুলিশের প্রকাশ করা স্কেচের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির চেহারার মিল রয়েছে কি না পুলিশের সূত্র তা জানাতে চায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, হামলাকারী ব্যক্তির বন্দুক চালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে সূত্রটি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এখনো হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল সকাল থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে নিউ ইয়র্ক পুলিশের রিজিওনাল ফিউগিটিভ টাস্কফোর্স। পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালানোর জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যুর অপেক্ষায় আছে।

হত্যাকাণ্ডটি ‘টার্গেট কিলিং’ ছিল কি না তা নিশ্চিত করেনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ। তবে হত্যার সময় ইমামের সঙ্গে এক হাজার ডলার থাকলেও তা চুরি করেনি হামলাকারী। তাই পুলিশের ধারণা, হামলাকারীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইমামকে হত্যা করা। পুলিশের প্রকাশিত স্কেচটি সব স্থানে টাঙানো হবে বলে জানা গেছে। খুনি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গেই নিউ ইয়র্ক পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিহত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জির লাশ বাংলাদেশে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে। তবে নিহত তারা উদ্দিনকে দাফন করা হবে নিউ ইয়র্কের মুসলিম কবরস্থানে।
বিক্ষোভ অব্যাহত : দুই বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গত রবিবার দুপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো নিউ ইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শত শত প্রতিবাদী বাংলাদেশি সেখানে জড়ো হয়ে ঘাতকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। কমিউনিটির নিরাপত্তায় পুলিশ প্রশাসনকে আরো মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

কুইন্সবরোর প্রেসিডেন্টের মসজিদ পরিদর্শন : এদিকে রবিবার দুপুরে আল-ফুরকান জামে মসজিদে এসেছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার স্কট এম স্ট্রিংগার ও নিউ ইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক ইউনিট কুইন্সবরোর প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কাটজ। তাঁরা মসজিদে গিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তাঁরা বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা অবশ্যই নগর প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করব।’

মেয়রের বিবৃতি, মুসলিম কমিউনিটির ক্ষোভ : জোড়া খুনের ঘটনায় গতকাল শোক ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাসিও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুই বাংলাদেশির খুনিকে বিচারের আওতায় আনতে নিউ ইয়র্ক পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এই ছুটির দিনটিতে সহিংতায় আক্রান্ত হয়েছে আমাদের শহর। এই সহিংসতা কমিউনিটিকে উদ্বিগ্ন করেছে। যেখানে ধর্মীয় নেতারা টার্গেটের শিকার হন, সেখানে আমাদের সবাইকে এই ব্যথা সইতে হবে।’ তবে ঘটনাস্থলে না এসে মুখপাত্রের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশিরা। তাদের একজন খাইরুল ইসলাম খোকন গতকাল বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়র এখানে আসেননি। কিন্তু এটি যদি একটি ইহুদি কমিউনিটি হতো, তাহলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেয়র আসতেন।’

ইহুদি নেতাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন : স্থানীয় ইহুদি নেতারা রবিবার রাতে ঘটনাস্থল ও আল-ফুরকান জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন। তাঁরা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। আমেরিকান ইহুদি কংগ্রেসের মুসলিম-ইহুদি সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট সিলভারম্যান রবিবার ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সোজা ওজোন পার্কে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা মুসলিম কমিউনিটিকে সমর্থন জানাতে এখানে এসেছি। এটি একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড।’

মুসলিম-হিস্পানিক দ্বন্দ্ব : জোড়া খুনের তদন্ত করতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশ মুসলিম-হিস্পানিক দ্বন্দ্বের দিকেও জোর দিচ্ছে। সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে ওজোন পার্ক এলাকায় মুসলিম ও হিস্পানিক প্রতিবেশীদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন মুসলিমদের একটি গ্রুপ হিস্পানিকদের ওপর হামলা করে। পুলিশের ধারণা, এই হামলার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে দুজন মুসলিমকে খুন করা হতে পারে। -কালের কণ্ঠ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: