সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধর্ষণকালে কেন চেঁচায়নি, তাই থানায় আটকে রেখে নির্যাতন

hঅনলাইন ডেস্ক:
গণধর্ষণের শিকার যুবতী থানায় গিয়ে ভেবেছিলেন সুবিচার পাবেন। কিন্তু, সেখানে যে তার জন্য আর বড় দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করেছিল তা আঁচটিও পাননি। মেয়েটির অভিযোগ, তার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই থানার মধ্যে জোর করে তিন রাত তিন দিন তাকে আটকে রাখা হয়। তাকে শুতে দেওয়া হয়েছে ঠান্ডা মেঝেতে। কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু উপোসী পেটে সহ্য করতে হয়েছে পুলিশি অত্যাচার।

গণধর্ষণের অভিযোগ না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত ৩৬ বছরের ওই যুবতীকে। শেষমেশ একটি এনজিও-র হস্তক্ষেপে শুধুমাত্র একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের পালঘর থানা এলাকায়।

পালঘর থানার ডিউটি অফিসার সালুঙ্খের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওই যুবতীর। নিগৃহীতার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত ওই পুলিশ অফিসারই জোর করে থানায় আটকে রেখে অত্যাচার করেন। ধর্ষণের অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে সালুঙ্খে উলটে তাকেই দোষারোপ করেন। পরে একটি এনজিও-র চাপের মুখে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে যুবতীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শত অনুরোধেও গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে চাননি ওই অফিসার।

জানা গেছে, চাকরির কারণে ওই যুবতী পলঘরে একাই থাকেন। আন্ধেরিতে তিনি কেয়ারটেকারের কাজ করেন। গত ১৫ মে ধর্ষণে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে তার আলাপ হয়। ওই রাতে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে গিয়ে ছেলেটির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পুলিশকে যুবতী জানান, তিনি খাবারের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করার সময়, সঞ্জয় দুবে পরিচয় দিয়ে ছেলেটি গায়ে পড়ে আলাপ করে। অভিযোগ, এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় ছেলেটি বাড়িতে এসে, ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। একটি আইডিকার্ড দেখিয়ে নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিল সঞ্জয়। তারপর আরও তিনবার একা এসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে যায় সঞ্জয়।

গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ৬ অাগস্ট। সঞ্জয় দুবে নামে ওই যুবক সঙ্গে করে আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে এসে গণধর্ষণ করে। নিগৃহীতার কথায়, ‘আমাকে পতিতাবৃত্তির মামলায় জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে এক একে তিন জনে মিলে ধর্ষণ করে।’ ওই রাতেই পলঘর থানায় গিয়ে যুবতীর বিড়ম্বনা আরও বাড়ে।

যুবতীর অভিযোগ, ধর্ষণের বিরুদ্ধে তিনজনের বিরুদ্ধে FIR না নিয়ে, উল্টে তিনি কেন একা থাকেন, কেন সেসময় চেঁচালেন না, তা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। এরপর মেয়েটির বাড়িতে তদন্তে এসে সেখানেও তার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ডিউটি অফিসার। সেখান থেকে যুবতীকে নিয়েই থানায় ফিরে আসেন। এরপর মেয়েটির অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। থানাতেই তিন রাত আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে নিগ্রহও করেছেন ওই অফিসার।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: