সর্বশেষ আপডেট : ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বঙ্গবন্ধু কখনো মরেননি, ওরা তাকে মারতে পারেনি, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী

cinema1471227436-550x367নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন অত্যাচার, মিথ্যাচার আর অবিচারে বাঙালির জীবন অতিষ্ঠ। তাই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের সেই ভাষণটি ৭ কোটি বাঙালির স্বাধীনতা লাভের অদম্য স্পৃহাকে চাঙা করেছিল। দুনিয়া কাঁপানো ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম এ ভাষণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর ত্রিশ লাখ শহীদ আর মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

এর আগেই তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এ দেশের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে চলচ্চিত্রের ভূমিকা অপরিসীম। তাই তিনি ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী থাকা অবস্থায় উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই মহান নেতাকে নিয়ে আজও কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি।
স্বাধীনতার পর অনেকবারই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা নানা কারণে থেমে গেছে। এ বিষয়ে বিনোদন বিভাগের সঙ্গে ঢাকাই চলচ্চিত্রের কয়েকজন নির্মাতা ও অভিনেতার কথা হয়। তাদের বক্তব্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

ফারুক (অভিনেতা) : বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৬ বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর এ দেশের সংস্কৃতি এবং আর্ট-কালচারের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন একটা টার্মের জন্য ক্ষমতায় এসেছিল। চলচ্চিত্র হলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। সেখানে মনমানসিকতার একটা ব্যাপার থাকে। অনেকে বলতে পারেন- আমি ব্যবসা করি সেখানে রাজনৈতিক কথা বলব না। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আমাদের সময় যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে, তখন আমরা চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে। যা এখন হয় না। তাকে নিয়ে প্রত্যেকটা মানুষের কিছু না কিছু করা উচিত। জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত এবং এটা পুরোপুরি তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইচ্ছা করলে যৌথভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের উৎসাহ দিতে পারে। আমার মনে হয়- তারা একটু খেয়াল করলে এটা করাতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে বহু চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যায়। যেমন- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য সিনেমা নির্মাণ করা যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়নি, এটা দুঃখজনক। আমি অনেক সময় মিডিয়ার মাধ্যমে বলেছি- কেউ এগুলোর কর্ণপাত করেননি। আমাকে সুযোগ দিলে আমি জাতির পিতাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে পারতাম।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সব সময় দুঃখী মানুষের কথা বলতেন। আজকের এই দিনগুলোতে তাকে আমি হৃদয়ভরে স্মরণ করি। ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটা এলেই আমাকে কথা বলতে হয়। তাকে নিয়ে আমি নিজের সঙ্গে কথা বলি। তিনি নিপীড়িত মানুষের কাছের লোক ছিলেন। তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের কাছের লোক ছিলেন। তিনি এই দেশের কৃষক, কামার, মাঝিসহ প্রতিটি মানুষের কাছের মানুষ ছিলেন। সে কারণেই ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধী দেওয়া হয়েছে। তার সম্পর্কে বলতে গেলে হাজার বছরেও শেষ হবে না।
বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। এটা এমনি এমনি হয়নি। অনেক কষ্টের ফলে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। এককথায় যদি বলি- তার জন্মই হয়েছিল এ দেশের কোটি কেটি মানুষের জন্য। গ্রামের প্রতিটি মানুষের দুঃখ, ক্ষুধা তিনি দেখেছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি এগুলো তার রক্তে বহমান ছিল। তার রক্ত কথা বলত। ৭ মার্চে তিনি তার শেষ কথা বলেছিলেন- ‘আমি সংস্কৃতির মুক্তি চাই।’ সবকিছু মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাধারণ একজন নেতা। আমাকে জিজ্ঞেস করলে বলব- তিনি অসাধারণ একজন শিল্পী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কখনো মরেননি, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী।

আমি বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি অনেক সময় সোফায় বসে থাকতেন, আমি পাশ থেকে দেখতাম তার পকেটে টাকা দেখা যাচ্ছে। তখন ওই টাকা নেওয়ার জন্য হাতও দিয়েছি। তিনি হাত ধরেও ফেলেছেন। এ রকম ছোট ছোট অনেক ঘটনা রয়েছে। যা জীবন চলার পথে স্মরণ করে দেয় তার সঙ্গে কি রকম সম্পর্ক ছিল। আমি তো তার কাছে সন্তানের মতো ছিলাম। আমার মতো হাজার হাজার ছেলে রয়েছে তার। তারাও তার সান্নিধ্য পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা পেয়েছেন, আদর পেয়েছেন এবং বলব- বঙ্গবন্ধু চিরকাল আমাদের মাঝে আছেন, তিনি চিরকাল আমাদের মাঝে থাকবেন। তার কথা এখনো আমি শুনতে পাই। তিনি বলতেন, ‘তোরাই তো আমার সোনার ছেলে। তোরাই তো এই দেশটাকে সোনার বাংলা তৈরি করবি।’ বঙ্গবন্ধু মরেননি তাকে হত্যা করতে পেরেছে কিন্তু ওরা তাকে মারতে পারেনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই আমি ফিল্মে যুক্ত হই। নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমি ফিল্মে যুক্ত হয়েছিলাম। ছয় দফা আন্দোলনের কারণে নানা ধরনের হয়রানিমূলক মামলা হয় আমার বিরুদ্ধে। তখন ছাত্রলীগের ক্ষুদ্র নেতা হিসেবে আমার নামে ৩৭টি মামলা ছিল। এখান থেকে বাঁচার জন্য আমি ফিল্মে যুক্ত হই। আজকের ফারুক হব, এ জন্য ফিল্মে আসিনি।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘তুই নাকি রং মেখে ঢং শুরু করেছিস।’ একথা শুনে আমি একটু ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কী কোনো অধিকার তোদের প্রতি নেই! আজকে তো স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা। কথার মধ্যে একটু আনন্দও তো করা যায়। তুই যেখানে আছিস সেখানেই থাক। তুই অভিনয় কর। আর্ট কালচার এমন একটি মাধ্যম, যেখান থেকে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম করা যায়। সাংস্কৃতিক বিপ্লব করা যায়। আমি যদি কোনো দিন এ দেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করি, তুই এখান থেকেই আমার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবি, বিপ্লব ঘটাবি।’
আবার জাতির পিতা মিটিংয়ে গেলে তার মনোযোগ নেওয়ার জন্য ১০-১৫ জন ছেলে নিয়ে তার সামনে ঘোরাঘুরি করতাম। তিনি এত মজার মানুষ ছিলেন যে, তিনি এসব বুঝতেন। এরপর স্টেজে উঠে তাকে বলতাম, ‘আমারটা দেন’। বলতেন, ‘তোরটা মানে?’ আমি তখন বলতাম, ‘আমার দলেরটা, আমি লোকজন নিয়ে না আসলে এত লোকজন হতো নাকি? তখন তিনি বলতেন, ‘কতজন নিয়ে আসছিস’ বলতাম, ‘১৮-২০ জন।’

আসলে ৫-৬ জন নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি এটাও বুঝতেন। তিনি বলতেন, ‘আমার তো মনে হয় তোর সঙ্গে ৭-৮ জনের বেশি ছিল না।’ এরপর আস্তে করে তিনি কিছু টাকা দিয়ে দিতেন। তিনি বুঝতেন, আমরা এ টাকাটা দিয়ে কিছু কিনে খাব। তিনি মানুষকে টাকা দিয়ে কিনতেন না, হৃদয় দিয়ে কিনতেন।
উদার মনের মানুষ ছিলেন তিনি। দু-এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। আমার কেন জানি বারবার মনে হয়- আমাদের মতো পাগল যারা তারা কিন্তু পাগল নয়। সত্যের পাগল, সুন্দরের পাগল। সেই সত্য আর সুন্দরের আরেক নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তার সেই সুন্দর আমরা দেখতে পাই। আশা করব, এই সুন্দরকে দেখতে দেখতে একদিন শেখ হাসিনা এ দেশের প্রতিটি মানুষের হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় নিয়ে যাবেন। এই প্রত্যাশা করছি।
আমজাদ হোসেন (নির্মাতা): বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, ক্ল্যাসিক রাজনীতিবিদ, অমর রাজনীতিবিদ। তাকে নিয়ে কেন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়নি, এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছি না। তার জন্য সরকার রয়েছে। সরকার জানে কেন তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়নি। যারা এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ওনারাই তো কোটি কোটি টাকা খরচ করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারে, যেমনটা অন্যান্য দেশে নির্মিত হয়েছে।

সাঈদুর রহমান মানিক (নির্মাতা): বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা এ দেশে আসার আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নামটাও রেডিও-টেলিভিশনে উচ্চারণ করা হতো না। অর্থাৎ জনগণ থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শক্তি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে আজ ৪১ বছর হলো। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৬ বছর। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল খুব কম সময়। আজকের প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখন হয়তো এ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জানবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে।
আর দ্বিতীয় কথা হলো- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা দুঃসাহসিক বিষয়। সামান্য ভুলত্রুটি হলে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়তে হবে। ভারতে অমিতাভ বচ্চনকে দিয়ে একটা সিনেমা নির্মাণ করার কথা ছিল। যেখানে তার বঙ্গবন্ধুর চরিত্র রূপায়ণের কথা ছিল। পরে তা বাদ দিতে হয়েছিল। বর্তমান প্রজন্ম নিয়ে আমি আশাবাদী। আমি সর্বশেষ একটা সিনেমা নির্মাণ করতে চাই, আর তা হলো- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে।

মুশফিকুর রহমান গুলজার (নির্মাতা): জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করার মতো সাহস এখন পর্যন্ত কেউ করেননি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এত বড় একটা প্রজেক্ট ব্যক্তি উদ্যোগে নেওয়া সম্ভব নয়। যেমন মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে চলচ্চিত্র কোনো ব্যক্তি নয়, সরকার নির্মাণ করেছে। আমাদের এখানে তথ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা করছে। আমি নিজেও এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। এটা নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমতি প্রয়োজন। এ ধরনের অনুমতি নিয়ে কেউ এখনো আসেননি। সূত্র : রাইজিংবিডি ও ইন্টারনেট

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: