সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৩৬ বছরে একদিনও ছুটি নেননি যে শিক্ষক!

full_857152226_1471245969নিউজ ডেস্ক : পুরো চাকরিজীবনই ছুটিবিহীন কাটিয়েছেন এক শিক্ষক। ৩৬ বছর ধরেই তিনি ছুটি না নিয়েই শিক্ষকতা করছেন। গণিত-বিজ্ঞানের এই শিক্ষকের নাম স্বপন কুমার চক্রবর্তী। আর মাত্র চার মাস পরে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাবেন।

তিনি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তিনি উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।

নিজে ডাক্তার হতে পারেননি বলে আক্ষেপ নেই। নিজের হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বড় প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তা। মানুষ গড়ার কারিগরের নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে উজাড় করার গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে।

উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় থেকেই তিনি এই স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা শুরু করেন। এইচএসসি পাস করার পর ১৯৭৯ সালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। মেডিক্যাল কলেজ থেকে বাড়ি এলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই মিঞা তাকে স্কুলে আসার জন্য খবর দেন। হাই স্যার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘স্বপন, তুই স্কুল থেকে চলে গেলে আমার স্কুলটা অচল হয়ে যাবে। শীতের দেশ রংপুরে তোর ডাক্তারি পড়ার দরকার নাই।’ স্যারের কথা তিনি উপেক্ষা না করে ডাক্তারি পড়া ছেড়ে শিক্ষকতায় ফিরে এলেন। তাছাড়া, বাবা শিবনাথ চক্রবর্তীও চাইতেন ছেলে শিক্ষকতা করুক।

৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এক দিনও প্রাপ্য নৈমিত্তিক ছুটি কাটাননি তিনি। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও নির্দিষ্ট ছুটির দিন বাদে রোজ স্কুলে গেছেন তিনি। বাবার মৃত্যু, স্ত্রীর অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ- কোনো কিছুই তাকে আটকে রাখতে পারেনি।

বাবা শিবনাথ চক্রবর্তী মারা যান ১৯৯৬ সালের ২১ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে। দিনটা ছিল শুক্রবার। বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পরদিন শনিবার সময়মতো স্কুলে হাজির হন স্বপন চক্রবর্তী।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম সন্তানের জন্ম হয় বাড়িতে। ছেলে হওয়ার খবর শুনে মনে সে কী আনন্দ! ইচ্ছে হচ্ছিল তখনই ছুটে যাই। কিন্তু স্কুল তো খোলা। তাই ছুটির পর গিয়ে দেখে আসি ফুটফুটে ছেলেটাকে।’

মহম্মদপুর উপজেলা সদরে আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪০ সালে। ১৯৮১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান লাভ করে এই স্কুলেরই ছাত্র আকবর রেজাউল হায়দার।

স্ত্রী রেখা চক্রবর্তী ও তিন ছেলে নিয়ে স্বপন চক্রবর্তীর সংসার। তিন ছেলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্বপন কুমার চক্রবর্তী এ জনপদের আলোর দিশারি। নিজের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে বিদ্যালয়ে টানা সময় দিচ্ছেন। ৩৬ বছরের বেশি চাকরিজীবনে এক দিনও ছুটি নেননি তিনি। তার এই ত্যাগ অনুসরণযোগ্য।’

কথা হয় তার স্ত্রী রেখা চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সময়মতো তিনি স্কুলে গিয়ে হাজির হন। রান্না একটু দেরি হলে, না খেয়েই চলে যান। কখনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার দরকার হলে বন্ধের দিন যান। লোকে যখন তার প্রশংসা করে তখন আমারও গর্ব হয়।’

স্বপন চক্রবর্তী বলেন, ‘৩৬ বছরে ৭২০ দিন আমার প্রাপ্য ছুটি নিইনি। এই ৭২০ দিন শিক্ষার্থীদের বেশি পড়াতে পেরেছি। আমরা যদি অযথা ছুটি না নিয়ে কাজ করি, তবে দেশ এগিয়ে যাবে। কী পেলাম, কী পেলাম না, তার হিসাব কখনো করিনি।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: