সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উত্তরাঞ্চলের নববধুরা একমাস দেখবেন না স্বামীর মুখ!

150214_1নিউজ ডেস্ক: আবহমান বাংলার চিরায়ত উৎসব ‘ভাদর কাটানী’ স্বামীর মঙ্গল কামনায় নববধূরা বাংলা ভাদ্র মাসে তাদের স্বামীর মুখ দেখবে না।

সোমবার ৩১ শ্রাবণ সন্ধ্যা হতে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলায় শুরু হচ্ছে ‘ভাদর কাটানী’ উৎসব। তাই তারা স্বামীর বাড়ী থেকে ৩১ শ্রাবণ সুর্য ডোবার পুর্ব হতে ১ আশ্বিন সকাল পর্যন্ত পুরো মাসের জন্য বাবার বাড়ীতে নাইওর যায়।
গত বছরের বাংলা আশ্বিন মাস হতে এ বছরের শ্রাবন মাস পর্যন্ত এ অঞ্চলে যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের নিয়ে এ আয়োজন।

এ অঞ্চলে বিশ্বাস রয়েছে যে, ‘বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী জীবনের প্রথম ভাদ্র মাসের কোথাও তিন দিন, কোনো এলাকায় সাত দিন আবার কোথাও পুরো মাস স্বামী স্ত্রীর মুখ দেখলে স্বামীর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে, অমঙ্গল হবে, ঝগড়া বিবাদসহ তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হবে না।’

এমন বিশ্বাস থেকে পুরো উত্তরাঞ্চল জুড়ে শ্রাবণ মাসের শেষ দিন নববধূরা পুরো ভাদ্র মাসের জন্য মা বাবার বাড়ীতে নাইওর যায়। ভাদ্র মাসকে স্থানীয়ভাবে ভাদর মাস বলায় এ আয়োজনকে ভাদর কাটানী বলা হয়।

এ উৎসব পালনে এ এলাকার সদ্য বিবাহিতাদের বাবার বাড়ীতে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। থাকে নানা আয়োজনের। নববধূরা যে কয়দিন বাবার বাড়ীতে থাকবে ততদিন সামর্থ্য অনুযায়ী চলে ভাল মন্দ খাওয়ানোর ব্যাবস্থা।

প্রচলিত এ প্রথাটি যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে চলে আসছে। তবে কবে থেকে চলে আসছে তার কোনো সঠিক তথ্য নেই। কবে থেকে কিভাবে এ প্রথার শুরু হয়েছে তার সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না।

তবুও যুগ যুগ ধরে কাল হতে কালান্তর চলে আসছে এ উৎসব। এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষেরা এ উৎসব পালনে বাড়ীর হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল বিক্রি করেই ক্ষান্ত হয়না। অনেকে টাকা পয়সা ধার দেনা করে কেউবা এনজিও থেকেও কর্জ করে থাকে।

নববধূকে আনতে তার ভাই, বোন, চাচা, চাচী, বন্ধু, বান্ধবী, প্রতিবেশীরা যায় বরের বাড়ীতে। সাথে থাকে সামর্থ্য অনুযায়ী মুড়ি, পায়েশ বিভিন্ন রকমারী ফল ও মিষ্টি মন্ডা।

এ সময় এ অঞ্চলে তেমন কোনো কাজ কর্ম না থাকায় কেউ ভাদ্র মাসের আগের দিন আবার সামর্থবানেরা কয়েকদিন বাকী থাকতেই যায় বরের বাড়ীতে। বর পক্ষ সাধ্যমত তাদের আপ্যায়িত করে থাকে। মাস শেষে বর পক্ষ কনেকে আনতে যায়।

তারাও তাদের সাধ্যে মত নিয়ে যায় মুড়ি, পায়েশ বিভিন্ন রকমারী ফল ও মিষ্টি মন্ডা। বয়োবৃদ্ধ, তরুন, তরুনী সহ স্থানীয়রা জানায়, শত শত বছর ধরে এ লোকাচার তারা দেখে আসছে এবং নিজেরাও পালন করে আসছে।

এ উৎসবটি উত্তরাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে। কেউ কেউ এটাকে কুসংস্কার বললেও রীতি নীতির স্রোতে তারাও আর দশ জনের মত নিয়ম মত এ আচারটি পালন করছে।

ভারত হতে আসা এ দেশে বসবাসকারীরা জানান, ভারতের হিন্দু মুসলিম প্রতিটি পরিবারে এ ভাদর কাটানী উৎসব বেশ ঘটা করে পালিত হয়। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ইসলামী ব্যাক্তিত্ব স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনের আলোচক অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান জানান, এটা হিন্দু সংস্কৃতির একটি অংশ।

ভাদর কাটানী বলে কোনো উৎসবের অস্তিত্ব ইসলামে নেই বা ইসলাম কোনোভাবে সমর্থন করেনা। অপরদিকে সংস্কৃতি কর্মীদের মতে, ভাদর কাটানী হলো বাঙ্গালী সমাজের অতি প্রাচীন একটি প্রথা। এটি লোকাচার হলেও ভাদর কাটানী উৎসব সমাজ ও সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।

যা নব-বিবাহিত প্রত্যেকের জীবনে মাত্র একবারেই আসে। এ অঞ্চলের স্থানীয় বিভিন্ন গবেষকদের মতে, নীলফামারী সহ উত্তরাঞ্চলে এক সময় প্রচুর পরিমানে হিন্দু সম্প্রাদায় বাস করত। তাদের জাকজমকের সহিত পালিত একটি রেওয়াজকে ক্রমানুসারে এ এলাকার মানুষকে আকৃষ্ট বা প্রভাবিত করেছে। কালের আবর্তে তা এক সময় হিন্দু মুসলিম জাতিভেদকে পিছনে ফেলে এ অঞ্চলের সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

হিন্দু সংস্কৃতি ও আচার থেকে ভাদর কাটানী উৎসবের জন্ম হলেও বর্তমানে এ উৎসব সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে এ অঞ্চলের মানুষের মনে স্থায়ী ঠাই করে নিয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: