সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তানজিনা স্বামীকে বলতেন- ‘এ সন্তান তোমার নয়, এ সন্তান জ্বীনের’

full_305992714_1471174542নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তর বাসাবো এলাকায় নিজ বাসায় দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী তানজিনা আক্তারকে শনিবার ভোরে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাতে মাশরাফি ইবনে মাহবুব ওরফে আবরার (৭) ও মেয়ে হুমায়রা বিনতে মাহবুব ওরফে তাকিয়ার (৬) লাশ উদ্ধার করার পর থেকে পালিয়ে ছিলেন তানজিন।

জানা গেছে, শিশু দুটিকে ‘এসো আমরা জবাই জবাই খেলি’—এ কথা বলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে খেলার ছলে জবাই করেছেন মা তানজিনা রহমান! পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এমনটিই দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে বিলাপ করে বলেন, ‘বাচ্চাদের মেরে ফেললাম! কী ভুল করে ফেললাম!’

দুই শিশুর বাবা মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল তানজিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ আদালতের নির্দেশে তানজিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মামলার এজাহারে মাহবুব অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী চাপাতি দিয়ে গলা কেটে দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন। এজাহারে মাহবুব তার স্ত্রীর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি। তবে গতকাল তিনি বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ভালোই ছিলেন।

তবে তার স্ত্রী চার-পাঁচ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মানসিক হতাশা থেকে দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন কি না এ বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। কেন তার স্ত্রী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তা এখনো তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানজিনা জানিয়েছেন, প্রায়ই তিনি তার স্বামীকে বলতেন, ‘এ সন্তান (আবরার ও হুমায়রা) তোমার নয়, এ সন্তান জ্বীনের। আমি জ্বীনের সাথে মেলামেশা করি। তাদের সাথে মেলামেশা করার পর এদের জন্ম হয়েছে।’ ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, তানজিন জানিয়েছেন, কে যেন তার কানে ফিসফিস করে বলত, ‘তুমি এদের হত্যা করে ফেলো।’ তানজিনের এমন সমস্যা থাকায় তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার জন্য বহু চেষ্টাও করেছেন মাহবুবুর রহমান।

একটি সূত্রে জানা যায়, তানজিনের বাবা মৃত সালামত উল্লাহ জুজুতান্ত্রিক ছিলেন। ‘জ্বীন ছাড়ানো’, ‘জ্বীন বশে আনা’র বিষয়ে তার ব্যাপক নামডাকও ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও জোনের সহকারী কশিনার ওবায়দুর রহমান বলেন, “তানজিনা প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে কারণ বোঝা যাচ্ছে না। তানজিনাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হচ্ছে। তিনি জ্বীনের কথা বলেন। ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছেন। শুধু হাউমাউ করে কাঁদছেন আর বলছেন, ‘কী ভুল করে ফেললাম!’ এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা কঠিন।”

সবুজবাগ থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, ‘তানজিনাকে এখন থানায়ই রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশমতো তাকে হাসপাতালেও নেওয়া হতে পারে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি কেন এই হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: