সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘হিমুকে বলতে পারবো বাবা তোর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে’

BG-1-ctg-himu-mother20160814184338নিউজ ডেস্ক: পঞ্চাশেরও অধিক চার বাই ছয় ইঞ্চির ছবি।কোনটাতে হাফ প্যান্ট পরা বছর তিনের হিমাদ্রি মজুমদার হিমু খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে দাঁড়ানো, আবার কোনটাতে আত্মীয়ের বিয়েতে হাস্যজ্বোল, চুলগুলো উড়ছে।

চোখে জল।পরম মমতায় চল্লিশোর্ধ্ব মানুষটির হাত দুটি ঘুরছে সেই ছবিগুলোতে। প্রতিটি ছবির বর্ণনা দিচ্ছেন এক এক করে। তিনি গোপা মজুমদার। নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হিমাদ্রি মজুমদার হিমুর মা।

মায়ের স্পষ্ট বর্ণনা দেখে কে বলবে ছেলে তার চার বছর ধরে কেবলই ছবি !

এর মধ্যেই গোপা মজুমদারের কাছে ফোনটা আসলো। ছেলে হত্যার মামলার রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।এবার শান্ত পায়ে হেঁটে গেলেন ছেলের ওই বড় ছবিটার কাছে।ড্রইয়রুমের দেয়ালে বড় ফ্রেমে বন্দি হাস্যেজ্বল হিমু যেনো তাকিয়ে আছেন মায়ের দিকেই! সেটার সামনে দাড়িয়ে মা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরতে চাইলেন, মুখে কপালে চুমু খেয়ে যাচ্ছেন সমানে।

আর বলে যাচ্ছেন একটা কথা, ‘‘বাবা তোকে তো বাঁচাতে পারিনি। কিন্তু তোকে তো অন্তত বলতে পারবো বাবা তোর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে।’’

হেমসেন লেইনের একটু ভেতরে গেলেই পাঁচতলা বাড়িটি।বাড়ির বাইরের জীবন চলছে তার ছন্দে।এলাকার মানুষেরা যে যার মতো ব্যস্ত। একটা-দুটো গাড়িও আসছে-যাচ্ছে আগের মতোই। শুধু ভবনের একদম উপরের ফ্লাটটার পরিবেশটা রোববার বিকেলেও খুব ভারি। চারবছর ধরে তো এভাবেই আছে।

গোপা মজুমদার বলেন, ‘ছেলে হত্যার বিচার পাবো কিনা তা নিয়ে ভয়ে ছিলাম, শংকিত ছিলাম।শেষ পর্যন্ত অনেক বাধা বিপত্তির পর বিচার পেলাম।আমি রায়ে সন্তুষ্ট।এটার মাধ্যমে দেশে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তা প্রমাণিত হয়েছে। হিমুর মা হিসেবে আমার চাওয়া রায়টা যেনো দ্রুত কার্যকর করা হয়।রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এটা আমার আবেদন থাকবে। আসামিদের যে দুজন বাইরে আছে তাদের যেনো দ্রুত দেশে নিয়ে আইনের মুখোমুখি করা হয়।’

কথা বলার এক ফাঁকে গোপা মজুমদার নিয়ে গেলেন হিমুর সেই কক্ষে।বেঁচে থাকার আগ পর্যন্ত প্রায় রাতে এই কক্ষেই ঘুমাতেন হিমু।সেই কক্ষের দক্ষিণ কোণে হিমুর পছন্দের গানের সিডিগুলো একটার ওপর একটা ভাজ করে রাখা আছে।চার তাকের একটা ক্যাবিনেটে পর পর রাখা বই-খাতা। এর ফাঁকে কয়েকটি পদকও। একেবারে উপরে গিটারটা। সব যার যার জায়গায় পড়ে আছে।শুধু এসব জিনিস তাদের মালিকের হাতের ছোয়া পায় না আজ চার বছর।তবে একজনের হাত খুঁজে ফিরে এদের নিয়মিত।তিনি গোপা মজুমদার প্রতিদিন ছেলের স্মৃতিচিহ্ন পরিস্কার করেন।ধুলোবালিতে না স্মৃতিগুলো নষ্ট না হয়ে যায়?

পাশের খাঠটা দেখিয়ে গোপা মজুমদার বলেন, ‘‘আমি এখন এখানেই থাকি। আমার ছেলেকে (হিমু) জড়িয়ে ধরে ঘুমাই।’’

এতগুলো শোক আর হাহাকারের মাঝে মা গোপা মজুমদার হিমু চলে যাবার আগের দিনের স্মৃতিটি আজও খুব মনে আছে।

গোপা মজুমদার বলেন, মারা যাবার আগের দিন বারবার হিমু চিকিৎসকদের বলেছিলেন সেভ মি, সেভ মাই মাদার।আরও একটা কথা বলেছিলো আমার হাত ধরে।বলেছিলো মা আমি তো কোনো অন্যায় করিনি, তুমি ওদের (আসামি) বলোনা তারা কেনো আমাকে মেরেছে।’

গোপা মজুমদার বলেন, হিমুর বয়স যখন সাত মাস, তখন বাসায় ডাকাত ঢুকেছিল।হিমুর মাথায় ওরা পিস্তল ধরেছিলো।আমি আমার বাড়ির সব জিনিস দিয়ে ছেলেকে সেদিন বাঁচিয়েছিলাম। কিন্তু ওদের (কুকুর লেলিয়ে হত্যাকারীদের) হাত থেকে আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।

হিমুর মা বলতে থাকেন-একদিন স্কুল থেকে হিমুকে নিয়ে রিকশা করে ফিরছিলাম।আমি পথ থেকে তাকে আইসক্রিম কিনে দিয়েছিলাম।সে আইসক্রিম খাওয়ার জন্য প্যাকেট ছিড়ছে এমন সময় দেখলো রিকশা চালক গামছা দিয়ে তার মাথার ঘাম মুছছেন।আমার হিমু সেটা দেখে আর আইসক্রিম খেলো না। রিকশাচালককে অনেক বলে আইসক্রিমটা খাওয়াইছিলো সে।’

‘আমার এমন নিষ্পাপ ছেলেকে যারা এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করলো তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।’

গোপা মজুমদারের শেষ চাওয়া এখন এটিই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: