সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘সন্তানদের লাশ ঘরে রেখে নিজের বাসা খুঁজছিলেন তানজিনা’

full_1072760412_1471157082নিউজ ডেস্ক : দুই সন্তানের রক্তাক্ত লাশ ঘরের ভেতরে রেখে রাতভর উত্তর বাসাবোর বিভিন্ন অলিগলিতে নিজের বাসা খুঁজেছেন নিহত দুই শিশুর মা তানজিনা রহমান। উত্তর বাসাবোর মসজিদ গলিতে থাকা টহল পুলিশের কাছে ছয়তলা ভবনের ঠিকানা জানতে চাইলে পুলিশ তাকে আটক করে সবুজবাগ থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও তার কথায় অনেক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুপুরে বাসায় ছোটভাই আসায় ভালো খাবার রান্না করেছিলেন তানজিনা। তার স্বামী, সন্তান ও ছোটভাইসহ সবাই সে খাবার খায়। এরপর রাতে ঘটেছে দুই শিশু হত্যার এই ঘটনা। সবুজবাগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তর বাসাবোর ১৫৭/২ নম্বর ছয়তলা ভবনের চিলেকোঠায় দুই ভাই-বোনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দুই শিশু হলো- হুমায়রা বিনতে মাহবুব তাকিয়া (৬) ও মাশরাফি ইবনে মাহবুব আবরার (৭)।

এ ঘটনায় শনিবার ভোরে সবুজবাগ থানায় নিহত শিশুদের বাবা মা তানজিনা রহমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, নিহত দুই শিশুর বাবা মাহবুবুর রহমান এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা একমাত্র আসামি শিশুদের মা তানজিনা রহমান। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।

তানজিনা রহমানকে গ্রেফতারের বিষয়ে ওসি বলেন, ঘটনা জানার পরপরই আমরা পুরো এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে দেই। টহল পুলিশ বৃদ্ধি করে লাশ উদ্ধার করি। রাতভর আমরা আলামত সংগ্রহ, লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাই।

ওসি বলেন, ঘটনার পর থেকেই নিহত শিশুদের মা নিখোঁজ ছিলেন। আমরা তাকে খুঁজছিলাম। রাত সাড়ে ৪টা বা ৫টার দিকে সবুজবাগের মসজিদ গলিতে তিনি হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় আমাদের টহল পুলিশ তাকে জেরা করে। তিনি কোথায় যাবেন জানতে চাইলে, তানজিনা বলেন, ‘বাসাবোর সাততলা (চিলেকোঠাসহ) ভবন খুঁজতেছি।’ এসময় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশও তাকে বলে, আমরাও সাততলার মানুষ খুঁজতেছি। এরপর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

শনিবার সকালে তাকে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় তানজিনা প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয় স্বীকার করলেও পুলিশ এবিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও কথা বলতে চায়নি।

তবে সবুজবাগ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, সকাল থেকে তানজিনা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন। তার ভেতরে কোনও অনুতাপ নেই। সন্তানদের মৃত্যুর বিষয়ে তার কাছে পুলিশ বারবার জানতে চাইলে তিনি জ্বিন, গায়েবি নির্দেশনা এসব কথা বলছিলেন। এখন কেউ তাকে কিছু করতে পারবে না বলেও পুলিশকে বলেন তিনি।

ওসি বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বলা যাবে।

এদিকে, বাড়িওয়ালা আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের কখনও মনে হয়নি এধরনের ঘটনা তানজিনা ঘটাতে পারেন। তাকে দেখলে এরকম মনে হয় না। কেউ বিশ্বাসও করবেন না। ঘটনার সময় আমি ও আমার স্ত্রী কেউ বাসায় ছিলাম না।’

নিহত শিশুদের ফুফু লাইলা নূর বলেন, নিহত শিশুদের বাবা মাহবুব রহমান দুপুরে কোরবানির বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমরা তিন ভাই-বোন সবসময় এক সঙ্গে কোরবানি দিয়ে থাকি। তখন তিনি বলেছিলেন, তারা সবাই ভালো আছেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমার ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান ফোনে জানায়, তাকিয়া ও আবরার আর বেঁচে নেই। তারপর আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে এখানে ছুটে আসি।

প্রতিবেশী আরিফুর রহমান বলেন, আমরা পাশাপাশি থাকি। কখনও তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। কেন যে এমন করলো, তাও তো বুঝতে পারছি না!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: