সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি নেই : বিছনাকান্দিতে দুবছরে পানিতে ডুবে ৪ পর্যটকের মৃত্যু

Dailysylhetnewspic_maruf14augনিজস্ব প্রতিবেদক ::

প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের সিলেটে নিয়ে আসতে বাধ্য করে যেসকল দর্শনীয় স্থান তার মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্র অন্যতম।
প্রতিদিন হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক ভিড় করেন বিছনাকান্দি নামের এই পর্যটনকেন্দ্রটিতে। যত সময় যাচ্ছে পর্যটকের আনা-গুনা বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। মাধবকুণ্ড, জাফলং-এর পানিতে ডুবে মৃত্যুর সাথে গত বছর থেকে যোগ হয়েছে বিছনাকান্দি। দু বছরে এখানে ৪ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

bisnakandi1অনাকাঙ্ক্ষিত এই সকল মৃত্যু ঘটছে অসাবধানতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে । এখানে পর্যটকদের সতর্কীকরণের জন্য নেই কোন নোটিশ। নেই সচেতনতা তৈরীতে কোন বিলবোর্ড বা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। এবং কোথাও জনসচেতনতামূলক একটি সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনা। পর্যটন পুলিশেরও দেখা মেলে না এমন অভিযোগ অনেকের। এর ফলে পর্যটকরা নদীতে সাঁতার কাটতে গেলে প্রায়ই ঘটে প্রাণহানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অকালেই নিভে যায় অনেকের জীবনপ্রদীপ। এর ফলে ক্রমশই মৃত্যুর খবরে মলিন হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দির মুখ। সম্প্রতি এই পর্যটন কেন্দ্র বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর দুই ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে নতুন আলোচনা জন্ম দেয়।

গত ১১ আগস্ট বিছনাকান্দিতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, রাজশাহী সদরের সেচপারা এলাকার মাহবুবুর রহমানের পুত্র ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মশিউর রহমান সিয়াম (২৪), ও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় জামালপুর এলাকার নুরুল ইসলামের পুত্র এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সাঈদ বিন নকিব (২৪)।

গত ২২ জুলাই সিলেটের বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রে পানিতে ডুবে আনজুম আজিজ বাপ্পি (২৫) নামক এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর সোবহানিঘাটের সিলেট টাইলসের কর্ণধার আব্দুল আজিজের পুত্র।

bisnakandi3এর আগে ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট বিছনাকান্দি নদীতে নৌকা ডুবে সাজেদুল হক নামের এক পর্যটকের সলিল সমাধি হয়। নিহত সাজেদুল হক (২৬) নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ফজলুল হকের পুত্র। তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পর্যটকরা জানান উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি পর্যটন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যটকদের সতর্কীকরণের জন্য নোটিশ বোর্ড, বিল বোর্ড বা সাইনবোর্ড লাগানোর পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ নিয়োগ করেন, তাহলে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সতর্ক হবেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হার অনেকটা কমে আসবে।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন জানান, পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন সময় সাইন বোর্ড, বিলবোর্ড সাটানোসহ নানা উদ্যোগ নিলেও আসলে তা কেউ আমলে নেয় না। পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবির সদস্যরা নিয়োজিত আছেন। পর্যটকরা তাদের নিষেধ অমান্য করে সাঁতার কাটতে কিংবা গোসল করতে নদীতে নামেন। অনেকে আবার সাঁতার জানা না থাকার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত এসকল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়ে আসছি আশা করি পর্যটকসহ অন্যরা আরো বেশি সচেতন হবেন।

bisnakandi2

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: