সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাসিনা-মোদির বৈঠকে যা গুরুত্ব পাবে

Hasinaনিউজ ডেস্ক : ভারতের গোয়ায় ১৬ অক্টোবর দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনমিক কোঅপারেশন (বিমস্টেক) সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনায় দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উন্নয়ণকে এগিয়ে নেয়ার কৌশল নির্ধারিত হবে।

এ প্রসঙ্গে শনিবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়,
দু’দেশেরই সমস্যা সন্ত্রাস। উন্নয়নের ধারায় রাশ টানতে চাইছে জঙ্গিরা। নাশকতায় নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রবণতা। সন্ত্রাসীদের শেকড় ছিঁড়তে ব্যস্ত বাংলাদেশ। তাড়া খেয়ে জঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গ-অসম দিয়ে ঢুকছে ভারতে। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত। আর এক সীমান্তে মায়ানমার। সম্মেলনে মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ণে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানই ‘বিমস্টেক’ এর লক্ষ্য। সন্ত্রাসী ছায়ায় উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব।
পাকিস্তান ভারতের শান্তি নষ্ট করছে বলে মনে করে ভারত। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে উল্লেখ করে আনন্দবাজার লিখে। ৪ আগস্ট ইসলামাবাদে সার্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তিনি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসে আস্কারা দিয়ে ভারতের শান্তি নষ্ট করছে পাকিস্তান। সেটা বন্ধ না হলে সার্কের কার্যক্রম পথভ্রষ্ট হবে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বৈঠকে থাকলে ভাল হত। পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতেও বাংলাদেশের হাতে অভিযোগ ভূরিভূরি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক পলকা সুতোয় ঝুলছে। যে কোনও মুহুর্তে ছিঁড়তে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে আটক জঙ্গি মুসার সঙ্গে ১ জুলাই ঢাকার গুলশনে জঙ্গি হামলার যোগ পাওয়া গেছে। তার কাছে বাংলাদেশের অনেক জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান পাওয়া গেছে। জেএমবি নেতা সালেহান ১২ জঙ্গি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-আসাম সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের খোঁজ চলছে। অভিযুক্ত জঙ্গি সুলেমান উত্তর ভারতে গা ঢাকা দিয়েছে এরকম রিপোর্ট দিয়েছে এনআইএ। যে সব জঙ্গিরা অ্যাকশনে নামছে তাদের বোধবুদ্ধি বেশি । নেপথ্যের পরিচালকরাই ভয়ঙ্কর। সব হামলার পেছনে অদৃশ্য শক্তি তারাই। নিজেরা গোপনে থাকে। প্রকাশ্যে এলেও চেনা যায় না। প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যক্তিত্বের তকমা তাদের গায়ে লাগানো। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে যায় তারা। যথার্থ প্রমাণেই তাদের ধরা হবে। ভারত যেন এ ব্যাপারে তৎপর থাকে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অনেকটা অঞ্চলই অরক্ষিত। কাঁটা তারের বেড়া নেই। জমি সমস্যায় কাজটা আটকে আছে। জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা চলছে। দু’দেশের সীমান্তে পাহারা দেওয়ায় অসুবিধা রয়েছে। রাতের অন্ধকারে জঙ্গি অনুপ্রবেশের সুযোগ থাকছে। জঙ্গিরা ধরা পরার আশঙ্কায় যাতায়াতে স্থলবন্দর ব্যবহার করে না। বৈধ পাশপোর্ট ভিসাও তাদের নেই। নদী-বন-জঙ্গলের দুর্গম পথ পেরিয়ে সীমানা ঘেরা দুই দেশ। জঙ্গিদের অস্ত্রশস্ত্র আমদানির রাস্তাও বদলেছে। আকাশ, জল, স্থল পথে সরাসরি অস্ত্র আসছে না। অস্ত্র কিনছে অনলাইনে। ভারি নয়, হালকা অস্ত্র। আকারেও ছোট। এমনভাবে প্যাক করা হচ্ছে স্ক্যানারেও ধরা পড়ছে না। প্রেরক আর গ্রাহক কোড ব্যবহার করে কাজ সারছে। যে ঠিকানায় অস্ত্র যাচ্ছে, অস্ত্র হাতে আসতেই আস্তানা বদল।
সন্ত্রাস নির্মূল করার পর দু’দেশের নজর উন্নয়নে। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। হাসিনা-মোদি বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক অসম্পাদিত চুক্তি দ্রুত সম্পাদন নিয়ে কথা হবে। বাংলাদেশের আখাউড়া থেকে ত্রিপুরার আগরতলা, ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে জমি সমস্যা মিটিয়ে ফেলার ব্যবস্থা হয়েছে, তা দু’দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা ও বাণিজ্যিক বাড়ানোর স্বার্থেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আলোচনা আরো ফলপ্রসু হবে বলে আশা করা যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: